3 Answers

সূর্যের সৌর বাতাস (শক ওয়েব অথবা চৌম্বক ক্ষেত্র) এর সাথে পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের মিথস্ক্রিয়ার ফলে যে প্রবল ঝরের সৃস্টি হয়, সেটাই সৌর ঝর।

2757 views

সুর্যে মূলত হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম রয়েছে, চারটি হাইড্রোজেন বিক্রিয়া করে একটি হিলিয়াম নিউক্লিয়াস ও প্রচুর শক্তি তৈরি করে। কখনো কখনো সুর্যের এই জ্বালানী হাইড্রোজেন সূর্যের আন্তঃআনবিক আকর্ষনের প্রভাবে বিশাল এক অভিকর্ষ সৃষ্টি করে ফলে অনু বা পরমানু গুলো জড়ো হয় বেশি বিক্রিয়া করে প্লাজমা অবস্থা সৃষ্টি করে। কিন্তু চারপাশের তাপ ও জ্বালানী প্রবাহ একই না হওয়া কম চাপের পাশে প্লাজমা প্রবাহিত হয় ও বিস্ফোরন ঘটে। এই বিস্ফোরন অবস্থা কুণ্ডলী পাকিয়ে সূর্যের ভেতর যিগয্যাগ গতিপ্রাপ্ত হয় যাকে সৌর ঝড় বলে।

2757 views

সূর্য ঝড়ঃ সৌর চক্র একটি ১১ বছরের চক্র। সূর্য প্রতি ১১ বছর পরপর ম্যাগনেটিক ফিল্ড এর বিপরিতে ঘুরে যায়, সে হিসেবে ২২ বছর পর এটা পৃথিবীর দিকে ঘুরে। এই সময় সূর্য বিরূপ আচরণ করতে থাকে, তখন সৌরঝড় এর আবির্ভাব ঘটে এবং এর ঝুকিটাও বেড়ে যায়।প্রতি ১১তম বছরে সূর্যের কলঙ্কের সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় দেড় গুণ বেড়ে যায়। সূর্যের বহিঃস্তরের উচ্চতাপযুক্ত প্লাজমার আবরণ থেকে তড়িদাহত কণার স্রোত বেরিয়ে আসে,ফলে গামা রশ্মি, রঞ্জন রশ্মির মত ক্ষতিকর তড়িৎ কনাগুলো সৌরজগতে এবং মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে, একেই বলা হয় সৌরঝড়।


 সৌরঝড়ের এ ঘটনাটি ঠিক তখনোই ঘটে যখন সূর্যের বাঁকানো চৌম্বক ক্ষেত্রগুলো একটি আরেকটিকে অতিক্রম করে ও পুনরায় যুক্ত হয়। সৌরঝড়ের বিস্ফোরনের ফলে সৃষ্ট তাপমাত্রার পরিমাণ প্রায় ১০ মিলিয়ন °C , যা এক মিলিয়ন আনবিক বোমার শক্তির সমান। পৃথিবী থেকে খালি চোখে সূর্যের বুকে প্রতিনিয়ত ঘটে চলা এসব ওলট-পালট ঘটনা সহজে আমাদের চোখে ধরা পড়ে না। কিন্তু শক্তিশালী টেলিস্কোপে দেখলে এর কিছু কিছু অন্ধকার জায়গা দেখা যাবে। একে বলে সৌর কলঙ্ক।সূর্যের কেন্দ্রে যে শক্তির ( প্লাজমা ) উৎপত্তি হয় তা আলােকমণ্ডলের উপরিতলে পৌঁছােতে সময় নেয় দশ লক্ষ বছরের মতাে । 

সেখানকার উচ্চ তাপে প্লাজমায় বিস্ফোরণ ঘটে এবং তা এদিক ওদিক ছড়িয়ে পড়ে । এর ফলে আলােকমণ্ডলের ফাঁক দিয়ে সূর্যের ছটায় কালাে কালাে দাগ ফুটে ওঠে । এগুলোও সৌরকলঙ্ক । কেউ কেউ আবার মনে করেন সূর্যের যে অঞ্চলগুলিতে কালাে কালাে দাগগুলি দেখা যায় সেই অঞ্চলগুলিতে তার আশেপাশের উজ্জ্বল অংশের তুলনায় উষ্ণতা কম থাকে ।

 সৌরকলঙ্কের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সৌরশিখা ( Solar Flare ) এবং সৌরঝড় (solar storm) বৃদ্ধি পায় । এই সৌরশিখাগুলি সৃষ্টি হয় সম্ভবত সৌরকলঙ্কের চৌম্বকক্ষেত্র বিলয়নজনিত বিস্ফোরণের কারণে । এই সময় যে উষ্ণ গ্যাসের স্রোত ( Super Hot Gas ) বয়তে থাকে তাকে বলা হয় ' করােনাল মাস ইজেকশান ' ( সি . এম . ই ) ।পৃথিবীর ম্যাগনেটোস্ফিয়ার বা চুম্বকীয় বলয়ে আঘাত হানা সৌরঝড়ের চার্জযুক্ত বস্তুকণিকার কিছু অংশ দুই মেরুর উর্ধভাগ দিয়ে পৃথিবীর আকাশে প্রবেশ করে এবং বায়ুমন্ডলের সংস্পর্শে এসে জ্বলে যায়। এ সময় দুই মেরুর আকাশে রঙিন আলোর অপরূপ বর্ণচ্ছটা তৈরি হয়। 

উত্তর মেরুতে আলোর এই বিচিত্র খেলার নাম আরোরা বলিয়ারিস এবং দক্ষিণ মেরুতে আরোরা অস্ট্রালিস। সৌরঝড় পৃথিবীর চৌম্বকীয় বলয়ে বাধাপ্রাপ্ত হওয়ায় পৃথিবীর তেমন কোন ক্ষতি করতে না পারলেও মাঝেমধ্যে এর প্রভাবে বিমান ও কৃত্রিম উপগ্রহে ব্যবহৃত যোগাযোগ প্রযুক্তি ও সঙ্কেত ব্যবস্থা এমনকি বৈদ্যুতিক গ্রিডও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে ।

2757 views