1 Answers

জ্বিন কোনো প্রকার নেই,,, জ্বিন আগুনের তৈরি তাই দেখা যায় না৷ তবে মানুষ আর জ্বিন একি রকম কিন্তু জ্বিন দেখা যায় না,,, মানুষ দেখা যায়।  

 

জ্বীন: সত্য না মিথ্যা প্রমাণ,,,   

ইসলাম ধর্মে ‘অদৃশ্যে’ বিশ্বাস স্থাপন করা অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পবিত্র কুরআন মাজীদে বলা হয়েছে-

“এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই। পথ প্রদর্শনকারী পরহেযগারদের জন্য। যারা অদেখা বিষয়ের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে এবং নামায প্রতিষ্ঠা করে। আর আমি তাদেরকে যে রুযী দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে।” (সূরা আল-বাকারা, ২-৩)

বুঝতেই পারছেন- অদেখা বিষয় বা অদৃশ্যে বিশ্বাস করা প্রত্যেক মুসলিমের উপর ফরজ বা বাধ্যতামূলক। জ্বীন এই অদৃশ্য বিষয়গুলোর মধ্যে একটি। পবিত্র কুরআনে বেশ কয়েকবার জ্বীনদেরকে মানুষদের সাথে সম্বোধন করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে জ্বীনদের আগমন নিয়ে ‘সূরা জ্বীন’ নামে একটি সম্পূর্ণ সূরা অবতরণ করা হয়েছে।
জ্বীনদের অস্তিত্ব নিয়ে যাঁরা সন্দিহান, তাদের জন্য আমি পবিত্র কুরআন মাজীদে থেকে কয়েকটি আয়াত নিচে উল্লেখ করছি-

▪”যখন আমি একদল জ্বীনকে আপনার প্রতি আকৃষ্ট করেছিলাম, তারা কোরআন পাঠ শুনছিল। তারা যখন কোরআন পাঠের জায়গায় উপস্থিত হল, তখন পরস্পর বলল, চুপ থাক। অতঃপর যখন পাঠ সমাপ্ত হল, তখন তারা তাদের সম্প্রদায়ের কাছে (জ্বীন সম্প্রদায়) সতর্ককারীরূপে ফিরে গেল।” (সূরা আল-আহক্বাফ, ২৯)
▪”হে জ্বীন ও মানব সম্প্রদায়, তোমাদের কাছে কি তোমাদের মধ্য থেকে পয়গম্বরগণ আগমন করেনি? যাঁরা তোমাদেরকে আমার বিধানাবলী বর্ণনা করতেন এবং তোমাদেরকে আজকের এ দিনের সাক্ষাতের ভীতি প্রদর্শন করতেন? তারা বলবেঃ আমরা স্বীয় গোনাহ স্বীকার করে নিলাম। পার্থিব জীবন তাদেরকে প্রতারিত করেছে। তারা নিজেদের বিরুদ্ধে স্বীকার করে নিয়েছে যে, তারা কাফের ছিল।” (সূরা আল-আনআ’ম, ১৩০)
▪“আমি জ্বীন ও মানুষকে কেবলমাত্র আমার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি” (সূরা আয্-যারিয়াত, ৫৬)
▪”হে জ্বীন ও মানবকূল, নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের প্রান্ত অতিক্রম করা যদি তোমাদের সাধ্যে কুলায়, তবে অতিক্রম কর। কিন্তু ছাড়পত্র ব্যতীত তোমরা তা অতিক্রম করতে পারবে না।” (সূরা আর-রহমান, ৩৩)
▪”বলুনঃ আমার প্রতি ওহী নাযিল করা হয়েছে যে, জ্বীনদের একটি দল কোরআন শ্রবণ করেছে, অতঃপর তারা বলেছেঃ আমরা বিস্ময়কর কোরআন শ্রবণ করেছি।” (সূরা জ্বীন, ১)
▪”আর এই যে মানুষের মধ্যের কিছু লোক জ্বীন জাতির কিছু লোকের আশ্রয় নিত, ফলে ওরা তাদের পাপাচার বাড়িয়ে দিত।” (সূরা জ্বীন, ৬)

জ্বীনের অস্তিত্ব পবিত্র কুরআন মাজীদ ও হাদীস দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমাণিত। অসংখ্য সহীহ হাদিস রয়েছে যেগুলোতে জ্বীন জাতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আমি পবিত্র কুরআন মাজীদের রেফারেন্স দিয়েই শেষ করছি, হাদীসগুলোর রেফারেন্স দেয়ার প্রয়োজন মনে করছি না।

3150 views

Related Questions