কিছু দিন ধরে আমার বাম হাতের পাঁচটি আঙ্গুলে একজিমার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। চিকিৎসা করলেও তেমন কোন উল্লেখ যোগ্য ফলাফল পাচ্ছিনা। একেবারে নির্মূল হচ্ছেনা। একটু কমে গিয়ে বার বার হচ্ছে। কি চিকিৎসা নিলে রোগ সম্পূর্ণরুপে সেরে যাবে? কারো জানা থাকলে জানাবেন প্লিজ!
3429 views

2 Answers

একজিমা সাধারণত একটি চর্মরোগ, যার ফলে ত্বক শুস্ক হয়, চুলকায়, আঁশটে এবং লালচে হয় | খোঁচানোর ফলে ত্বক পুরু হয় ও কখনো কখনো উঠে যায় | এর ফলে ত্বক জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয়ে ত্বক থেকে চুয়ে চুয়ে পানি পড়ে এবং দেখতে ব্রণ আক্রান্ত বলে মনে হয় | এর আর একটি নাম অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিস | অনেকে ডারমাটাইটিস এবং একজিমাকে একইসঙ্গে শ্রেণীবিন্যাস করে থাকেন | তবে একজিমা অবশ্যই এক ধরনের ডারমাটাইটিস কিন্তু সব ডারমাটাইটিসই একজিমা নয় | অনেকে আবার সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ধরন এটপিক (atopic) ডারমাটাইটিসকেই একজিমা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেন | একজিমা কয়েক প্রকারের হয়ে থাকে, যেমন: এটোপিক একজিমা (Atopic Eczema):- শরীরের যেসব স্থানে ভাঁজ পড়ে যেমন-হাঁটুর পিছনে, কুনইয়ের সামনে, বুকে, মুখে এবং ঘাড়ে সেসব স্থান এটোপিক একজিমা দ্বারা আক্রান্ত হয় | এলার্জিক কনট্যাক্ট একজিমা (Allergic Contact Eczema):- কোন পদার্থ বা বস্তু (Substances) থেকে যখন একজিমা দেখা দেয় | শরীরের যে অংশে এলার্জি হয় সেখানে লালচে দানা দেখা যায় | কিন্তু এটা শরীরের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে যেতে পারে | ইরিট্যান্ট কনট্যাক্ট একজিমা (Irritant Contact Eczema) :- এটি এলার্জিক একজিমার মতই এবং সাধারণত ডিটারজেন্ট অথবা পরিষ্কার করার জন্য ব্যবহৃত দ্রব্যের ঘনঘন ব্যবহারের মাধ্যমে এই একজিমা দেখা দেয় | মোটামুটি ভাবে ১০ থেকে ২০ শতাংশ বাচ্চার একজিমা হয় | প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এই হার ১-৩ % | ৯০% ক্ষেত্রে একজিমা হয় ৫ বছরের আগে | খুব কম ক্ষেত্রেই প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে একজিমা দেখা দেয় এ নিয়ে প্রভূত গবেষণা চলছে | কিন্তু ঠিক কারণটি এখনও জানা যায়নি | একেবারে নির্মূল সম্ভব নয়, তাই আক্রান্তকে স্বাভাবিক জীবনযাপনে সাহায্য এবং রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখাই চিকিৎসার মূল উদ্দেশ্য | ‘দ্য অমেরিকান একাডেমি অফ ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান’ প্রদত্ত একজিমা প্রতিরোধে করার উপায়- ১) ক্ষারযুক্ত সাবান, ডিটারজেন্ট, গ্যাসোলিন থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকুন | ২) সিনথেটিক এবং উলের কাপড় এড়িয়ে চলুন | ৩) গরম পানি দিয়ে গোসল করা থেকে বিরত থাকুন | ৪) গোসলের পরপরই শরীরে ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করুন |

3429 views

একজিমা হলো ত্বকের এমন একটি অবস্থা যেখানে ত্বকে প্রদাহের সৃষ্টি হয়। এটি বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। **একজিমা হওয়ার কারণগুলো হলো : ১.রাসায়নিক দ্রব্য, ডিটারজেন্ট, সাবান অথবা শ্যাম্পু থেকে সংক্রমণ ২.এলার্জি হয় এমন বস্তু থেকে যেমন- পরাগ রেণু (Pollen), ঘরবাড়ির ধুলা, পশুপাখির পশম, উল ইত্যাদি থেকে ৩.হরমোন পরিবর্তন, বিশেষ করে মাসিকের সময় এবং গর্ভাবস্থায় ৪.অতিরিক্ত গরম বা অতিরিক্ত ঠাণ্ডা ও স্যাঁতসেঁতে ভেজা আবহাওয়া **একেক ধরনের একজিমার লক্ষণ একেক রকম হয়। সাধারণত একজিমার লক্ষণ ও উপসর্গগুলো হলো : ১.লালচে, প্রদাহযুক্ত ত্বক ২.শুষ্ক, খসখসে (Cracked) ত্বক ৩.ত্বকে চুলকানি ৪.হাত ও পায়ের ত্বকের মধ্যে ছোট ছোট পানির ফুসকুড়ি ৫.ত্বকে সংক্রমণ হলে ত্বক ভেজা ভেজা হয় এবং পুঁজ বের হতে পারে ৬.ত্বকের যে সমস্ত জায়গা বারবার চুলকানো হয় সেগুলো পুরু হওয়া **চিকিৎসা করাতে যেতে পারেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্স, জেলা সদর হাসপাতাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে। **ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন ও লাগাতে হবে। যেমন- এন্টিবায়োটিক সেবন, এন্টিহিস্টামিন (Antihistamine) সেবন, স্টেরয়েড ক্রিম ব্যবহার, হরমোন জাতীয় ওষুধ সেবন (Oral Steroid)।

3429 views

Related Questions