একজিমার চিকিৎসা কি?
2 Answers
একজিমা সাধারণত একটি চর্মরোগ, যার ফলে ত্বক শুস্ক হয়, চুলকায়, আঁশটে এবং লালচে হয় | খোঁচানোর ফলে ত্বক পুরু হয় ও কখনো কখনো উঠে যায় | এর ফলে ত্বক জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয়ে ত্বক থেকে চুয়ে চুয়ে পানি পড়ে এবং দেখতে ব্রণ আক্রান্ত বলে মনে হয় | এর আর একটি নাম অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিস | অনেকে ডারমাটাইটিস এবং একজিমাকে একইসঙ্গে শ্রেণীবিন্যাস করে থাকেন | তবে একজিমা অবশ্যই এক ধরনের ডারমাটাইটিস কিন্তু সব ডারমাটাইটিসই একজিমা নয় | অনেকে আবার সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ধরন এটপিক (atopic) ডারমাটাইটিসকেই একজিমা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেন | একজিমা কয়েক প্রকারের হয়ে থাকে, যেমন: এটোপিক একজিমা (Atopic Eczema):- শরীরের যেসব স্থানে ভাঁজ পড়ে যেমন-হাঁটুর পিছনে, কুনইয়ের সামনে, বুকে, মুখে এবং ঘাড়ে সেসব স্থান এটোপিক একজিমা দ্বারা আক্রান্ত হয় | এলার্জিক কনট্যাক্ট একজিমা (Allergic Contact Eczema):- কোন পদার্থ বা বস্তু (Substances) থেকে যখন একজিমা দেখা দেয় | শরীরের যে অংশে এলার্জি হয় সেখানে লালচে দানা দেখা যায় | কিন্তু এটা শরীরের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে যেতে পারে | ইরিট্যান্ট কনট্যাক্ট একজিমা (Irritant Contact Eczema) :- এটি এলার্জিক একজিমার মতই এবং সাধারণত ডিটারজেন্ট অথবা পরিষ্কার করার জন্য ব্যবহৃত দ্রব্যের ঘনঘন ব্যবহারের মাধ্যমে এই একজিমা দেখা দেয় | মোটামুটি ভাবে ১০ থেকে ২০ শতাংশ বাচ্চার একজিমা হয় | প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এই হার ১-৩ % | ৯০% ক্ষেত্রে একজিমা হয় ৫ বছরের আগে | খুব কম ক্ষেত্রেই প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে একজিমা দেখা দেয় এ নিয়ে প্রভূত গবেষণা চলছে | কিন্তু ঠিক কারণটি এখনও জানা যায়নি | একেবারে নির্মূল সম্ভব নয়, তাই আক্রান্তকে স্বাভাবিক জীবনযাপনে সাহায্য এবং রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখাই চিকিৎসার মূল উদ্দেশ্য | ‘দ্য অমেরিকান একাডেমি অফ ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান’ প্রদত্ত একজিমা প্রতিরোধে করার উপায়- ১) ক্ষারযুক্ত সাবান, ডিটারজেন্ট, গ্যাসোলিন থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকুন | ২) সিনথেটিক এবং উলের কাপড় এড়িয়ে চলুন | ৩) গরম পানি দিয়ে গোসল করা থেকে বিরত থাকুন | ৪) গোসলের পরপরই শরীরে ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করুন |
একজিমা হলো ত্বকের এমন একটি অবস্থা যেখানে ত্বকে প্রদাহের সৃষ্টি হয়। এটি বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। **একজিমা হওয়ার কারণগুলো হলো : ১.রাসায়নিক দ্রব্য, ডিটারজেন্ট, সাবান অথবা শ্যাম্পু থেকে সংক্রমণ ২.এলার্জি হয় এমন বস্তু থেকে যেমন- পরাগ রেণু (Pollen), ঘরবাড়ির ধুলা, পশুপাখির পশম, উল ইত্যাদি থেকে ৩.হরমোন পরিবর্তন, বিশেষ করে মাসিকের সময় এবং গর্ভাবস্থায় ৪.অতিরিক্ত গরম বা অতিরিক্ত ঠাণ্ডা ও স্যাঁতসেঁতে ভেজা আবহাওয়া **একেক ধরনের একজিমার লক্ষণ একেক রকম হয়। সাধারণত একজিমার লক্ষণ ও উপসর্গগুলো হলো : ১.লালচে, প্রদাহযুক্ত ত্বক ২.শুষ্ক, খসখসে (Cracked) ত্বক ৩.ত্বকে চুলকানি ৪.হাত ও পায়ের ত্বকের মধ্যে ছোট ছোট পানির ফুসকুড়ি ৫.ত্বকে সংক্রমণ হলে ত্বক ভেজা ভেজা হয় এবং পুঁজ বের হতে পারে ৬.ত্বকের যে সমস্ত জায়গা বারবার চুলকানো হয় সেগুলো পুরু হওয়া **চিকিৎসা করাতে যেতে পারেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্স, জেলা সদর হাসপাতাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে। **ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন ও লাগাতে হবে। যেমন- এন্টিবায়োটিক সেবন, এন্টিহিস্টামিন (Antihistamine) সেবন, স্টেরয়েড ক্রিম ব্যবহার, হরমোন জাতীয় ওষুধ সেবন (Oral Steroid)।