প্রায় ২৫০ এর উপরে বিভিন্ন প্রজাতির অ্যালোভেরা রয়েছে। তার মাঝে ৩/৪ ধরনের অ্যালোভেরার আছে যাদের নিরাময়ক গুনাগুন প্রমানিত। তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হচ্ছে মিলার অ্যালোভেরা বা যে অ্যালোভেরা আমরা সবসময় পাই। এর সর্ব মহৈষধীয় গুনের জন্য এটা খাওয়ার এবং ত্বকের ব্যবহারের খুবই উপকারি। বর্তমান সময়ে অ্যালোভেরা আমাদের সবার কাছে একটি পরিচিত নাম তাই এর উপকারিতা সম্পর্কেও আমাদের সবার ধারনা থাকা উচিত।
সৌন্দর্যবর্ধক উপকারিতা
প্রসাধনীতে সাধারণত যেসব প্রসাধনীতে অ্যালোভেরার প্রাকৃতিক পাল্প বা জেল ব্যবহার করা হয় সেই সেগুলো বেশ ভালো মানের হয়। তবে এর তৈরি প্রসাধনী বাজার থেকে কেনার আগে যেটিতে অ্যালোভেরার পাল্পের স্প্রে নয় প্রাকৃতিক পাল্প বা জেল রয়েছে সেটিই বাছাই করতে হবে কারন এই দুটির কার্যকারিতা এবং গুনগত মান সমান নয়। ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরার জেল সব ধরনের ত্বকের জন্য উপযোগী। এটি ত্বকের পুষ্টি সরবরাহ করে, ত্বককে নরম ও মসৃণ করে ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে এবং ইলাস্টিসিটি উন্নত করে। অ্যালোভেরা শুষ্ক ত্বকের জন্য খুবই ভালো কারন এটি ত্বকে ময়েশ্চেরাইজারের কাজ করে। এটি ত্বকের ভেতরে পানির চেয়ে ৩-৪ গুন দ্রুত এবং প্রায় ৭ গুনের বেশি গভীরতায় ত্বকের ভেতরে প্রবেশ করে।এছাড়া এটি অনুজ্জ্বল ত্বককে সজীব ও উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। কোন কোন ক্ষেত্রে ত্বকে অ্যালোভেরা ব্যবহার করা যায়-
- দিনে এবং রাতে ত্বককে আর্দ্র রাখার জন্য
- শীতের সময় ত্বকের ফাটা ও শুষ্কতা প্রতিরোধে
- ম্লান ত্বকের উজ্জলতা এবং ইলাস্টিসিটি ফিরিয়ে আনতে
- ত্বকের বলিরেখা কমাতে
- ত্বকের উজ্জলতা বৃদ্ধিতে
- ত্বকের প্রদাহ ও সংবেদনশীলতা কমাতে
- ওয়াক্স বা সেভ করার পর মসৃণতা আনতে
- পোড়ার দাগ বা সানবার্ন সারাতে
- ব্রণের প্রদাহ সারাতে
স্বাস্থ্য উপকারিতা
হজমতন্ত্রের উন্নতিতে দেহের আভ্যন্তরীণ ভারসাম্য ও হজমক্রিয়ার উন্নতিতে অ্যালোভেরার বেশ ভালো ভূমিকা রয়েছে। এটি অন্ত্রের শ্লৈষ্মিক ঝিল্লীর জ্বালা পোড়া কমিয়ে একে পুনরুজ্জীবিত করে। এছাড়া অ্যালোভেরা যকৃতের কোষকে পুনরুজ্জীবিত করতেও সাহায্য করে। হৃদ সংবহনতন্তের সুরক্ষায় অ্যালোভেরাতে থাকা কোলিন নামক উপাদান কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রনে সাহায্য করে। এটি রক্তের তারল্য বাড়িয়ে এবং বাড়তি অক্সিজেন সরবরাহের মাধ্যমে রক্তচাপ কমায়। এটি রক্তের প্লেটলেট অ্যাগ্রিগেশন কমায় এবং রক্তনালীগুলোকে প্রসারিত করে। এছাড়া এটি ক্ষতিগ্রস্ত রক্তনালীতেও রক্ত ধরে রাখতে সাহায্য করে। পেশী ও কঙ্কালতন্তের সুরক্ষায়এটি হাড় ও তরুণাস্থিকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া এটি মেরুদণ্ডের ও বাতের ব্যাথা কমাতে বেশ ভালো ভূমিকা রাখে।দেহেরসুরক্ষায় দেহের সমস্ত অঙ্গের সুরক্ষায় অ্যালোভেরা কাজ করে। এটি অ্যালার্জি, জীবাণু সংক্রমণ, ফাঙ্গাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকে দেহকে রক্ষা করে। এটি দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে প্রয়োজনে উদ্দীপিত করে, সুরক্ষা দেয় এবং নিয়ন্ত্রণ করে। এইসব শারীরিক সৌন্দর্যবর্ধক ও ভেষজ গুনাগুন ছাড়াও অ্যালোভেরা একটি শোভাবর্ধক, সহজলভ্য এবং সহজ পরিচর্যার একটি উদ্ভিদ। এছাড়া এর দূষণ বিরোধী গুনাগুনও রয়েছে। লেখিকা শওকত আরা সাঈদা(লোপা) জনস্বাস্থ্য পুষ্টিবিদ এক্স ডায়েটিশিয়ান, পারসোনা হেল্থ খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান(স্নাতকোত্তর)(এমপিএইচ) তথ্য সূত্রঃ কিউর জয়