3 Answers
কাল জিরার অপকার বলতে কিছুই নেই। কালজিরা একটি উপকারী ঔষধ। কালজিরা কে সকল রোগের মহা ঔষধ বলা হয়। মহানবী (সাঃ) কালিজিরা খেতেন।
এক কথায় বলতে গেলে কালজিরা হচ্ছে সকল রোগের মহা ঔষধ। সবধরণের রোগের চিকিৎসা কালজিরায় আছে। পরিমাণ মত খেলে এর কোনো অপকারিতা নেই।
কালোজিরার কোন অপকার নেই।তবে এর উপকারগুলো জেনে নিন। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) বলেছেনঃ→↓← “তোমরা কালোজিরা ব্যবহার করবে, কেননা এতে একমাত্র মৃত্যৃ ব্যতীত সর্বরোগের মুক্তি এতে রয়েছে”। তিরমিযী,বুখারী,মুসলিম থেকে নেয়া। হযরত কাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছেঃ→↓← “প্রতিদিন ২১টি কালোজিরার ১টি পুটলি তৈরী করে পানিতে ভিজাবে এবং পুটলির পানির ফোঁটা এ নিয়মে নাশারন্দ্রে (নাশিকা, নাক) ব্যবহার করবেঃ→↓← “১ম বার ডান নাকেরছিদ্রে ২ ফোঁটা এবং বাম নাকের ছিদ্রে ১ ফোঁটা। দ্বিতীয়বার বাম নাকের ছিদ্রে ২ ফোঁটা এবং ডান নাকের ছিদ্রে ১ ফোঁটা। তৃতীয়বার ডান নাকের ছিদ্রে ২ ফোঁটা ও বাম নাকের ছিদ্রে ১ ফোঁটা।” হযরত আনাস (রাঃ) বর্ণনা করেনঃ→↓← “নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেনঃ→↓← যখন রোগ-যন্ত্রণা খুব বেশী কষ্টদায়ক হয় তখন এক চিমটি পরিমাণ কালোজিরা নিয়ে খাবে তারপর পানি ও মধু সেবন করবে।” – মুজামুল আওসাতঃ তাবরানী। গুনাগুন জেনে নিতে দোষ কী? আমাদের জন্য কি কি ঔষধী গুণ আছে এই কালোজিরাতে (নবীর উপরে আর কোন কথা থাকে না। তারপরও এর ব্যবহার বা উপকারিতাগুলো জেনে নিলে ভালো হয়।) আর ভালো কালোজিরা বাছাই করে ব্যবহার করুন। কালজিরার গুনাগুণঃ→↓← চির যৌবনঃ→↓← ১৫/১৬ টি কালজিরা ছোট ১টি পিয়াজ ও ২ চামচ মধু সহ বিকালে/রাতে খেলে চির যৌবন রক্ষা হয়। ডায়াবেটিসের উপকারঃ→↓← সকালে খালিপেটে ১২/১৩ ফোঁটা কালজিরার তেল ও ১৫/১৬ ফোঁটা মধু খেলে ডায়াবেটিসের উপকার হয়। বাত রোগের উপকারঃ→↓← ১০/১২ ফোঁটা কালজিরার তেল গরম পানিতে মিশিয়ে খেলে বাত রোগের উপকার হয় । জেনে নেয়া যাক আরো কিছু গুনাগুনঃ→↓← কালোজিরার তেল ও আমাদের শরীরের জন্য নানাভাবে উপকারী। কালোজিরার তেলে ১০০ টিরও বেশী উপযোগী উপাদান আছে।এতে আছে প্রায় ২১ শতাংশ আমিষ,৩৮শতাংশ শর্করা এবং ৩৫ শতাংশ ভেষজ তেল ও চর্বি। ০১) শ্বাস কষ্ট বা হাঁপানিঃ→↓← যারা শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য কালোজিরা অনেক বেশী উপকারী। প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় কালোজিরার ভর্তা রাখুন। কালোজিরা হাঁপানি বা শ্বাস কষ্টজনিত সমস্যা উপশম হবে। এক চা চামচ কালোজিরার তেল, এক কাপ দুধ বা রং/লিকার চায়ের সাথে দৈনিক ৩ বার করে খেলে শ্বাস কষ্ট থেকে পরিত্রান পাওয়া যায়। ০২) ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রনেঃ→↓← ডায়াবেটিক রোগের উপশমে বেশ কাজে লাগে এই কালোজিরা। এক গ্লাস পানির সাথে এক চিমটি কালোজিরা প্রতিদিন সাকালে খালি পেটে খেয়ে দেখুন, রক্তে গ্লুকোজের পরিমান নিয়ন্ত্রণে খাকবে।এছাড়া এক চা-চামচ কালোজিরার তেল এক কাপ লিকার/রং চা বা গরম ভাতের সাথে মিশিয়ে দৈনিক ২বার নিয়মিত খেলে ডায়াবেটিকস নিয়ন্ত্রন হবে একশত ভাগ। ০৩) জৈবশক্তি বৃদ্ধিতেঃ→↓← প্রতিদিন কালোজিরা খাবারের সাথে খেলে পুরুষের স্পার্ম সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং পুরুষত্বহীনতা থেকে মুক্তিলাভ করা যায়।কালোজিরা নারী-পুরুষ উভয়ের যৌনক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ০৪) স্মরণ শক্তি বৃদ্ধিতে কালোজিরাঃ→↓← এক চা-চামচ পুদিনা পাতার রস বা এক কাপ লিকার/রং চায়ের সাথে এক চা-চামচ কালোজিরার তেল মিশিয়ে দিনে তিনবার করে খেলে স্মরণ শক্তি বৃদ্ধি পায়, দুশ্চিন্তা দুর করে এবং মেধার বিকাশে দ্বিগুন কার্যকর।মস্তিস্কের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধির মাধ্যমে স্মরণ শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। ০৫) চুল পড়া রোধে মহাঔষধঃ→↓← কালোজিরা খেয়ে যান আপনার চুল পর্যাপ্ত পুষ্টি পাবে, ফলে চুল পড়া বন্ধ হবে।আরো ভাল ফল পেতে প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর পূর্বে চুলের গোড়ায় এর তেল ভালভাবে মালিশ করতে থাকুন। ০৬) মাথাব্যাথা নিরাময়েঃ→↓← এক চা-চামচ কালোজিরার তেল সমপরিমান মধুসহ ভাল করে মিক্স করে দিনে তিনবার নিয়মিত খেলে এবং আর্ধেক চা-চামচ কালোজিরার তেল মাথায় ভালভাবে মালিশ করলে মাথাব্যাথা দুর হয়। ০৭) অতিরিক্ত মেদ বা চর্বি কমাতেঃ→↓← এক চামচ মধু এর সাথে আর্ধেক চা-চামচ কালোজিরা সকালে খালি পেটে নিয়মিত খাওয়ার আভ্যাস করলে আপনার শরীরের আতিরিক্ত মেদ কমে যাবে ইনশাআল্লাহ। ০৮) ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতেঃ→↓← ত্বকের গঠনের উন্নতি ও ত্বকের প্রভা বৃদ্ধির জন্য কালোজিরা অতুলনীয়।এতে লিনোলেইক ও লিনোলেনিক নামের এসেনশিয়াল ফ্যাটি এসিড থাকে যা পরিবেশের প্রখরতা, স্ট্রেস ইত্যাদী থেকে আপনার ত্বককে রক্ষা করে এবং ত্বককে সুন্দর ও তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। ০৯) ঠান্ডা-সর্দি ভাল করাতেঃ→↓← ঠান্ডা-সর্দি সারাতে কালোজিরা অনেক প্রাচীন কাল থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে।এক চা-চামচ কালোজিরার তেল সমপরিমান মধু বা এক কাপ লিকার/রং চা এর সাথে মিশিয়ে দৈনিক ৩বার খেলে ঠান্ডা থেকে দ্রুত মুক্তি লাভ করা যায়।আবার এক চা-চামচ কালোজিরার সাথে ৩ চা-চামচ মধু ও ২ চা-চামচ তুলসী পাতার রস মিশিয়ে খেলে জ্বর,সর্দি-কাশি থেকে দ্রুত আরোগ্য লাভ করা যায়। ১০) হার্টের বিভিন্ন সমস্যার ক্ষেত্রেঃ→↓← কালোজিরা নিয়মিত সকাল-সন্ধ্যা খাওয়ার অভ্যাস করলে হার্টের বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ১১) অনিয়মিত মাসিক বা মেহ/প্রমেহ থেকে মুক্তিঃ→↓← এক কাপ কাঁচা হলুদের রসের সাথে এক চা-চামচ কালোজিরার তেল মিশিয়ে দৈনিক ৩বার করে নিয়মিত খেলে এ থেকে মুক্তি নিশ্চিত। ১২) দুগ্ধ দানকারিনী ”মা” দের দুধ বৃদ্ধির জন্যঃ→↓← যেসব মায়েদের বুকে পর্যাপ্ত দুধ নেই তাদের জন্য এই কালোজিরা মহাঔষধ ১৩) উচ্চরক্তচাপঃ→↓← যখনই কোন গরম পানীয় বা চা পান করবেন তখনই কালোজিরা কোন না কোনভাবে সাথে খাবেন।গরম ভাতের সাথে কালোজিরার ভর্তা অতুলনীয় । ১৪) জন্ডিস বা লিভারের বিভিন্ন সমস্যার ক্ষেত্রেঃ→↓← একগ্লাস ত্রিফলার শরবতের সাথে এক চা-চামচ কালোজিরার তেল দিনে ৩বার করে খেলে লিভারের সমস্যা থেকে পরিত্রান পাওয়া যায়। ১৫) শিশুর দৈহিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশে কালোজিরাঃ→↓← দুই বছরের অধিক বয়সী শিশুদের কালোজিরা খাওয়ার অভ্যাস করলে শিশুর দ্রুত দৈহিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশ ঘটে। শিশুর মস্তিষ্কের সুস্থতা ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতেও অনেক কার্যকর এই কালোজিরা।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy