4 Answers
সুখী থাকতে কে না চায়? আর সুখী থাকতে কত জনই বা পারে? বিশেষজ্ঞদের মতে, সুখের কোনো নির্দিষ্ট ফর্মুলা নেই। যেকোনো উপায়ে মানুষ সুখের সন্ধান পেতে পারে। তাই সুখের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি খুঁজতে আগ্রহী অনেকে। তাই বিজ্ঞান সমর্থিত উপায়ের সন্ধান করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এখানে জেনে নিন দাম্পত্যজীবনকে সুখী করার ১৪টি বৈজ্ঞানিক উপায়ের কথা।
১. ২০১৪ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যে সকল দম্পতি তাদের সমস্যা মোবাইলে টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে সমাধান করেন তাদের চেয়ে সামনাসামনি আলোচনা অথবা ফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে সমাধানে অভ্যস্ত দম্পতিরা অনেক বেশি সুখী।
২. ২০১২ সালে ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় বলা হয়, যে সকল জুটি তাদের বিশের কোঠায় সম্পর্কের নানা টানাপড়েন সামলে ওঠেন তারা বৈবাহিক জীবনে অনেক সুখী থাকতে পারেন।
৩. আরেক গবেষণায় বলা হয়েছে, যে সকল দম্পতির সন্তান নেই তারা অন্যদের চেয়ে বেশি সুখী।
৪. ২০০৯ সালের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যারা দুজনের কাজকে রুটিনের আওতায় আনেন না, তাদের জীবনে একঘেয়েমি চলে আসে। দুজনের এলোমেলো কাজের সময়সূচি দুজনকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
৫. সংসারের কাজে দুজনই অংশ নিলে দম্পতিদের মধ্যে সংযোগ বাড়ে। এরা অন্যদের চেয়ে বেশি সুখী হন বলে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার এক গবেষণায় বলা হয়েছে।
৬. ২০০৭ সালে রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় বলা হয়, যে দম্পতিরা উভয়ই নারী-পুরুষ সম-অধিকারে বিশ্বাসী তারা অন্যদের চেয়ে বেশি সুখী।
৭. লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, পছন্দ, সেন্স অব হিউমার ইত্যাদি বিষয়ে মিল যত বেশি, সুখের মাত্রাও তত বেশি।
৮. ২০১৩ সালের এক গবেষণায় বলা হয়, যে দম্পতির সোশাল মিডিয়ায় মিচুয়াল বন্ধু থাকে তাদের মধ্যে স্ট্রেস তৈরি হয়। কিন্তু ভিন্ন বন্ধু থাকলে তারা প্রথম দলের চেয়ে বেশি সুখী হন।
৯. ২০০৯ সালে আমেরিকার এক জরিপে বলা হয়, যারা দুজনের উপার্জনকে মিলিয়ে-মিশিয়ে খরচের বাজেট তৈরি করেন, তারা অনেক সুখী। এ ক্ষেত্রে অভিযোগ বা বিতর্ক থাকলে সুখ নষ্ট হয়।
১০. ২০০৪ সালে ‘মানি, সেক্স অ্যান্ড হ্যাপিনেস’ শিরোনামে পরিচালিত গবেষণায় বলা হয়, বেশি বেশি সেক্স বেশি সুখী করবে তা ঠিক নয়। তবে দেখা গেছে, যে দম্পতিরা মাসে এক-দুই বার সেক্স করেন তাদের চেয়ে সপ্তাহে এক সেক্স করা দম্পতিরা বেশি সুখী।
১১. সেক্স যেখানে সুখের শর্ত সেখানে দেখা গেছে, যে দম্পতিরা রয়ে-সয়ে সেক্স উপভোগ করে তাদের মধ্যে সুখের মাত্রা অনেক বেশি।
১২. ২০১০ সালের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যে দম্পতিদের উভয়ই কলেজ পাস করেছেন তারা বেশি সুখী। কিন্তু শিক্ষার খুব বেশি হেরফের থাকলে সুখের মাত্রাও কমে যায়।
১৩. ২০১৪ সালের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, যে দম্পতিরা একে অপরের সফলতাকে মূল্য দেন তারা অন্যদের চেয়ে বেশি সুখী হন।
১৪. ২০০৯ সালে গবেষণায় উঠে এসেছে, যে দম্পতিরা একটু বেশি ঘুমান তারা অন্যদের চেয়ে একটু বেশি সুখী হন। এর ফলে তারা একটু বেশি সময় কাছাকাছি থাকেন এবং এতে ভালোবাসা বাড়ে।
ভালোবাসাই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে হৃদয়ের অটুট বন্ধন। যা সাংসারিক বন্ধন তৈরি করে। ভালোবাসা ছাড়া কোনো সাংসারিক দাম্পত্য জীবন সুখী হতে পারে না। তাই দুজন দুজনের প্রতি মায়া-মমতা ও ভালোবাসা থাকতে হবে। একজনকে বাদ দিয়ে অন্যজনকে কল্পনা করা যায় না। তাই যত বিপত্তি আসুক না কেন দুজন দুজনকে বুঝতে হবে। ছাড় দিতে হবে। আর ভালোবাসা থাকতে হবে। দেখবেন দাম্পত্য জীবনে সুখ কাকে বলে। আসুন জেনে নেই দাম্পত্য জীবনে সুখে থাকার ৫ উপায় । ১. মনের মিল : দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মনের মিল। মনের মিল না থাকলে সংসার জীবনে সুখী হওয়া যায় না। আর সবসময় মনের মিল না-ও হতে পারে। তাই বলে অন্য কারও তুলনা টেনে আনবেন না। এতে হীনম্মন্যতায় ভুগতে পারেন সঙ্গী। যে কোনো সমস্যায় দুজনে খোলাখুলি কথা বলুন। পরস্পরের পছন্দ–অপছন্দও জেনে নিন এবং গুরুত্ব দিন দেখবেন সুখেই কাটছে সংসার। ২. জোর করবেন না : আপনার স্ত্রীকে শারীরিক ঘনিষ্ঠতায় জোর করবেন না বা কোনো কিছু চাপিয়ে দেবেন না। অনেকেই মুখ ফুটে নিজের চাহিদার কথা বলতে পারেন না। ঠাণ্ডা মাথায় কথা বলুন। বুঝে নিন ঠিক কী চান তিনি। ৩. বিশেষ দিনে উপহার : বিশেষ দিন যেমন, বিবাহবার্ষিকী, জন্মদিন। এই দিন গুলোতে বিশেষ আয়োজন রাখতে পারেন। এছাড়া উভয়ে নিজেদের উপাহার দিতে পারেন। এত সংসার হবে আনন্দময়। ৪. ভুল বোঝাবুঝি : সংসার জীবনে ভুল বোঝাবুঝি, ঝগড়া হতে পারে। নিজেদের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা করুন। ততে ভুল বোঝাবুঝির অবসান হবে। আর মনের মধ্যে কষ্ট চেপে রাখবেন না। এতে সঙ্গীর প্রতি বিশ্বাস কমে যায়। ৫. সঙ্গীর পছন্দকেও গুরুত্ব দিন : স্বামী বা স্ত্রী দুজন দুজনের পছন্দের গুরুত্ব দিন। সব সময় নিজেকে নিয়ে ভাববেন না। ব্যস্ত থাকলেও, কাজের মধ্যে সময় বের করে খবর নিন। ভালোবাসা যেন শরীরসর্বস্ব না হয়। বরং মন জয় করুন। ৬. সপ্তাহে একদিন ঘুরতে যান : দাম্পত্য জীবনে সুখে থাকার অন্য আরেকটি উপায় হচ্ছে ঘুরে বেড়ানো। কারণ সারা সপ্তাহ কাজ করে মন ও শরীর ঠিক রাখতে এবং রোমাঞ্চ করেত সঙ্গীর সঙ্গে ঘুরে বেড়াতে পারেন। একসঙ্গে কোথাও যাওয়ার হলে, বারবার দেরি করার অভ্যাস ছাড়ুন। এতে তিক্ততা তৈরি হয়। ৭. হঠাৎ পরিবর্তন : হঠাৎ আপনার স্বভাব হোক বা সাজগোজ যাই হোক না কেন, জোর করে কিছু পাল্টে ফেলার চেষ্টা করবেন না। আরোপিত কোনো কিছুই দীর্ঘস্থায়ী হয় না। এত করে সংসারের শান্তি নষ্ট হয়। তাই সবকিছুর মধ্যে সংযত ভাব আনুন।
বিশ্বাস মানুষের জীবণকে সুন্দর আশ্বাসময় গঢ়ে তুলে। এছাড়া একে আপরের প্রতি গভীর ভালবাসা থাকা উচিত।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy