গলা কেটে হত্যা করা?
2769 views

1 Answers

মুরতাদ বলতে বোঝায়, নিজ ধৰ্ম মত বা পক্ষ ত্যাগকারী ব্যক্তি, বা যে ব্যক্তি নিজ ধৰ্ম ত্যাগ করে অন্য ধৰ্ম গ্রহণ করেছে। তাকে এককথায় ধৰ্মত্যাগীও বলা যায়। অনেকে বলে থাকে যে, কুরআনের কোথাও মুরতাদকে হত্যা করতে হবে, সেরকম স্পষ্ট কোন কথা বলা নেই। এসব ক্ষেত্রে আমি মজা করে একটা প্রশ্ন করি, সুরা নূর হযরত আয়েশা (রাঃ)-কে উদ্দেশ্য করে লেখা হয়েছে সেটা সুরা নূরের কোথায় লেখা আছে? কিংবা মুহাম্মদ (সঃ)-এর বাবা-মার নাম কুরআনের কোথায় লেখা আছে? ইসলাম কি কেবল কুরআনকে অবলম্বণ করে চলে? আজান কুরআনের কোন সুরায় লেখা আছে? আজান তো এক সাহাবির স্বপ্নে পাওয়া বলে দাবী করা হয়।

যাহোক, এরকম লিস্ট আরো লম্বা হবে যেখানে দেখা যাবে ইসলাম ধর্ম কুরআন নির্ভর নয়। এটি মূলত হাদিস নির্ভর। মুসলমানরা তাদের ধর্মীয় নির্দেশ পালন করে হাদিসের রেফারেন্সকে মান্য করে। ইবনে কাসিরসহ প্রখ্যাত সহ ইসলামি পন্ডিতবর্গ কিন্তু দাবী করেছেন কুরআনে মুরতাদ হত্যা করার কথা বলা হয়েছে। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে, "যারা আল্লাহ ও তার রাসুলের বিরুদ্ধে দুশমনিতে লিপ্ত হয় এবং পৃথিবীতে অশান্তি ও বিপর্যয় সৃষ্টির পাঁয়তারা করে, তাদের শাস্তি কেবল মৃত্যুদন্ড, শূলিবিদ্ধ করে হত্যা কিংবা হাত পা বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলা অথবা নির্বাসিত করা (কারাগারে নিক্ষেপ করা)। এ তো হল তাদের পার্থিব অপমান, আর পরকালেও তাদের জন্য অপেক্ষা করছে মর্মন্তুদ শাস্তি। (মায়েদা, আয়াত নং ৩৩)।

ইসলামী পন্ডিত-তাফসিরকারকরা বলেন, মায়দার এই আয়াত অনুসারে ‘মুহারিব ও মুফসিদ (বিপর্যয় সৃষ্টিকারী) এর মাঝে সবচে’ মারাত্মক হল যারা দ্রোহের ঘোষণা দিয়ে ইসলাম ত্যাগ করে তাদেরকে হত্যা করতে হবে। এদেরকেই পিছন থেকে হাত-পা কেটে ফেলতে হবে, শূলে চড়িয়ে হত্যা করতে হবে। নবীজি নিজে একদল উট চোর মুরতাদদের সাজা দিয়েছিলেন। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া মায়দার ৩৩ নম্বর আয়াত সম্পর্কে লিখেছেন, ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ দু’ভাবে হতে পারে। একটা অস্ত্রের মাধ্যমে আরেকটা যবানের মাধ্যমে। আর দ্বীনী বিষয়ে কখনো কখনো অস্ত্রের যুদ্ধের চে’ যবানের যুদ্ধ মারাত্মক হয়ে থাকে।


এজন্য নবী করিম (সঃ) অস্ত্রের যুদ্ধে লিপ্ত অনেককে বেঁচে থাকার সুযোগ দিতেন, কিন্তু আল্লাহ ও তার রাসুলের বিরুদ্ধে যবানি দুশমনিতে লিপ্ত কাউকে ক্ষমা করতেন না। তেমনি পৃথিবীর শান্তি শৃংখলা কখনো অস্ত্র বিস্তারের কারণে বিনষ্ট হয় আর কখনো হয় যবান দরাজির কারণে। আর দ্বীনি বিষয়ে যবান দরাজির মাধ্যমে যে বিশৃংখলা সৃষ্টি হয়, তা অস্ত্রের মাধ্যমে সৃষ্ট বিশৃংখলার চে বহু গুণে মারাত্মক। (আছ ছা-রিমুল মাছলূল, পৃষ্ঠা নং ৩৯১)।


পবিত্র কুরআনের সুরা মায়িদার ৩৩ নম্বর আয়তসহ প্রচুর হাদিস থেকে নিশ্চিত হয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ ইমাম (চার মাজহাবের সবাই) রায় দিয়েছেন ইসলাম মতে ইসলাম ত্যাগীর শাস্তি তাকে হত্যা করে ফেলতে হবে। সবশেষে মুরতাদ হত্যার সপক্ষে একটা সহিহ হাদীস বর্ণিত হয়েছে, হাদীসটি হলোঃ "ইকরিমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আলী (রাঃ)-এর নিকট কয়েকজন মুরতাদ-যিন্দীককে ধরে আনা হল। তিনি তাদের পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দিলেন। এ-খবর ইবনে আববাস (রাঃ)-এর নিকট পৌঁছলে তিনি বললেন, আমি হলে পুড়িয়ে হত্যা করার আদেশ দিতাম না। কেননা রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, তোমরা আল্লাহ পাকের শাস্তি দানের বস্ত্ত (আগুন) দ্বারা শাস্তি দিও না।’ আমি বরং এদেরকে হত্যা করতাম। কেননা, আল্লাহর রাসুল বলেছেন, যে নিজের দ্বীন পরিবর্তন করবে, তাকে হত্যা করে ফেলবে।’ (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৯২২), (তিরমিযী, হাদীস নং ১৪৫৮), (আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৩৫১), (মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং ১৮৭১)।

জনাব, উক্ত ব্যপক আলোচনার দিক থেকে আমরা খুব সহজেই বুঝতে পাই, মুরতাদ ব্যক্তির শাস্তি হল একেবারে মৃত্যুদন্ড। 

2769 views

Related Questions