লবন খাওয়ার অপকারিতা বা ক্ষতিকর দিকগুলো কি?
2 Answers
হার্ট, লিভার থেকে শুরু করে কিডনি, অ্যাড্রিনাল গ্ল্যান্ডের মতো শরীরের বিশেষ অংশগুলোর কাজকর্ম কিছুটা হলেও লবণের ওপর নির্ভর করে। তবে সাধারণত আমাদের ধারণা লবণ খেলেই ব্লাড প্রেশার বেড়ে যায়। লবণের ভালো এবং মন্দ - দুটো দিকই রয়েছে। সব মিলিয়ে লবণ খাবারের গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ।
লবণের ক্ষতিকারক দিক
- লবণ এক ধরনের স্ট্রেস ফুড। সিমপ্যাথেটিক নার্ভ সিস্টেমকে উদ্দীপিত করে। - লবণ শরীরে পানি ধরে রাখে। বেশি লবণ খেলে হাই ব্লাড প্রেশারের আশঙ্কা থাকে। - হাড় থেকে ক্যালসিয়াম শুষে নিয়ে লবণ হাড়ের ক্ষতি করে। - শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ বের হবার কাজে লবণ ব্যাঘাত ঘটায়। এর জন্য ইউরিক অ্যাসিড, বাত দেখা দেয়। অতিরিক্ত লবণ খেলে কিডনির ওপর চাপ পড়ে, কিডনি দুর্বল হয়ে যায়।
লবণ খাওয়া কমাতে চাইলে
- রান্নার সময় যতটা প্রয়োজন ততটা লবণ ব্যবহার করুন। খাবার টেবিলে বারবার লবণদানী থেকে কাঁচা লবণ নিয়ে খাওয়ার অভ্যাস কমান। - রান্নার ধরনে পরিবর্তন আনুন। মাঝে মাঝে লো সল্ট রেসিপিতে রাঁধুন। নানা রকম ভেষজ ও মশলা দিয়ে খাবার বানাতে পারেন। লো সোডিয়াম জাতীয় সবজি যেমন গাজর, ব্রকোলি, ভুট্টা, শসা ইত্যাদি খান। লো সোডিয়াম জাতীয় সবজিতে ফ্যাটের পরিমাণও কম। আচার, টমেটো স্যুপ, ভেজিটেবল স্যুপ জাতীয় হাই সোডিয়াম খাবারে ফ্যাটের পরিমাণ বেশি। - ফ্রোজেন ফুড, রেডিমেড স্যুপের প্যাকেটের মতো প্যাকেটজাত খাবাবে সোডিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকে। প্যাকেটজাত খাবার কেনার সময় ভালো করে লেবেল পড়ে নিন। লো সোডিয়াম স্যুপ খান। বাড়িতে তৈরি খাবার খেতে পারলে সবচেয়ে ভালো হয়।
লবণের ভালো দিক
- নার্ভ সেলের কার্যকলাপের জন্য লবণ খুবই দরকারি। - লো ব্লাড প্রেশারের জন্য লবণ উপকারী। - সর্দি কমানোর জন্য, সাইনাসের কনজেশন ভাব দূর করার জন্যও লবণ বেশ কাজ করে। - পেশীর ব্যথা প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও লবণ সমান জরুরি। - শুকনো কাশির সময় মুখে সামান্য লবণ রাখলে ঘন ঘন কাশির হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়। - ব্লাড ভেসেল ও সেলগুলোকে লবণ কিছুটা সংকুচিত করে রাখে বলে শরীর গরম থাকে। এ কারণেই শীতকালে লবণ খাওয়া হয় বেশি।
সামুদ্রিক লবণ
উপকারিতা সামুদ্রিক লবণ সিলিকন, ক্যালসিয়াম, কপার, নিকেল সমৃদ্ধ। সামুদ্রিক লবণে উপস্থিত এসব মিনারেল ও অন্যান্য উপাদান ব্লাডসেল রক্ষা করতে সাহায্য করে। সাধারণ লবণের মধ্যে এত রকমের মিনারেল উপস্থিত থাকে না। অপকারিতা সামুদ্রিক লবণে আয়োডিন অনুপস্থিত। তাই সাধারণ লবণের চেয়ে এই লবণ খুব একটা উপকারী নয়। সামুদ্রিক লবণ খেলে খাদ্যতালিকায় আয়োডিনসমৃদ্ধ অন্যান্য খাবারও রাখুন। তথ্যসূত্র: ডা. চিন্ময় সেনগুপ্ত, বিনা ওষুধে রোগ নিরাময়, ২০০৩
লবণ বেশি খেলে ভবিষ্যতে নিম্নোক্ত সমস্যাগুলো হতে পারে:
☆শরীর ডিহাইড্রেশন রাখেঃ
শরীরকে হাইড্রেট রাখা খুব জরুরী। কিন্তু খবার পাতে অতিরিক্ত পরিমাণ লবণ শরীরকে ডিহাইড্রেশন করে তোলে। তাই আপনার খাদ্য থেকে এই উপাদানটি অপসারণ করা ভালো।
☆ উচ্চ রক্তচাপঃ অতিরিক্ত পরিমাণ লবণ খাওয়ার ফলে রক্ত চাপ বেড়ে যেতে পারে। ব্লাড প্রেসার রোগীদের লবণ না খাওয়াই উত্তম।
☆ ওজন হ্রাসঃ ওজন হ্রাসঃ খাবার পাতে লবণ দ্রুত চর্বি হ্রাস করতে সহায়ক। তাই অতিরিক্ত লবণ খেলে ওজন আরও কমে যেতে পারে। তাই যাদের ওজন কম তাদের লবণ না খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
☆ হাড়ের ক্ষতি হতে পারেঃ অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ করলে হাড় থেকে ক্যালসিয়াম ক্ষয় হতে পারে। যা অস্টিওপরোসিসের সমস্যা হতে পারে। যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক। তাই লবণ খাওয়া পরিত্যাগ করলে আপনার দীর্ঘায়ু হতে পারে। যাদের হার্টের অসুখ রয়েছে বিশেষত বয়স্কদের লবণ খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।
☆ স্ট্রোক হওয়ার প্রবণতাঃ বাইরের খাবার যেমন জাঙ্ক ফুড বা স্ট্রিট ফুডগুলিতে বেশি করে লবণের পরিমাণ থাকে। এই ধরনের খাবার আমাদের মারাত্মক ক্ষতি করে দিতে পারে। কিন্তু আমরা এই ধরনের খাবার খেতে পছন্দ করে থাকি। যার ফলে হার্টের রোগ এবং স্ট্রোকের প্রবণতা থাকে। গবেষণায় দেখা যায়, বিশ্বজুড়ে স্ট্রোক আক্রান্ত মৃত্যুর সংখ্যা ৭০ শতাংশ। তাই দৈনিক খাবারের লবণে এর পরিমাণ কমানো না হলে স্ট্রোক আক্রান্ত মৃত্যুর সংখ্যা দিনের পর দিন বেড়েই চলবে।
☆ কিডনির সমস্যাঃ কিডনির সমস্যাঃ অত্যাধিক পরিমাণ লবণ খাওয়ার জন্য হৃদ চাপ বেড়ে যায়। যার ফলে কিডনি থেকে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম নিঃসৃত হয় এবং কিডনিতে পাথর সৃষ্টি হয়। কিডনির সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য লবণ খাওয়া বন্ধ করা মাস্ট।
☆ ডায়াবেটিস হওয়ার সমস্যাঃ লবণের কারনে ব্লাড প্রেসার বেড়ে যায়। যার ফলে ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভবনা থাকে।