1 Answers
খালি চোখে দেখা যায় না এমন বস্তু দেখার উপায় কি? এ উপায় আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছিলেন ডাচ বিজ্ঞানী লিউয়েন হোয়েক। সর্বপ্রথম তিনিই অণুবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কার করেন। কিভাবে এই অণুবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কৃত হয়। জীবিকা অর্জনের জন্য লিউয়েন হোয়েক একটি চশমার দোকান খুলেছিলেন, কিন্তু খেয়ালি মানুষের খেয়ালিপনা দূর হলো না। তিনি চশমা বিক্রি অপেক্ষা কাচ ঘষে ঘষে লেন্স তৈরি করতে ভালোবাসতেন। ফলে খরিদ্দাররা বিরক্ত ও অসন্তুষ্ট হয়ে পড়ল। এতে বরং লিউয়েন হোয়েক খুশি হলেন। সারাদিন বসে বসে কেবল লেন্স বানাতেন। এই লেন্সের একটা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এর ভেতর দিয়ে ছোট জিনিসকে দেখলে বেশ বড় দেখায়। লিউয়েন হোয়েক গাছের পাতা, ঘাস, ছোট ছোট কীটপতঙ্গ, প্রাণীর চামড়া, চুল প্রভৃতি লেন্সের মাধ্যমে দেখতেন। একবার কি খেয়াল হলো তার! লেন্সকে হাতে ধরে না রেখে তামার পাতের নল তৈরি করে তার মধ্যে পুরে দিলেন। এতে সুবিধা হলো অনেক। এরপর নলের মধ্যে একটি লেন্সের বদলে দুটি দিলেন। এভাবে এগিয়ে চলল তার পরীক্ষা। বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর লিউয়েন হোয়েক আবিষ্কার করলেন একটি যন্ত্র। এই যন্ত্রটির মাধ্যমে অতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পদার্থ দেখা গেল অনায়াসে। অবশেষে একদিন প্রতীক্ষিত দিন চলে এলো। মানব সভ্যতার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। কি মনে করে বাগানের একটা ভাঙা টবে জমে থাকা পচা পানি এনে রাখলেন যন্ত্রের সম্মুখে। অবাক হয়ে লক্ষ্য করলেন, সেই পচা পানিতে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিচিত্র ধরনের জীব কিলবিল করছে। পরপর বেশ কয়েকবার পানি এনে পরীক্ষা করে তিনি এই সিদ্ধান্তে পেঁৗছলেন, পানিতে বেশকিছু ক্ষুদ্র জীব বাস করে। ভালো পানিতে কম এবং পচা পানিতে এর পরিমাণ বেশি থাকে। আর এসব ক্ষুদ্র জীব এত ছোট যে, খালি চোখে দেখা যায় না। কয়েক দিন পর আরও একটি পরীক্ষা করলেন বিজ্ঞানী লিউয়েন হোয়েক। একটি পাত্রে কিছুটা ভালো পানি রেখে তাতে লঙ্কা ভিজিয়ে দিলেন। পাঁচ-সাত দিন পর সেই পানির এক ফোঁটা যন্ত্রের মাধ্যমে দেখে অবাক হয়ে গেলেন। এই পানিতে জীবাণুর পরিমাণ আরও অনেক বেশি। তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন, পানিতে জীব আপনা থেকেই জন্মায়। লিউয়েন হোয়েক এই পরীক্ষাগুলোর ফলাফল লিখে পাঠিয়ে দিলেন রয়েল সোসাইটিতে। সোসাইটির কর্মকর্তারা প্রথমে লিউয়েন হোয়েকের পাগলামি ভেবে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। পরে দু’একজন উৎসাহী সদস্য তার পাগলামি স্বচক্ষে দেখার জন্য উপস্থিত হলেন। লিউয়েন হোয়েক খুশি হয়ে পরীক্ষাটি দেখালেন তাদের। বিস্মিত হলেন সদস্যরা। কিছু লঙ্কা ভিজানো পানি আর লিউয়েন হোয়েকের তৈরি একটি যন্ত্র নিয়ে ফিরে এলেন রয়েল সোসাইটিতে। এবার সোসাইটি বুঝতে পারল, লিউয়েন হোয়েকের মাথায় একটু পাগলামি থাকলেও একটি বিস্ময়কর বস্তুর আবিষ্কারক তিনি। সঙ্গে সঙ্গে তার নাম সোসাইটির সদস্য তালিকাভুক্ত করে নেওয়া হলো। লিউয়েন হোয়েকের নাম চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ল। বিজ্ঞানী লিউয়েন হোয়েক আজীবন গবেষণা চালিয়ে গেছেন। তারই পরীক্ষা থেকে মানুষ বুঝতে সক্ষম হয়, এক ধরনের জীব পৃথিবীতে বাস করে, যাদের আমরা খালি চোখে দেখি না। এই অদৃশ্য জীবাণুরা পানিতে, গাছের পাতায়, ভেজা মাটিতে, মানুষের খাদ্যনালীতে এবং দাঁতের গোড়ায় বসবাস করে। আর এ জন্য তিনি আবিষ্কার করেন অণুবীক্ষণ যন্ত্র।