2 Answers

ফাসেককে ইমাম নিযুক্ত করা জায়েয নয়; তবে সে ইমাম হয়ে গেলে তার পিছনে নামায পড়া জায়েয।

3211 views

ফাসেক হল সেই ব্যক্তি, যে অবৈধ হারাম বা নিষিদ্ধ কাজ করে এবং ফরয বা ওয়াজিব কাজ ত্যাগ করে অর্থাৎ কবীরা গুনাহ করে।

যেমন, ধূমপান করে, বিড়ি-সিগারেট খায়, জর্দা-তামাক প্রভৃতি মাদকদ্রব্য ব্যবহার করে, গাঁটের নিচে ঝুলিয়ে কাপড় পরে, অথবা সূদ বা ঘুস খায়, অথবা মিথ্যা বলে, অথবা ব্যাভিচার করে, অথবা দাড়ি চাঁছে বা (এক মুঠির কম) ছেঁটে ফেলে, অথবা মুশারিকদের যবেহ হালাল মনে না করে খায়।

কিন্তু হালাল মনে করে খেলে তার পিছনে নামায হবে না।

অথবা স্ত্রী কন্যাকে বেপর্দা রেখে তাদের ব্যাপারে ঈর্ষাহীন হয়, অথবা মা বাপকে দেখে না বা তাদেরকে ভাত দেয় না ইত্যাদি।

উক্ত সকল ব্যক্তি এবং তাদের অনুরূপ অন্যান্য ব্যক্তির পিছনে নামায মাকরূহ তথা অপছন্দনীয়। বিধায় তাকে ইমামরূপে নির্বাচন ও নিয়োগ করা বৈধ ও উচিৎ নয়। কিন্তু যদি কোন কারণে বা চাপে পরে বাধ্য হয়েই তার পিছনে নামায পড়তেই হয়, তাহলে নামায হয়ে যাবে।

সাহাবাগণের যামানায় সাহাবাগণ ফাসেকের পিছনে নামায পরেছেন। আব্দুল্লাহ বিন উমার (রাঃ) হাজ্জাজ্জের পিছনে নামায পড়েছেন।

আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) মারওআনের পিছনে নামায পড়েছেন।

তৃতীয় খলীফা উসমান (রাঃ) ফিতনার সময় যখন স্বগৃহে অবরুদ্ধ ছিলেন, তখন উবাইদুল্লাহ বিন আদী বিন খিয়ার তার নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, আপনি জনসাধারণের ইমাম। আর আপনার উপর যে বিপদ এসেছে, তা তো দেখতেই পাচ্ছেন। ফিতনার ইমাম আমাদের নামাযের ইমামতি করছে; অথচ তার পশ্চাতে নামায পড়তে আমারা দ্বিধাবোধ করি।

তিনি বললেন, “ নামায হল মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ আমল। সুতরাং লোকে ভাল ব্যবহার করলে তাঁদের সাথেও ভাল ব্যবহার কর। আর মন্দ ব্যবহার করলে তাঁদের সাথে মন্দ ব্যবহার করা থেকে দূরে থাক।”

ফুটনোটঃ (মাজাল্লাতুল বুহূষিল ইসলামীয়্যাহঃ ৫/২৯০, ৩০০, ৬/২৫১, ১৫/৮০, ১৮/৯০, ১১১, ১৯/১৫২, ২২/৭৫, ৭৭, ৯২, ২৪/৭৮), ২০৫ (বুখারী), ২০৬ (মুসলিম, আবূ দাঊদ, তিরমিযী), ২০৭ (বুখারী ৬৯৫, মিশকাত ৬২৩)। ©


3211 views

Related Questions