আমি দিনে ২থেকে ৩লিটার পানি পান করি কিন্তু প্রসাব করি ১০থেকে ১২ বার।এটা কিসের লক্ষণ।ডায়াবেটিকস হলে সেক্সের কি সমস্যা হয়।
3069 views

2 Answers

অধিক প্রস্রাব মানেই ডায়াবেটিস নয়। আমরা ডায়াবেটিসের প্রথম ও প্রধান লক্ষণ হিসেবে ঘন ঘন প্রস্রাব হাওয়াকে মনে করি।একজন পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তি দিনে চার থেকে আটবার মূত্রত্যাগ করে থাকেন। স্বাভাবিক অবস্থায় কোনো পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির প্রস্রাবের পরিমাণ ২৪ ঘণ্টায় তিন লিটার বা এর অধিক হলে তাকে অস্বাভাবিক হিসেবে গণ্য করা হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে, পলিইউরিয়া বলা হয়। সাধারনত ঘন ঘন প্রশ্রাবের কারন হল, বেশি করে পানি পান করা।।ডায়াবেটিক হলে যৌন মিলনে অক্ষমতা দেখা দিবে।।
ডায়াবেটিসের লক্ষণ: 
১। বারবার প্রস্রাব করা, বিশেষ করে প্রস্রাবের কারনে রাতে ঘুম ভেঙ্গে যাওয়া। ২। অতিরিক্ত পানির তৃষ্ণা পাওয়া ও মুখ শুকিয়ে যাওয়া। ৩। ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া। ৪। কোন কারন ছাড়াই হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া। ৫। সামান্য পরিশ্রমেই ক্লান্তি ও অবসাদ বোধ হওয়া। ৬। কোন কাজের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়া, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া ও মনোসংযোগে চিড় ধরা। ৭। হাতে অথবা পায়ে অসাড়তা অনুভব করা বা শির শির করা। ৮। চোখে ঝাপসা দেখা। ৯। বারবার সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়া। ১০। শরীরের যেকোন ক্ষত শুকাতে দেরী হওয়া। ১১। মাঝে মাঝেই বমি বা পেট ব্যাথা হওয়া যা অনেক সময় খাদ্যনালীর রোগ মনে করে ভুল হতে পারে।
3069 views

শরীরে ইনসুলিন নামের হরমোনের অভাব ঘটলে, ইনসুলিনের কাজের ক্ষমতা কমে গেলে অথবা উভয়ের মিলিত প্রভাবে রক্তে যদি শর্করার পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায় তখন তাকে ডায়াবেটিস বলে। আধুনিক শহুরে জীবনে ডায়াবেটিস একটি সর্বজনীন সমস্যা। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট ডায়াবেটিস কেয়ার জানিয়েছে ডায়াবেটিসের কিছু লক্ষণ। আসুন জেনে নিই লক্ষণগুলো। ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া এবং পিপাসা লাগা ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া ডায়াবেটিসের একটি অন্যতম লক্ষণ। রক্তে শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে কিডনি প্রস্রাবের মাধ্যমে সেটি বের করে দিতে চায়। এর ফলে ঘন ঘন প্রস্রাব হয়। এ সময় পানির তেষ্টাও বেড়ে যায়। ঘন ঘন প্রস্রাবের ফলে শরীরে পানির চাহিদা বাড়ে, তাই পিপাসাও বেড়ে যায়। ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া শরীরে যখন ইনসুলিনের মাত্রা কমে যায়, তখন শরীর শর্করা ধরে রাখতে পারে না। শরীরে শর্করা প্রয়োজন হয় শক্তি জোগাতে। যখন শর্করার অভাব হবে তখন শরীরের শক্তি হ্রাস পায়। ফলে ক্যালরির চাহিদা বেড়ে গিয়ে অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগে। ক্লান্তি ও অবসাদগ্রস্ত ভাব ক্ষুধার চাহিদা বাড়ার ফলে শরীর দুর্বল, ক্লান্ত ও অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে। যেহেতু এ সময় শরীর শর্করার সামঞ্জস্য বজায় রাখতে পারে না, তাই এই সমস্যাগুলো হয়। মাত্রাতিরিক্ত ওজন হ্রাস ডায়াবেটিসের আরেকটি উল্লেখযোগ্য লক্ষণ হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত ওজন হ্রাস। এ সময় রক্তে শর্করার আধিক্য ওজন কমার একটি অন্যতম কারণ। দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে প্রায় ১০ থেকে ২০ পাউন্ড ওজন কমে যায়। তাই শরীরে ওজন মাত্রাতিরিক্ত হ্রাস পেলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। অসাড়তা রক্তে অতিরিক্ত শর্করার ফলে স্নায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে তাই ব্যক্তি অসাড় অনুভব করতে পারে। শুধু তাই নয়, স্নায়ু দুর্বল হলে রক্তচাপ কমে যায়। ফলে মাথা ঘোরাতে পারে, দুর্বল লাগতে পারে। দৃষ্টি ঝাঁপসা হয়ে যাওয়া রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে গেলে চোখে এর প্রভাব পড়তে পারে। যদি চোখের মণি স্ফীত হয় এবং আকারের পরিবর্তন হয় তবে হঠাৎ করে চোখে ঝাঁপসা দেখার সমস্যা হতে পারে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া ডায়াবেটিসের ফলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। রক্তে শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধির কারণে এই ঘটনা ঘটে। ফলে সহজে কোনো রোগ নিরাময় হতে চায় না। ঘন ঘন ইনফেকশন রক্তে শর্করার অসামঞ্জস্যতার ফলে ঘন ঘন বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ (ইনফেকশন) হতে পারে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার ফলে সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। চামড়ায় শুষ্ক, খসখসে ও চুলকানি ভাব আমাদের শরীর ৫০ থেকে ৭৮ ভাগ পানি থাকে। ঘন ঘন প্রস্রাব ও ঘাম হওয়ার ফলে শরীর শুষ্ক হয়ে পড়ে। যার প্রভাব পড়ে ত্বকের ওপর। তাই এ সময় চামড়ায় শুষ্ক, খসখসে এবং চুলকানি ভাব হতে পারে। বিরক্তি দেহে শক্তি কমে যাওয়া এবং ক্ষুধা বৃদ্ধির ফলে সব সময় খারাপ লাগা এবং বিরক্তিবোধ হতে পারে। যেহেতু শরীর শক্তি পায় না এবং কর্মক্ষম থাকে না তাই এটা আপনার মেজাজকে খিটখিটে করতে পারে। এগুলোর মধ্যে যেকোনো একটি লক্ষণ আপনার শরীরে প্রকাশ পেলে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন এবং রক্তে শর্করার পরিমাণ পরীক্ষা করে জেনে নিন আপনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কি না। --- Shariful Islam Razu collected

3069 views