অযু করার পর কেউ যদি শিরক করে ফেলে,যেমন অসতর্কতাবশত লোক দেখিয়ে ইবাদাত করে ফেললো-এক্ষেত্রে কি অযু নষ্ট হয়ে যাবে?নাকি সে অযুতে তাওবার নামায পড়া যাবে?দলিলসহ উত্তর দরকার।ধন্যবাদ।
2466 views

1 Answers

যে ব্যক্তি লোক দেখানোর জন্য ইবাদত করবে, সে ছোট শিরক করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হবে এবং তার আমল বরবাদ হয়ে যাবে।(দেখুনঃ বেহেশতী যেওর, আহকামে যিন্দেগী)

যেমন লোক দেখানো সালাত। আল্লাহ তা‘আলা এ সম্পর্কে বলেন, -‘নিশ্চয়ই মুনাফিকরা আল্লাহর সঙ্গে প্রতারণা করতে চায়। অথচ তিনিও তাদের সাথে প্রতারণা করতে সক্ষম। যখন তারা সালাতে দাঁড়ায় তখন আলস্যভরে দাঁড়ায়। তারা লোকদের দেখায় যে তারা সালাত আদায় করছে, কিন্তু আল্লাহকে তারা কমই স্মরণ করে’ (নিসা ১৪২)।

“আপনি বলুনঃ নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কোরবানি এবং আমার জীবন ও মৃত্যু - বিশ্ব-প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য।” (সুরা আল-আনআ’মঃ ১৬২)

“আপনি বলুনঃ আমি তোমাদের মতই একজন মানুষ। আমার কাছে ‘ওয়াহী’ করা হয় যে, তোমাদের ইলাহ হচ্ছেন ‘একমাত্র’ ইলাহ। অতএব,যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সাক্ষাত কামনা করে, সে যেন নেক আমল করে এবং তার পালনকর্তার ইবাদতে কাউকে শরীক না করে।” (সুরা আল-কাহফঃ ১১০)

রিয়া" শিরকের অন্তর্ভুক্ত কিন্তু এমন শিরক নয় যার কারণে ঈমান বিনষ্ট হবে অর্থাৎ কাফের হয়ে যাবে৷ 

সুতরাং -রিয়ার কারণে "ইবাদত " নষ্ট হবে,কিন্তু ঈমান চলে যাবে না৷

অতএব --রিয়া"র কারণে আপনার অযু ভঙ্গ হবে না,আপনি আল্লাহর কাছে অনুতপ্ত হয়ে তাওবাহ করতে চাইলে,একই অযুতেই করতে পারবেন৷

তাহলে প্রশ্ন হলো কোন ধরনের শিরক ঈমান নষ্ট করে??

আসুন তাও একটু জেনে নি!ঈমান বিনষ্টকারী শিরক

(১) ‘ইবাদাতে আল্লাহ্‌র সাথে শরীক বা অংশীদার নির্ধারণ করা।

এর প্রমাণ হলো আল্লাহ্‌র এ বাণী:-

অর্থাৎ- "এবং তারা উপাসনা করে আল্লাহ্‌কে বাদ দিয়ে এমন বস্তুর, যা না তাদের কোন ক্ষতিসাধন করতে পারে না লাভ এবং বলে- “এরা তো আল্লাহ্‌র কাছে আমাদের সুপারিশকারী”। আপনি বলুন! তোমরা কি আছমান ও যমীনের এমন বিষয়ে আল্লাহ্‌কে অবহিত করছ, যে সম্পর্কে তিনি অবহিত নন? তিনি পুতঃপবিত্র ও মহান সে সমস্ত থেকে, যা তোমরা শরীক করছো।

সুতরাং যে ব্যক্তি ‌‘ইবাদাতে আল্লাহ্‌র সাথে কোন কিছুকে অংশীদার করবে, তার ঈমান বিনষ্ট হয়ে যাবে এবং সে ইছলাম বহির্ভূত; কাফির-মুশরিক বলে গণ্য হবে।

২) নিজের ও আল্লাহ্‌র মধ্যে কাউকে মাধ্যম নির্ধারণ করা, তার নিকট সুপারিশ প্রার্থনা করা, তাকে আহবান করা, তার উপর ভরসা করা ইত্যাদি। 

ক্বোরাইশের কাফির-মুশরিকরা এ জাতীয় শির্‌কেই লিপ্ত ছিল। আল্লাহ্‌র নৈকট্য লাভের জন্য তারা কতক মাধ্যম ও সুপারিশকারী সাব্যস্ত করেছিল। অথচ তারা রুবূবিয়্যাহ্ বা পালনকর্তৃত্বে আল্লাহ্‌র একত্বে বিশ্বাসী ছিল। তাদের এ ধরনের শির্‌ক সম্পর্কেই আল্লাহ ইরশাদ করেছেন:-

অর্থাৎ- "জেনে রাখুন, নিষ্ঠাপূর্ণ ‘ইবাদাত আল্লাহ্‌রই জন্যে। যারা আল্লাহ্ ব্যতীত অন্যকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করে এবং বলে যে, আমরা তাদের ‘ইবাদাত এ জন্যেই করি, যেন তারা আমাদেরকে আল্লাহ্‌র নিকটবর্তী করে দেয়, নিশ্চয় আল্লাহ্ তাদের মধ্যে তারা যে বিষয়ে মতবিরোধ করছে সে ব্যাপারে ফায়সালা করে দেবেন। আল্লাহ মিথ্যাবাদী কাফিরকে সৎপথে পরিচালিত করেন না।

অতএব-কেউ যদি এমন(বড়)শিরক করে সে কাফের বলে গণ্য হবে এবং তাকে পুনঃ গোসল করে পবিত্র হয়ে তাওবাহ করতে হবে৷ 

2466 views

Related Questions