হস্তমৈথুন করা সম্পর্কে ইসলামিক যুক্তি কি?
1 Answers
ইসলাম ও হস্তমৈথুন: হস্তমৈথুন বা Masturbation বা স্বমেহন বর্তমানে একটি বড় সমস্যার নাম। হস্তমৈথুন নিয়ে ইসলামী পণ্ডিতগণের মধ্যে বিভিন্ন মত রয়েছে। পবিত্র কুরআনে সরাসরি হস্তমৈথুন নিয়ে কিছু বলা হয় নি, তবে কিছু হাদিসে তা পরোক্ষভাবে উল্লেখ হলেও তা সরাসরি বা স্পষ্টভাবে নির্দেশিত হয় নি অথবা হাদিসের বিশুদ্ধতা নিয়ে দ্বিমত রয়েছে। তবে এটা ঠিক যে, যেহেতু ইসলামে কেবল স্বামী এবং স্ত্রীর মধ্যকার যৌনক্রিয়া ও শারীরিক মিলন অনুমোদিত এবং বিবাহ বহির্ভুত অবস্থায় যৌনাঙ্গের হেফাজতের নির্দেশ রয়েছে। তাই, সাধারণভাবে হস্তমৈথুন ইসলামে অনুমোদিত নয়। প্রায় সকল মুসলিমই এটাকে গর্হিত কুকর্ম মনে করেন, এমনকি যারা এতে অভ্যস্ত তারাও।
হস্তমৈথুন এমনই একটি কাজ যার অর্থ নিজেকে কলুষিত করা। এটা একটা জঘন্য কলুষ বা পাপবোধ যুক্ত কাজ। হস্তমৈথুন এমনই গর্হিত বা গোপনীয় পাপ যা মানুষ চোরের মত মানবচক্ষুর অন্তড়ালে করে এবং তা প্রকাশ করতে লজ্জাবোধ করে।
*** যৌনাঙ্গের হেফাযত করা আল্লাহর নির্দেশ:
আল্লাহ তা’আলার দেয়া বীর্যক্ষয় করার জন্য যে ব্যক্তি হস্তমৈথুনের চর্চা করে বা অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, তখন তার সেই অঙ্গ পরকালে সাক্ষী দেবে। আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ ﺍﻟْﻴَﻮْﻡَ ﻧَﺨْﺘِﻢُ ﻋَﻠَﻰٰ ﺃَﻓْﻮَﺍﻫِﻬِﻢْ ﻭَﺗُﻜَﻠِّﻤُﻨَﺎ ﺃَﻳْﺪِﻳﻬِﻢْ ﻭَﺗَﺸْﻬَﺪُ ﺃَﺭْﺟُﻠُﻬُﻢ ﺑِﻤَﺎ ﻛَﺎﻧُﻮﺍ ﻳَﻜْﺴِﺒُﻮﻥَ [ ٣٦:٦٥ ]
“সেই দিন আমি তাদের মুখের উপর মোহর মেরে দেব, বরং তাদের হাত আমার সাথে কথা বলবে, আর তাদের পা সাক্ষ্য দেবে যা তারা অর্জন করত সে-সন্বন্ধে। ” -(৩৬:৬৫)
এছাড়াও আল্লাহ্ তা'য়ালা আরও বলেন,
"মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গর হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন। ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে।" (২৪:৩০-৩১)
হাদীস শরীফে বলা আছে,
রসূলুল্লাহ্ (সঃ) বলেছেন-“যে ব্যক্তি আমাকে তার দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী জিনিস (জিহ্বার) এবং দুইপায়ের মধ্যবর্তী জিনিস (যৌনাঙ্গের) নিশ্চয়তা (সঠিক ব্যবহারের) দেবে আমি তার বেহেশতের নিশ্চয়তা দিব । ” –(বুখারী, মিশকাত)
উক্ত হাদিস থেকে প্রমানিত হচ্ছে, এ দু’টো অঙ্গ পাপের জন্য খুব সুবিধার। যদি কোন ব্যক্তি এ দু’টো অঙ্গের হেফাজত করে, বিশেষ করে যুবক/যুবতী অবস্থায় যৌনাঙ্গের হেফাজত করে এবং কোন প্রকারেই হস্তমৈথুনের চেষ্টা না করে তাহলে সে জান্নাতে প্রবেশের বিরাট সুযোগ পেয়ে যাবে।
একদা রসূলুল্লাহ্ (সঃ) যুবকদের লক্ষ্য করে বলেন, "হে যুবকেরা! তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহের দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা রাখে, তাদের বিবাহ করা উচিত। কেননা বিবাহ দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হিফাজত করে। আর যে বিবাহের দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা রাখে না, তার উচিত (কামভাব দমনের জন্য) রোযা রাখা।” -(বুখারী, মুসলিম, মিশকাত)
রসূলুল্লাহ্ (সঃ) আরও বলেনঃ “তিন ব্যক্তিকে সাহায্য করা আল্লাহ তা’আলা নিজের দায়িত্ব মনে করেন। (১) ঐ খতদাতা ব্যক্তি, যে তার খতের মূল্য পরিশোধের চেষ্টা করে। (২) সে বিবাহিত যুবক, যে চরিত্রের হিফাজতের উদ্দেশে বিবাহ করে। (৩) সে মুজাহিদ, যে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে।” -(হাসানঃ আত-তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ, মিশকাত)
তাই পুরুষদের যৌনাঙ্গকে শুধুমাত্র স্বীয় স্ত্রী ব্যতীত সর্ববস্থায় হেফাযত করতে হবে।
*** ইসলামে হস্তমৈথুন হারাম ?
"মুমিনগণ সফলকাম হয়ে গেছে, যারা নিজেদের নামাযে বিনয়-নম্র; যারা অনর্থক কথা-বার্তায় নির্লিপ্ত, যারা যাকাত দান করে থাকে এবং যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে। তবে তাদের স্ত্রী ও মালিকানাভুক্ত দাসীদের ক্ষেত্রে সংযত না রাখলে তারা তিরস্কৃত হবে না। অতঃপর কেউ এর বাইরে কামনা করলে তারা সীমালংঘনকারী হবে।" (২৩:১-৭)
আয়াতে এটা সুস্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে যে, স্ত্রী ছাড়া আর কারো দ্বারা বা কোন কিছুর দ্বারা যৌন কামনা জাগ্রত বা চরিতার্থ করা সীমালংঘন তথা হারাম। তাই আমাদের বুঝতে হবে যে, নারীর সাথে বিবাহ-বহির্ভূত যৌনকর্ম করা যেমন হারাম, তেমনি হস্তমৈথুন করাও ইসলামে নিষিদ্ধ বা হারাম।
রসূলুল্লাহ্ (সঃ) আরও বলেনঃ “ উত্তম চরিত্র হল পুন্য। আর যে কাজ তোমার মনে খটকা সৃষ্টি করে এবং লোকের কাছে প্রকাশ হওয়াকে তুমি পছন্দ কর না, তা হল পাপ।” -(মুসলিম, মিশকাত)
অশালীন, অশোভনীয় ও অন্যায় কাজে মনে সঙ্কোচবোধ করার নাম হলো লজ্জা বা হায়া। যার লজ্জা নেই সে পারে হস্তমৈথুনে লিপ্ত হতে।\
লজ্জা বা হায়া সম্পর্কে
রসূলুল্লাহ্ (সঃ) বলেনঃ “ লজ্জাশীলতা কল্যাণই বয়ে আনে।” -(বুখারী ও মুসলিম)
মোটকথা, ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে স্ত্রী ছাড়া যৌনকর্ম সম্পাদনের যত উপায় আছে তার সবকিছুই পরিত্যাগ করতে হবে। তাই যৌনাঙ্গকে সংযত করার আল্লাহর নির্ধারিত উপায় হচ্ছে, ধৈর্যধারণ করা। যদি এটিও সম্ভব না হয়, তবে তার উচিত বিবাহ করা বা রোজা রাখা।
শায়েখ আব্দুল্লাহ এর এই ভিডিও দেখলে আপনি আরো ভালো ধারণা পাবেন।