1 Answers
ক্যান্সারটি ঠিক কোন পর্যায়ে আছে তার উপর এর চিকিৎসা ব্যবস্থা নির্ভর করে। প্রাথমিক পর্যায়ে এই ক্যান্সার সনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার মাধ্যমে ক্যান্সার নিয়ন্ত্রন করে রোগীর জীবনকাল বাড়ানো সম্ভব। ক্যান্সার পরিণত পর্যায়ে চলে গেলে সেক্ষেত্রে চিকিৎসার মাধ্যমে শুধুমাত্র ক্যান্সারের পুনরাবৃত্তি রোধ করে জীবনযাত্রার মান উন্নত করা সম্ভব। রোগীর শারীরিক অবস্থার উপর নির্ভর করে একাধিক বা সম্মিলিত চিকিৎসা ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়। ১. সার্জারিঃ সার্জারির মাধ্যমে টিউমার এবং এর সংলগ্ন লসিকা গ্রন্থি অপসারন করা হয়। ক্যান্সার প্রথমিক পর্যায়ে থাকতে সার্জারির মাধ্যমে অনেক ভাল ফল পাওয়া যায়। সঠিক রোগ নির্ণয় পদ্ধতির মাধ্যমে ক্যান্সার কোন পর্যায়ে আছে তা সঠিকভাবে নির্ণয় করা গেলে কার্যকর চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়। স্টেজ ১ এর রোগীদের ক্ষেত্রে সার্জারির পর অতিরিক্ত ৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ৮০%-৯০% পর্যন্ত থাকে। অন্যদিকে যারা পরিণত পর্যায়ে অর্থাৎ স্টেজ ৩ বা ৪ এ তাদের ক্ষেত্রে সার্জারির পর অতিরিক্ত ৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ১৫%। ২.রেডিওথেরাপিঃ এটি সার্জারির পূর্বে টিউমারের সাইজ কমিয়ে আনার জন্য এবং সার্জারির পর অবশিষ্ট ক্যান্সাস কোষকে ধ্বংস করার জন্য দেওয়া হয়।রোগী যদি সার্জারি করার মত অবস্থায় না থাকে সেক্ষেত্রে সার্জারির বিকল্প হিসেবেও রেডিওথেরাপি দেওয়া হয়। ৩. কেমোথেরাপিঃ ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করার জন্য অনেকসময় রেডিও থেরাপি এবং কেমোথেরাপি একসাথে দেওয়া হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটি ক্যান্সারকে নির্মূল করতে পারলেও অতিরিক্ত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে শরীরে বিরুপ প্রভাব ফেলে। ইন্টারভেনশনাল কেমোথেরাপিঃ এটি একপ্রকার কেমোথেরাপি যা প্রচলিত কেমোথেরাপি পদ্ধতি থেকে ভিন্ন এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও অনেক কম। এটি সাধারণত মধ্য ও পরিণত পর্যায়ের ক্যান্সার রোগীদের জন্য দেওয়া হয়। ৪. ফটোডায়নামিক ট্রিটমেন্ট ঃ সাম্প্রতিক সময়ে নতুন ফটোসেনসিটাইজার ও এন্ডওস্কোপ টেকনোলজি ফটোডায়নামিক থেরাপিকে আরও উন্নত করেছে এবং প্রথম সারির থেরাপিগুলোর পর এটি সবচেয়ে বেশী ব্যবহৃত হয়। ৫. টি. সি.এম. থেরাপিঃ বহু বছরের গবেষণায় দেখা গেছে টি.সি.এম. বা ট্র্যাডিশনাল চাইনিজ মেডিসিন মানুষের শরীরকে আরও বলবৎ করে এবং শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখার মাধ্যমে ক্যান্সার চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।এছাড়াও এটি অ্যান্টি-ক্যান্সার হিসেবেও কাজ করে। ওয়েস্টার্ন মেডিসিন এর সাথে চাইনিজ মেডিসিন এর ব্যবহার চিকিৎসা কে আরও কার্যকর করে তোলে। এছাড়াও রেডিও থেরাপি এবং কেমোথেরাপির পর শরীরে জমে থাকা ক্ষতিকর পদার্থ দূরীকরণেও এটি সাহায্য করে। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও বাড়িয়ে দেয় ফলে রোগীর জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy