ইসলাম অনুযায়ি কাউকে তালাক দেয়ার সঠিক নিয়ম কি,যেটি ছারা তালাক সম্পুর্ণ হবে না।
2616 views

1 Answers

তালাক দেয়ার শরীয়া পদ্ধতি তালাক ইসলামে একটি অপছন্দনীয় জায়েজ বিষয়। আল্লাহর নবী বলেন-“ইসলামে নিকৃষ্ট হালাল বস্তু হল তালাক” (আল হাদীস)। তালাকের বিধান একদম না থাকলে নারীরা বা পুরুষেরা জুলুমের শিকার হত, এই হিকমতে তা বৈধ রাখা হয়েছে। এটার অপপ্রয়োগ করার জন্য নয়। তালাক দেবার ইসলামী পদ্ধতি সকল পাঠককে মনযোগ সহকারে পড়ার জন্য অনুরোধ করছি। স্বাভাবিকভাবে আমরা জানি তালাক মানুষ রাগের মাথায় দেয়। রাগ উঠলে ইসলামের বিধান হল-হাটা অবস্থায় রাগ উঠলে দাঁড়িয়ে যাও। তারপরও রাগ না কমলে বসে পড়। বসার পরও রাগ না কমলে শুয়ে পড়। শুয়ে পড়লেও রাগ না কমলে অযু কর। অযু করার পরও রাগ না কমলে গোসল কর। তারপরও রাগ না কমলে দু’রাকাত নফল নামায পড়। এর পরও যদি রাগ না কমে তবে বুঝতে হবে তার রাগ করাটা যথার্থ। অযথা বা ঝুঁকের মাথায় তার মেজাজ বিগড়ে যায়নি। স্ত্রীর উপর রাগ করলে উপরোক্ত কাজগুলি করার পরও যদি মনে হয় স্ত্রীরই দোষ, তখন স্ত্রীকে শান্তভাবে বুঝাবে যে, এই ক্ষেত্রে তোমার ভুল হয়েছে, যদি তুমি না শুধরাও তাহলেতো আমরা একসাথে থাকতে পারবোনা, তারপরও যদি স্ত্রী না শুধরায়, তাহলে ইসলামের বিধান হল, বিষয়টি স্ত্রীর অভিভাবকদের জানিয়ে পারিবারিকভাবে তা সমাধানের চেষ্টা করবে। এরপরও যদি স্বামীর সাথে ঝগড়া হয়, তাহলে ইসলামের বিধান হল-স্ত্রীর বিছানা আলাদা করে দিবে, অর্থাৎ স্বামী এক স্থানে ঘুমাবে আর স্ত্রী অন্য স্থানে এক বাড়িতেই। যেন উভয়ের প্রতি বিচ্ছেদের যাতনা অনূভুত হয়। এরকম করার পরও যদি স্বামীর সাথে বনিবনা না হয়, তাহলে স্ত্রীর উপর যে স্বামী অসন্তুষ্ট একথা বুঝানোর জন্য স্ত্রীর গায়ে মৃদু আঘাত করবে। (মৃদু আঘাত করার বিধান হল-চেহারায় আঘাত করতে পারবেনা, মাথায় আঘাত করতে পারবেনা, শরীরের কোথায় দাগ হতে পারবেনা। স্পষ্ট দেখা যায় এমন কোথাও আঘাত করতে পারবেনা। বেত দিয়ে আঘাত করতে পারবেনা। পাঠক চিন্তা করুন-এটা কী মূলত শারীরিক আঘাত উদ্দেশ্য না মানসিক আঘাত? অবশ্যই মানসিক আঘাত উদ্দেশ্য, অর্থাৎ স্ত্রীকে একথা বুঝানো যে, আমি তোমার উপর চূড়ান্ত পর্যায়ের অসন্তুষ্ট।) এরপরও যদি স্ত্রীর সাথে মিল না হয়, তাহলে ইসলামের বিধান হল-স্ত্রীকে এক তালাক দিবে, তিন তালাক নয়। যেন স্ত্রীর ইদ্দত শেষ হবার আগে যদি উভয়ের মাঝে বনিবনা হয়ে যায় তাহলে স্ত্রীকে বিনা বাধায় ফিরিয়ে আনতে পারে। আর যদি বনিবনা না হয় তাহলে স্ত্রী এক তালাকে বাইন হয়ে যাবে। স্বামীর সাথে ঘর করতে পারবেনা। এক তালাকে বাইন পতিত হবার পর যদি কখনো স্বামীর সাথে একত্রিত হবার ইচ্ছে হয় তাহলে তারা উভয়ে পুনরায় মোহর ধার্য করে দু’জন স্বাক্ষ্য রেখে বিয়ে করলে আবার তারা স্বামী স্ত্রী হিসেবে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবে। এক তালাকের পর (বাইন বা রেজয়ী) আবার যদি স্বামী স্ত্রীর মাঝে সমস্যা হয়, তাহলে পূর্বে বর্ণিত সবক’টি স্টেপ পেড়িয়ে এসে (অর্থাৎ প্রথমে রাগ দমন, তারপর বুঝানো, তারপর পারিবারিক মিমাংসা, তারপর বিছানা আলাদা ইত্যাদী) দ্বিতীয় তালাক দেবার অধিকার স্বামীকে দেয় ইসলাম। দ্বিতীয় তালাকের পর প্রথম তালাকের মত ইদ্দতের মাঝে স্ত্রীকে কোন শর্ত ছাড়াই ফিরিয়ে আনতে পারবে। আর ইদ্দত শেষ হয়ে গেলে প্রথম তালাকের মত তৃতীয়বার বিয়ে করে ফিরিয়ে আনতে পারবে। দুই তালাকের পর যদি আবার সমস্যা দাঁড়ায়, তাহলে আবার সেই পূর্বের স্টেপগুলি পেড়িয়ে যখন শেষ প্রান্তে এসে উপনিত হবে ইসলাম তখন স্বামীকে তৃতীয় তালাক দেবার অধিকার দেয়। আগে নয়। বিজ্ঞ পাঠকের কাছে আমার জিজ্ঞাসা-এতগুলি স্টেপ পেড়িয়ে কেউ যদি তৃতীয় তালাক দেয় তাহলে ঐ স্ত্রীর সাথে সংসার করা কী কারো পক্ষে সম্ভব? নিরপেক্ষভাবে বললে নিশ্চয় বলবেন সম্ভব নয়। এই তৃতীয় তালাক দেবার পর ইসলামের বিধান হল-এই স্ত্রী এই স্বামীর জন্য চিরদিনের জন্য হারাম হয়ে গেছে। এখন এই দু’জন আবার বিয়ে করলেও তা কার্যকর হবেনা।

2616 views

Related Questions