বাংলাদেশের কিছু মানুষ আজকেই ঈদ পালন করছে!কিন্তু আজকে তো সৌদিতে ঈদ। ইসলাম একে সমর্থন করে কিদলিলসহ উত্তর চাই?

ঐ ব্যাক্তিরা রোজা রেখেছে সৌদিতে যেদিন থেকেই রোজা শুরু হয়েছিল সেদিন থেকে।ঈদও পালন করছে সৌদিতে যেদিন, সেদিনই।ঈদের নামাযও পড়ল অাজকে


কিন্তু ইসলামে বলা অাছে→তোমরা চাদঁ দেখে রোজা রাখ,চাদঁ দেখেই রোজা ভাঙ্গ।
2886 views

2 Answers

 ইসলাম একে সমর্থন করেনা.. কারন রাসুল স: বলেছেন তোমরা চাদ দেখে রোযা রাখো চাদ দেখে ঈদ করো। যারা আজকে ঈদ করতেছে তারা এই হাদীসটি অস্বীকার করে। কারন তারা সৌদি আরবের সময় অনুযায়ী সেহরি ইফাতার করেনা. আপনি যেই দেশে থাকবেন সেই দেশের ভৌগলিক ব্যাবস্থা অনুযায়ী আপনার চলতে হবে

2886 views Answered

নতুন চাঁদ দেখার মাধ্যমে আইনত নতুন মাস শুরু হওয়া সাব্যস্ত হয়। যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখ এবং চাঁদ দেখে রোজা ভাঙ্গ। (সহিহ বুখারিঃ ১৯০৯ ও সহিহ মুসলিমঃ ১০৮১) জোর্তিবিদদের হিসাবের ভিত্তিতে মাসের শুরু সাব্যস্ত করা যাবে না। এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই যে, চন্দ্রের উদয়স্থল এক দেশ থেকে আরেক দেশে ভিন্ন ভিন্ন। বিশেষতঃ চন্দ্রের উদয়স্থল যে, ভিন্ন ভিন্ন এ ব্যাপারে কারো কোন দ্বিমত নেই। কিন্তু মতভেদ হচ্ছেঃ এক দেশ থেকে আরেক দেশে মাস সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে এ উদয়স্থলের ভিন্নতার কোন প্রভাব আছে কিনা, সেটা নিয়ে আলেমদের মতভেদ রয়েছে। ইমাম ইবনু তায়মিয়া (রহঃ) বলেন, চন্দ্র উদয়ের স্থান বিভিন্ন হয়ে থাকে। এ বিষয়ে অভিজ্ঞ বিদ্বানগণ ঐকমত্য। আর এই বিভিন্নতার দাবী হচ্ছে প্রত্যেক এলাকায় ভিন্ন রকম বিধান হবে। একথার স্বপক্ষে দলীল কুরআন হাদীছ ও সাধারণ যুক্তি। আল্লাহ তাআলা বলেন, অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাসে উপস্থিত হবে, সে যেন সিয়াম পালন করে। (সূরা বাক্বারাঃ ১৮৫) যদি পৃথিবীর শেষ সীমান্তে লোকেরা এ মাসে উপস্থিত না হয় অর্থাৎ চাঁদ না দেখে আর সৌদি বা মক্কার লোকেরা চাঁদ দেখে, তবে কিভাবে এই আয়াত তাদের ক্ষেত্রে প্রজোয্য হবে যারা কিনা চাঁদই দেখেনি। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তোমরা চাঁদ দেখে রোযা রাখ, চাঁদ দেখে রোযা ভঙ্গ কর। মক্কার অধিবাসীগণ যদি চাঁদ দেখে তবে পাকিস্তান বাংলাদেশ এবং তার পূর্ববর্তী এলাকার অধিবাসীদের কিভাবে আমরা বাধ্য করতে পারি যে তারাও সিয়াম পালন করবে? অথচ আমরা জানি যে, তাদের আকাশে চাঁদ দেখা যায়নি। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সিয়ামের বিষয়টি চাঁদের সাথে সংশ্লিষ্ট করে দিয়েছেন। যুক্তিগত দলীল হচ্ছে, বিশুদ্ধ ক্বিয়াস যার বিরোধীতা করার অবকাশ নেই। আমরা ভাল ভাবে অবগত যে, পশ্চিম এলাকার অধিবাসীদের আগেই পূর্ব এলাকার অধিবাসীদের নিকট ফজর উদিত হয়। এখন পূর্ব এলাকায় ফজর উদিত হলে কি আমরা পশ্চিম এলাকার লোকদের বাধ্য করব একই সাথে খানা-পিনা থেকে বিরত হতে? অথচ তাদের ওখানে এখনও রাতের অনেক অংশ বাকী আছে? উত্তরঃ কখনই না। সূর্য যখন পূর্ব এলাকার অধিবাসীদের আকাশে অস্তমিত হয়, তখন পশ্চিম এলাকার দিগনে তো সূর্য দেখাই যাচ্ছে তাদেরকে কি আমরা ইফতার করতে বাধ্য করব? উত্তরঃ অবশ্যই না। অতএব চন্দ্রও সম্পূর্ণরূপে সূর্যের মতই। চন্দ্রের হিসাব মাসের সাথে সংশ্লিষ্ট। আর সূর্যের হিসাব দিনের সাথে সংশ্লিষ্ট। “অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাসে উপস্থিত হবে, সে যেন সিয়াম পালন করে।” যুক্তি ও দলীলের নিরীখে সিয়াম ও ইফতারের ক্ষেত্রে প্রত্যেক স্থানের জন্য আলাদা বিধান হবে। যার সম্পর্ক হবে বাহ্যিক আলামত বা চিহ্ন দ্বারা যা আল্লাহ তাআলা কুরআনে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সুন্নাতে নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আর তা হচ্ছে চাঁদ প্রত্যক্ষ করা এবং সূর্য বা ফজর প্রত্যক্ষ করা। আপনার প্রশ্ন বাংলাদেশের কিছু মানুষ অাজকেই ঈদ পালন করছে! কিন্তু অাজকে তো সৌদিতে ঈদ। ইসলাম একে সমর্থন করে কি? জনাব! সাহাবাগণ তাঁরা উদয়স্থলের পার্থক্য মেনে নিয়ে শাম দেশের চাঁদের খবর নিয়ে মদিনায় ঈদ করেননি। প্রকাশ থাকে যে, যারা সঊদী আরবের সাথে রোযা ঈদ করে থাকেন, তাঁরাও কিন্তু ভুল করেন। কারণ সউদী আরব অন্য দেশের চাঁদ দেখে ঈদ করে না। তাঁর পশ্চিমে আফ্রিকার কোন দেশের চাঁদ দেখে সঊদীরা রোযা ঈদ করেন না। তাহলে উপমহাদেশ থেকে চোখ বুজে সাঊদিয়ার অনুকরণ করলে হাদীসের উপর তাঁদের আমল হয় না।

2886 views Answered

Related Questions

Next steps