3 Answers
তাহাজ্জুদ সালাত ১) তাহাজ্জুদে উঠে দোয়া রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন, ‘যখন তোমাদের কেউ রাত্রে জাগ্রত হয় ও নিম্নের দোআ পাঠ করে এবং আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করে, তা কবুল করা হয়। আর যদি সে ওযূ করে এবং ছালাত আদায় করে, সেই ছালাত কবুল করা হয়’। উচ্চারণ : লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্দাহু লা শারীকা লাহু; লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর। সুবহা-নাল্লা-হি ওয়াল হামদু লিল্লা-হি ওয়ালা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াল্লা-হু আকবার; ওয়ালা হাওলা ওয়ালা ক্বুউওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ। অতঃপর বলবে, ‘রবিবগফির্লী’ (প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা কর)। অথবা অন্য প্রার্থনা করবে। অনুবাদ : আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই। তাঁর জন্যই সকল রাজত্ব ও তাঁর জন্যই সকল প্রশংসা এবং তিনিই সকল কিছুর উপরে ক্ষমতাশালী। মহা পবিত্র আল্লাহ। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। আল্লাহ সবার চেয়ে বড়। নেই কোন ক্ষমতা নেই কোন শক্তি আল্লাহ ব্যতীত’। বুখারী, মিশকাত হা/১২১৩ ‘রাত্রিতে উঠে তাহাজ্জুদে কি বলবে,অনুচ্ছেদ-৩২ এছাড়া অন্যান্য দো‘আও পড়তেন। মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/১১৯৫; আবুদাঊদ, মিশকাত হা/১২০০, ‘রাত্রির ছালাত’ অনুচ্ছেদ-৩১ স্ত্রী মায়মূনা (রাঃ)-এর ঘরে তাহাজ্জুদের ছালাতে উঠে আকাশের দিকে তাকিয়ে তিনি সূরা আলে ইমরানের ১৯০ আয়াত থেকে সূরার শেষ অর্থাৎ ২০০ আয়াত পর্যন্ত পাঠ করেন’ (বু: মু:)। একবার সফরে রাতে ঘুম থেকে উঠে আকাশের দিকে তাকিয়ে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সূরা আলে ইমরান ১৯১-৯৪ আয়াত পাঠ করেছেন (নাসাঈ)। একবার তিনি (গুরুত্ব বিবেচনা করে) সূরা মায়েদাহ ১১৮ আয়াতটি দিয়ে পুরা তাহাজ্জুদের ছালাত শেষ করেন’ (নাসাঈ)। মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/১১৯৫; নাসাঈ, মিশকাত হা/১২০৯; নাসাঈ, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/১২০৫, ‘রাত্রির ছালাত’ অনুচ্ছেদ-৩১; আহমাদ হা/২১৩৬৬; মির‘আত ৪/১৯১ ২) তাহাজ্জুদের ছালাতে রাসূল (ছাঃ) বিভিন্ন ‘ছানা’ পড়েছেন। মুসলিম, আবুদাঊদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/১২১২, ১৪, ১৭; নাসাঈ হা/১৬১৭ ইত্যাদি তন্মধ্য হ’তে যে কোন ‘ছানা’ পড়া চলে। তবে আব্দুল্লাহ ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) রাতে যখন তাহাজ্জুদে দাঁড়াতেন, তখন তাকবীরে তাহরীমার পর নিম্নের দো‘আটি পড়তেন- উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা লাকাল হামদু আনতা ক্বাইয়িমুস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরযি ওয়া মান ফীহিন্না, ওয়ালাকাল হামদু আনতা নূরুস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরযি ওয়া মান ফীহিন্না, ওয়ালাকাল হামদু আনতা মালিকুস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরযি ওয়া মান ফীহিন্না; ওয়া লাকাল হামদু, আনতাল হাক্কু, ওয়া ওয়া‘দুকা হাক্কুন, ওয়া লিক্বা-উকা হাক্কুন, ওয়া ক্বাওলুকা হাক্কুন; ওয়া ‘আযা-বুল ক্বাবরে হাক্কুন, ওয়াল জান্নাতু হাক্কুন, ওয়ান্না-রু হাক্কুন; ওয়ান নাবিইয়ূনা হাক্কুন, ওয়া মুহাম্মাদুন হাক্কুন, ওয়াস সা-‘আতু হাক্কুন। আল্লা-হুম্মা লাকা আসলামতু ওয়া বিকা আ-মানতু, ওয়া ‘আলাইকা তাওয়াক্কালতু, ওয়া ইলাইকা আনাবতু, ওয়া বিকা খা-ছামতু, ওয়া ইলাইকা হা-কামতু, ফাগফিরলী মা ক্বাদ্দামতু ওয়া মা আখ্খারতু, ওয়া মা আসরারতু ওয়া মা আ‘লানতু, ওয়া মা আনতা আ‘লামু বিহী মিন্নী; আনতাল মুক্বাদ্দিমু ওয়া আনতাল মুওয়াখখিরু, লা ইলা-হা ইল্লা আনতা, ওয়া লা ইলা-হা গাইরুকা। অর্থঃ ‘হে আল্লাহ! তোমার জন্য যাবতীয় প্রশংসা, তুমি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল এবং এ সবের মধ্যে যা কিছু আছে সবকিছুর ধারক। তোমারই জন্য সমস্ত প্রশংসা, তুমি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল এবং এ সবের মধ্যে যা কিছু আছে সবকিছুর জ্যোতি। তোমারই জন্য সমস্ত প্রশংসা, তুমি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল এবং এ সবের মধ্যে যা আছে সবকিছুর বাদশাহ। তোমারই জন্য সমস্ত প্রশংসা, তুমিই সত্য, তোমার ওয়াদা সত্য, তোমার সাক্ষাত লাভ সত্য, তোমার বাণী সত্য, কবর আযাব সত্য, জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য, নবীগণ সত্য, মুহাম্মাদ সত্য এবং ক্বিয়ামত সত্য। হে আল্লাহ! আমি তোমারই নিকট আত্মসমর্পণ করি, তোমারই উপর ভরসা করি ও তোমার দিকেই প্রত্যাবর্তন করি। আমি তোমার জন্যই ঝগড়া করি এবং তোমার কাছেই ফায়ছালা পেশ করি। অতএব তুমি আমার পূর্বাপর, গোপন ও প্রকাশ্য সকল অপরাধ ক্ষমা কর। তুমি অগ্র ও পশ্চাতের মালিক। তুমি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই এবং তুমি ব্যতীত কোন মা‘বূদ নেই। আবুদাঊদ হা/৭৭২; ছহীহ ইবনু খুযায়মা হা/১১৫১-৫২; বুখারী হা/৬৩১৭; মুসলিম হা/১৮০৮; মিশকাত -আলবানী, হা/১২১১ ‘রাত্রিতে উঠে তাহাজ্জুদে কি বলবে’ অনুচ্ছেদ-৩২; মির‘আত হা/১২১৮ ৩) তাহাজ্জুদসহ যেকোন নফল সালাতে সেজদায় যেয়ে কিংবা সাধারন ভাবে হাত তুলে দোয়া করার সময়ও মহান আল্লাহর গুনারলীর সাথে মিল রেখে দোয়া করতে হবে। ফরজ,সুন্নত, ওয়াজিব কিংবা বিতির নামাজে সেজদায় যেয়ে কিছু বলা, সঠিক নয়। ৪) মহান আল্লাহর ৯৯ নামঃ প্রশংসামূলক আল বাসীর-সর্বদ্রষ্ঠা, আল কাইয়ুম –অবিনশ্বর, আল বিতর –অযুগ্ন একক, আল আহাদ- একক, আল আওয়াল-আদি, আল আ-খির-অন্ত, যুল জালা-লি অল ইকরা-ম – মহিমময় ও মহানুভব আল আ’লা- মহামহীয়ান, আল ইলাহ্- উপাস্য, আল বা-রী-উদ্ভাবক, আল বা-ত্বীন – গুপ্ত, আল জামিল-সুন্দর, আল হাকীম-প্রজ্ঞাময়, আল হামিদ – প্রশংসিত , আল হাইয়্যু – চিরন্জীব , আল হায়িয়্যু- লজ্জাশীল , আল খা-লিক – স্রষ্টা , আল খাবীর – পরিজ্ঞাতা, আল খাল্লা-কু –মহাস্রষ্টা, আস সুব্বুহ – নিরন্জন , আস সামী –সর্বশ্রোতা, আস সাইয়িদ –প্রভু , আশ শাকুর –গুনগ্রাহী , আস শহীদ –প্রত্যক্ষদর্শী , আত ত্বাইয়িব –পবিত্র , আল আ-লিম –জ্ঞাতা , আল আযিম-সুমহান, আল আলিম –সর্বজ্ঞ , আল আলিয়্যু –সুউচ্চ , আল কুদ্দুস – অতি পবিত্র , আল ক্বারীব – নিকটবর্তী , আল কাবীর –সুমহান , আল করীম –সম্মানিত , আল হাক্ক- সত্য, আল হালিম- সহিষ্নু , আল হামিদ –প্রশংসিত , আস সালা-ম –শান্তি, মুতাআ-লী –সবোর্চ্চ মর্যাদাবান, মা-লিকুল মূল্ক্ –সার্বভৌম ও সারা রাজ্যের রাজা আল গানিয়্যু –অমুখাপেক্ষী , আল ওয়া-হিদ – অদ্বিতীয় , আল ওয়াসি- সর্বব্যাপী , আহসানুল খা-লীকিন – সু-নিপুন স্রষ্টা বিপদের রক্ষাকর্তা আল হা-ফিজ –রক্ষনাবেক্ষনকারী, আস সামাদ –ভরসাস্থল, আল মুমিন –নিরাপত্তাবিধায়ক , আল মওলা –প্রভু সাহায্যকারী,আস সাইয়িদ –প্রভু , আন নাসির –সহায় , আল ওয়াকিল –কর্মবিধায়ক , আল অলিয়্যু –বন্ধু, অভিভাবক , আল হা-ফিজ –রক্ষাকর্তা, দয়ামূলক আর রহীম –দয়াবান , আর রহমা-ন – পরম করুনাময় , আল গাফ্ফা-র – মার্জনাকারী, আল গফুর –ক্ষমাশীল , আল মান্না-ন- পরম অনুগ্রহশীল , আরহামুর রা-হিমীন – শ্রেষ্ঠ দয়ালু , আল বার্র – কৃপানিধি,আর রউফ – অতি দয়ার্দ্র , আল মুজিব – প্রার্থনা মন্জুরকারী, আল ওয়াদুদ –প্রেমময়, আল জাওয়া-দ – অতি দানশীল ন্যায়-বিচারক আল হাকাম -বিচারক, আল ফাত্তা-হ –বিচারক শ্রেষ্ঠ , আহকামুল হা-কেমীন – শ্রেষ্ঠ বিচারক , আল হাসিব –ন্যায় বিচারক রিযিকদাতা খাইরুর রা-যিকীন –শ্রেষ্ঠ জীবিকাদাতা, আর রাজ্জা-ক –মহা-রিজিকদাতা, আল আকরাম –দৃষ্টান্তহীন দানশীল, আল বা-সিত্ব –জীবিকা সম্প্রসারনকারী , আল জাওয়াদ – অতি দানশীল, আল মুকিত –রিযিকদাতা , আল ওয়াহা-ব –মহাদাতা , শক্তিমান আল জাব্বা-র –প্রবল শক্তিমান, আয যাহির –অপরাভূত , আল আযিয –পরাক্রমশালী , আল কা-দির –শক্তিমান ,আল কা-হির –পরাক্রমশালী , আল কাহা-র –প্রতাপশালী , আল মতিন- পরাক্রান্ত , আল মুকতাদির – সর্ব শক্তিমান , আল ওয়া-রিস –চূড়ান্ত মালিকানার অধিকারী, আল কাবিয়্যু –প্রবল ক্ষমতাবান , আল-ওয়া-সি’ –সর্বব্যাপী প্রাচুর্যময়, তওবা করার জন্য আত তাউওয়া-ব – তওবাগ্রহনকারী কোন কিছু গোপন থাকার জন্য আল বা-তিন – গোপন কারী, আস সিত্তির –অতি গোপনকারী , আল লতিফ-সুক্ষদর্শী , অসুস্থতার জন্য আস শা-ফি –আরোগ্যদাতা , অন্যান্য আর রফিক- সংগী, আস শা-কির –পুরস্কারদাতা, আল মুবিন –স্পষ্ট,প্রকাশক, আল মুহাইমিন – সাক্ষী , আল কা-বিজ-জীবিকা সংকোচনকারী, জা-মিউন্না-স -মানব জাতিকে সমবেতকারী ৫) নিজের ভাল আমলঃ নিজের ভাল আমলের কথা বলে দুয়া করা, যেমন আল্লাহ আমি হালার উপার্জনের উপর চলি কিংবা আমি নামাজী ইত্যাদি। ৬) কেবলা-মুখীঃ যদিও এটা বাধ্যতামূলক নয় কিন্তু কার্যকর।গুরুত্বপূর্ন হলে দুয়াকে ৩ বার করে বলা।মহানবী(সঃ) কুরাইশদের উপর বদ্দোয়া করার সময় ৩ বার করে বলেছিলেন।মুখ বরাবর হাত-তোলা প্রয়োজন,তবে এটা সব ক্ষেত্রে নয়।মহান আল্লাহ খালি হাত ফিরিয়ে দিতে লজ্জা পান।দোয়া শেষে মুখে হাত বুলানো বিদআত । ৭) আগের নিজের জন্য দোয়াঃ কারো জন্য দুয়া করতে হলেও আগে নিজের জন্য চাইতে হবে। ৮) ছোট জিনিস নিয়ে চিন্তা না করাঃ যেমন জান্নাত চাইলে, ‘জান্নাতুল ফেরদৌসের’ জন্য দোয়া করা। ৯) তাহাজ্জুদ/নফল সালাতে সিজদায় যেয়েঃ ফরয,ওয়াযিব,সুন্নত ও বিতর নামাজে, সাধারন নিয়মের বাহিরে, নিজ থেকে কোন দোয়া করা কিংবা সিজদায় যেয়ে কোন কথা বলার নিয়ম নেই। তাহাজ্জুদ/নফল সালাতে সিজদায় যেয়ে কোন কুরআনী দোয়া পড়া যাবে না। তাহাজ্জুদের নামাজ কিংবা নফল নামাজে সিজদায় তওবা/দোয়া করা যায়।কমপক্ষে ৪ রাকাত তাহাজ্জুদের নামাজের সর্বশেষ সিজদায় যেয়ে প্রথমে ………. ক) মহান আল্লাহর প্রশংসা করাঃ তওবা/দোয়া প্রথম শর্ত, আল্লাহর প্রশংসা করা। মহান আল্লাহর প্রশংসা করার জন্য, আল্লাহর ৯৯ নাম থেকে আল বাসীর-সর্বদ্রষ্ঠা, আল কাইয়ুম –অবিনশ্বর, আল বিতর –অযুগ্ন একক, আল আহাদ- একক, আল আওয়াল-আদি, আল আখির-অন্ত,আল কুদ্দুস= পবিত্র ইত্যাদি ধরনের গুনাবলীর সাথে আপনার ভাষায় আল্লাহর প্রশংসা করুন। খ) শুকরিয়া প্রকাশঃ তারপরেই মহান আল্লাহ যতটুকু দিয়েছেন,সুস্থ রেখেছেন, আপনাকে মানুষ হিসাবে পৃথিবীতে পাঠায়েছেন, সেটার কৃতজ্ঞতা ও শুকরিয়া আদায় করতে হবে।শুধুমাত্র মুখে শুকরিয়ার কথা বললেই হবেনা। বাস্তব জীবনে ও অন্তরে আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলার মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা ও শুকরিয়া প্রকাশ করতে হবে। শুকরিয়া/ কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমে আল্লাহ অত্যন্ত খুশী হন। গ) তওবা করাঃ মহান আল্লাহর আর- রহমান, আর-রহিম, আল গফুর, আল গাফ্ফার ইত্যাদি দয়ামূলক নামগুলো বলে, নিজের গুনাহর কথা স্বীকার করা ও ‘আস্তাফেরুল্লাহ’ বলে তওবা করা । একই লক্ষ্যে ‘সাইয়েদুল ইস্তেফার’ পড়ুন।চোখের পানি ফেলার মাধ্যমে এটাকে সফল করুন। মহান আল্লাহর ‘‘আত তাউওয়াব’ গুনাবলীটি উল্লেখ করুন। এটার অর্থ তওবা গ্রহনকারী। ঘ) নিজের বক্তব্য বলুনঃ তাহাজ্জুদ/নফল সালাতে জান্নাতের জন্য রহমান,রহিম,গফুর,গাফ্ফার ইত্যাদি, কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আল জাব্বা-র –প্রবল শক্তিমান, আয যাহির –অপরাভূত , আল আযিয –পরাক্রমশালী , আল কা-দির –শক্তিমান ,আল কা-হির –পরাক্রমশালী ইত্যাদি, অসুস্থতার ব্যাপার হলে আস সাফি, রহমান, রহিম ইত্যাদি, সন্তানদের জন্য দোয়া করার আগে রহমান,রহিম ইত্যাদি, ন্যায় বিচার প্রার্থী হলে আল হাকাম,আল ফাত্তাহ ইত্যাদি বলে বক্তব্য দিন।বিচার সংক্রান্ত ব্যাপারে মহান আল্রাহর দরবারে আপনিই যদি অপরাধী হন,তাহলে আপনার বিচার শুরু হয়ে যাবে,যদিও আপনি সেটা বুঝতে পারবেন না। ঙ) নামাজ শেষ করাঃ সিজদা থেকে উঠে, তাশাহহুদ, দরুদ(দরুদে ইব্রাহিম) পাঠ করে সালাম ফিরায়ে, নামাজ শেষ করুন।
শরিয়তের পরিভাষায় রাত দ্বিপ্রহরের পর ঘুম থেকে জেগে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যে নামাজ আদায় করা হয় তা-ই ‘সালাতুত তাহাজ্জুদ’ বা তাহাজ্জুদ নামাজ। আর এই নফল নামাজকে মহানবী (সা.) শ্রেষ্ঠ নফল ইবাদত হিসেবে অ্যাখ্যায়িত করেছেন।
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হওয়ার আগে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর তাহাজ্জুদ নামাজ বাধ্যতামূলক ছিল। তাই তিনি জীবনে কখনো তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া থেকে বিরত হননি। তবে উম্মতে মুহাম্মদির জন্য এটা সুন্নাতে গায়রে মুয়াক্কাদা অর্থাৎ এ নামাজ আদায় করলে অশেষ পুণ্য লাভ করা যায়, কিন্তু আদায় করতে না পারলে কোনো গুনাহ হবে না। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিয়তের সঙ্গে সওয়াবের আশায় মাহে রমজানের রোজা পালন করে, তার বিগত জীবনের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। আর যে ব্যক্তি ইমান ও সওয়াবের আশায় মাহে রমজানের রাতে কিয়াম করে, তার বিগত দিনের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। যে ব্যক্তি ইমান ও সওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদরে কিয়াম বা রাত জেগে ইবাদত করে, তার বিগত জীবনের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।’ (বুখারি ও মুসলিম)
রমজান মাস ও অন্যান্য সময় তাহাজ্জুদ নামাজ রাত দ্বিপ্রহরের পরে পড়তে হয়। মধ্যরাতে যখন লোকেরা গভীর নিদ্রায় আচ্ছন্ন, তখন রোজাদার মুমিন বান্দা ঘুম থেকে জেগে ইবাদত-বন্দেগি করেন এবং সুবহে সাদিকের আগ পর্যন্ত তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করেন। সুবহে সাদিক হয়ে গেলে এ নামাজ আর পড়া যায় না। যদি রাত দ্বিপ্রহরের পর নিদ্রা থেকে জাগ্রত হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে, তাহলে এশার নামাজের পর এবং বিতরের আগে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করতে হয়। অবশ্য তাহাজ্জুদ নামাজ রাত দ্বিপ্রহরের আগে পড়লে সওয়াব কম পাওয়া যায়। রাতের শেষাংশে পড়লে সওয়াব বেশি পাওয়া যায়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) তাহাজ্জুদ নামাজ কখনো ৪ রাকাত, কখনো ৮ রাকাত এবং কখনো ১২ রাকাত পড়েছিলেন। তাই রোজাদার ব্যক্তির তাহাজ্জুদ নামাজ কমপক্ষে ৪ রাকাত আদায় করা উচিত। কিন্তু যদি কেউ এ নামাজ ২ রাকাত আদায় করেন, তাহলেও তাঁর তাহাজ্জুদ আদায় হবে। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি এশার পর দুই বা ততোধিক রাকাত নামাজ পড়ে নেয়, সে হবে তাহাজ্জুদের ফজিলতের অধিকারী।’
রমজান মাসে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়কালে পবিত্র কোরআনের আয়াত খুব বেশি তিলাওয়াত করা উত্তম। যদি দীর্ঘ সূরা মুখস্থ থাকে, তাহলে তাহাজ্জুদ নামাজে দীর্ঘ সূরা তিলাওয়াত করা উত্তম। ১২ রাকাত তাহাজ্জুদ নামাজের প্রথম রাকাতে সূরা আল-ইখলাস ১২ বার, দ্বিতীয় রাকাতে ১১ বার, তৃতীয় রাকাতে ১০ বার, চতুর্থ রাকাতে ৯ বার অনুসারে দ্বাদশ রাকাতে একবার পড়তে হয়। আবার প্রত্যেক রাকাতে সূরা আল-ইখলাস ৩ বার অথবা ১ বার হিসেবেও পড়া যায়। আবার সূরা আল-মুয্যাম্মিল, আয়াতুল কুরসি এবং সূরা আল-ইনশিরাহও পড়া যায়।
মাহে রমজানে দিবাভাগে পানাহার বর্জন করে রোজা পালনের পর গভীর রাতে নিদ্রাসুখ ত্যাগ করে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়ের গুরুত্ব ও ফজিলত রয়েছে। তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত সব নফল ইবাদত অপেক্ষা অধিক এবং এটি আল্লাহর কাছে অতি প্রিয়। এ জন্য আল্লাহ তাআলা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর এ নামাজ ফরজ করে দিয়েছিলেন। রোজাদার ব্যক্তি যদি তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন, আল্লাহ তার পাপরাশি মার্জনা করে দেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমার প্রভু প্রত্যেক রাতের শেষাংশে নিকটতম আসমানে অবতরণ করেন এবং বলতে থাকেন, যে কেউ আমার কাছে প্রার্থনা করবে, আমি তা কবুল করব, যে কেউ কিছু প্রার্থনা করবে, আমি তা প্রদান করব, যে কেউ আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আমি তাকে ক্ষমা করব।’ (বুখারি ও মুসলিম)
রমজান মাসে রাত জাগরণ করে যাঁরা তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করেন এবং অপরকে এ ব্যাপারে উৎসাহিত করেন, তাঁরা আল্লাহর অপার রহমতের মধ্যে বিচরণ করেন। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ ওই ব্যক্তির ওপর রহমত নাজিল করেন, যিনি রাতে নিদ্রা থেকে জেগে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করেন এবং তাঁর স্ত্রীকে নিদ্রা থেকে জাগিয়ে দেন। অতঃপর তিনি (তাঁর স্ত্রী) তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করেন। এমনকি যদি তিনি (স্ত্রী) ঘুম থেকে জাগ্রত হতে না চান, তাহলে তাঁর মুখে পানি ছিটিয়ে দেন।’ (আবু দাউদ ও নাসাঈ) রোজাদার তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়কারী ব্যক্তি অধিক সম্মানের অধিকারী হন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুসলমানদের মধ্যে আল কোরআনে অভিজ্ঞ ও তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়কারী ব্যক্তি সম্মানের অধিকারী হবেন।’ (বায়হাকি)
তাহাজ্জুদ নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা যায়। এ জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) কখনো বিনা ওজরে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া ছাড়তেন না। সাহাবিগণও রমজান মাসে নিয়মিত তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করতেন। অথচ রোজার মাসে ঐচ্ছিক ইবাদতের দরজা খোলা থাকা সত্ত্বেও বহু মিথ্যাবাদী ও পরনিন্দাকারী রোজাদার রাত জেগে তারাবি ও তাহাজ্জুদ গুজারের ভাগ্যে ক্ষুধা, পিপাসা এবং রাত জাগরণ ছাড়া আর কিছুই জোটে না। রমজান মাসে যেহেতু শেষ রাতে সেহির খাওয়ার জন্য জাগতেই হয়, আর সেহির খাওয়ার আগ পর্যন্ত শেষ রাত একান্ত দোয়া কবুলের সময়; তাই একটু আগেভাগে উঠে সেহিরর আগে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায়ের ও সওয়াব প্রাপ্তির সুবর্ণ সুযোগের সদ্ব্যবহার করা উচিত।
জবাব:
এক. তাহাজ্জুদ নফল-শ্রেণীর নামায। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَمِنَ ٱلَّيۡلِ فَتَهَجَّدۡ بِهِۦ نَافِلَةٗ لَّكَ عَسَىٰٓ أَن يَبۡعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامٗا مَّحۡمُودٗا
অর্থাৎ রাত্রির কিছু অংশে তাহাজ্জুদ কায়েম কর; এটা তোমার জন্য নফল তথা অতিরিক্ত কর্তব্য। আশা করা যায়, তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন প্রশংসিত স্থানে। (সূরা বানী ইসরাইল :৭৯ )
দুই. যেহেতু তাহাজ্জুদ নফল নামায তাই আপনি যত পড়তে চান-নিষেধ নেই। তবে রাসূল ﷺ সাধারণত আট রাকাত পড়তেন। যেমন, হাদীসে এসেছে,
عَنْ عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنْهَا: أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ كَانَ يُصَلِّي إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً ـ تَعْنِي فِي اللَّيلِ ـ يَسْجُدُ السَّجْدَةَ مِنْ ذَلِكَ قَدْرَ مَا يَقْرَأُ أَحَدُكُمْ خَمْسِينَ آيَةً قَبْلَ أَنْ يَرْفَعَ رَأسَهُ، وَيَرْكَعُ رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ صَلاَةِ الفَجْرِ، ثُمَّ يَضْطَجِعُ عَلَى شِقِّهِ الأَيْمَنِ حَتَّى يَأتِيَهُ المُنَادِي للصَلاَةِ
আয়েশা রাযি. হতে বর্ণিত, ‘রাসূলুল্লাহ ﷺ এগার রাকাত (আট রাকাত তাহাজ্জুদ এবং তিন রাকাত বিতর) নামায পড়তেন, অর্থাৎ রাতে। তিনি মাথা তোলার পূর্বে এত দীর্ঘ সেজদা করতেন যে, ততক্ষণে তোমাদের কেউ পঞ্চাশ আয়াত পড়তে পারবে। আর ফরয নামাযের পূর্বে দু’ রাকাত সুন্নত নামায পড়ে ডান পাশে শুয়ে আরাম করতেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর নিকট নামাযের ঘোষণাকারী এসে হাযির হত।’ (সহীহুল বুখারী ৬২৬, ৯৯৪, ১১২৩, ১১৩৯, ১১৪০, ১১৬০, ১১৬৫, ৬৩১০)
আট রাকাতের কম পড়লে তা তাহাজ্জুদ হবে না, বিষয়টি এমনও নয়। বরং দুই রাকাত পড়লেও তা তাহাজ্জুদ নামায হিসেবেই গণ্য হবে। সময় কম থাকলে দুই রাকাত পড়তে পারেন। যেমন, হাদীসে এসেছে,
عَنْ أَبي سَعِيدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا، قَالاَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: إِذَا أَيْقَظَ الرَّجُلُ أهْلَهُ مِنَ اللَّيْلِ فَصَلَّيَا – أَوْ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ جَمِيعاً، كُتِبَا فِي الذَّاكِرِينَ وَالذَّاكِرَاتِ
আবূ সাঈদ রাযি. হতে বর্ণিত, তাঁরা বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “যখন কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে রাতে জাগিয়ে উভয়ে নামায পড়ে অথবা তারা উভয়ে দু’ রাকআত করে নামায আদায় করে, তবে তাদেরকে (অতীব) যিকিরকারী ও যিকিরকারিনীদের দলে লিপিবদ্ধ করা হয়।” (আবূ দাউদ: ১৩০৯, ইবনু মাজাহ :১৩৩৫ )
আর নফল নামাযের নিয়ত চার রাকাত করেও করা যায়, দুই রাকাত করেও করা যায়। তবে রাতের নামাযে দুই রাকাত করে নিয়ত করা উত্তম। কেননা আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রাযি. থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, নবী ﷺ বলেছেন, صَلاَةُ اللَّيْلِ مَثْنَى مَثْنَى রাতের নামায দু’ দু’ রাকাত করে। (সহীহুল বুখারী: ৪৭২, ৯৯৩,১১৩৭, মুসলিম: ৭৪৯)
তিন. বহু হাদীসে এর ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। নিম্নে দু’টি হাদীস পেশ করা হল-
عَنْ عَبدِ اللهِ بنِ سَلاَمٍ رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ: أَيُّهَا النَّاسُ: أَفْشُوا السَّلاَمَ، وَأَطْعِمُوا الطَّعَامَ، وَصَلُّوا بِاللَّيْلِ وَالنَّاسُ نِيَامٌ، تَدْخُلُوا الجَنَّةَ بِسَلاَمٍ
আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম রাযি. হতে বর্ণিত, নবী ﷺ বলেছেন, “হে লোক সকল! তোমরা ব্যাপকভাবে সালাম প্রচার কর, (ক্ষুধার্তকে) অন্ন দাও এবং লোকে যখন রাতে ঘুমিয়ে থাকবে তখন নামায পড়। তাহলে তোমরা নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (তিরমিযী: ২৪৮৫, ইবনু মাজাহ: ১৩৩৪, ৩২৫১)
وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : أَفْضَلُ الصِّيَامِ بَعْدَ رَمَضَانَ: شَهْرُ اللهِ المُحَرَّمُ، وَأَفْضَلُ الصَّلاَةِ بَعْدَ الفَرِيضَةِ: صَلاَةُ اللَّيْلِ
আবূ হুরাইরা রাযি. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “রমযান মাসের রোযার পর সর্বোত্তম রোযা হচ্ছে আল্লাহর মাস মুহাররমের রোযা। আর ফরয নামাযের পর সর্বোত্তম নামায হচ্ছে রাতের (তাহাজ্জুদের) নামায।” (মুসলিম: ১১৬৩, তিরমিযী: ৪৩৮, ৭৪০, আবূ দাউদ: ২৪২৯)
উত্তর দিয়েছেন
মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী নকশবন্দী
সূত্রঃ http://quranerjyoti.com