1 Answers
স্থায়ী তাক্বদীর বলতে কি বুঝাতে চাইছেন কথাটি ক্লিয়ার নয়। তাক্বদীর ঈমানের ছয়টি স্তম্ভের অন্যতম একটি স্তম্ভ। প্রকৃত মুমিন হতে হলে অবশ্যই তাক্বদীরে বিশ্বাস করতে হবে, তাক্বদীরে বিশ্বাস স্থাপন বৈ কেউ মুমিন হতে পারবে না। পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছে তাক্বদীর সংক্রান্ত অসংখ্য বর্ণনা এসেছে। সেজন্য ইসলামে এর গুরুত্ব অপরিসীম। তাক্বদীর ঈমানের ছয়টি স্তম্ভ হচ্ছেঃ এক. একক ইলাহ হিসেবে আল্লাহকে বিশ্বাস করা। দুই. আল্লাহর ফেরেশতাদের প্রতি বিশ্বাস করা। তিন. সমস্ত আসমানী কিতাব সমূহতে বিশ্বাস। চার. সকল নবী ও রাসূলগণের প্রতি বিশ্বাস। পাঁচ. তাক্বদীর বা ভাগ্যের ভালো মন্দের প্রতি বিশ্বাস। ছয়. আখিরাত বা পরকালের প্রতি বিশ্বাস। রেফারেন্সঃ আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, একদা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকসমক্ষে ছিলেন, এমতাবস্হায় তার কাছে একজন লোক হাযির হলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! ঈমান কী? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ঈমান হল, আল্লাহ, তার ফেরেশতা, তার কিতাবসমুহ, তার সঙ্গে মুলাকাত, তার প্রেরিত রাসুলদের প্রতি ঈমান আনা এবং শেষ উত্থানের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা। (সহীহ মুসলিম, হাদিস নম্বরঃ ৫ হাদিসের মানঃ সহিহ)। এছাড়া রিজিক, আমল, আয়ু, তাকদীর এই চারটি পূর্ব থেকে নির্ধারিত। আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যিনি ‘সত্যবাদী’ এবং সত্যবাদী বলে স্বীকৃত আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তোমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টি হলো এমন বীর্য থেকে যাকে মায়ের পেটে চল্লিশ দিন কিংবা চল্লিশ রাত একত্রিত রাখা হয়। তারপর তেমনি সময়ে আলাক হয়, তারপর তেমনি সময়ে গোশতপিন্ডে পরিণত হয়। তারপর আল্লাহ তার কাছে ফেরেশতা প্রেরণ করেন। এই ফেরেশতাকে চারটি বিষয় সম্পর্কে লেখার করার জন্য হুকুম দেয়া হয়। যার ফলে ফেরেশেতা তার রিযক, আমল, আয়ু এবং দুর্ভাগা কিংবা ভাগ্যবান হওয়া সম্পর্কে লিখে দেয়। তারপর তার মধ্যে প্রাণ ফুঁকে দেয়া হয়। এজন্যই তোমাদের কেউ জান্নাতীদের আমল করে এতটুকু এগিয়ে যায় যে, তার ও জান্নাতের মাঝে কেবল এক গজের দূরত্ব থাকতেই তার ওপর লিখিত তাকদীর প্রবল হয়ে যায়। তখন সে জাহান্নামীদের আমল করে। শেষে সে জাহান্নামে প্রবেশ করে। আবার তোমাদের কেউ জাহান্নামীদের মত আমল করে এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, তার ও জাহান্নামের মাঝে মাত্র এক গজের দূরত্ব থাকতে তার উপর তাকদীরের লেখা প্রবল হয়, ফলে সে জান্নাতীদের মত আমল করে, শেষে জান্নাতেই প্রবেশ করে। (সহীহ বুখারীঃ ৭৪৫৪ আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৯৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৯৪৬ হাদিসের মানঃ সহিহ)।