2 Answers
ইকামতে দ্বীন হচ্ছে, তাওহীদ বা একমাত্র আল্লাহ তাআ’লার ইবাদত প্রতষ্ঠিত করা। মহান আল্লাহ তাআ'লা বলেন, “তিনি তোমাদের জন্যে দ্বীনের ক্ষেত্রে সে পথই নিধারিত করেছেন, যার আদেশ দিয়েছিলেন নূহকে, যা আমি প্রত্যাদেশ করেছি আপনার প্রতি এবং যার আদেশ দিয়েছিলাম ইব্রাহীম, মূসা ও ঈসাকে এই মর্মে যে, “আক্বীমুদ-দ্বীন” তোমরা দ্বীনকে কায়েম বা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত কর এবং তাতে অনৈক্য সৃষ্টি করো না।” [সুরা শুরাঃ ১৩ নাম্বার আয়াত] এই দ্বীনকে কায়েম করা বা দ্বীন প্রতিষ্ঠা করার ৩টি স্তর রয়েছে যা “হাদীসে জিব্রাঈল” থেকে পাওয়া যায়। হাদীসে জিব্রাঈলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন, জিব্রাঈল (আঃ) তোমাদেরকে “দ্বীন” শিক্ষা দিতে এসেছিলেন। সেখানে “দ্বীন” এর স্তর হিসেবে ৩টি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছিলোঃ ১ – ইসলাম (শাহাদাতাইন বা ২টি স্বাক্ষী দেওয়া- আল্লাহ ছাড়া আর কোন সত্য মাবূদ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, নামায কায়েম করা, যাকাত দেওয়া, রমযান মাসে রোযা রাখ ও সামর্থ্য থাকলে হজ্জ করা)। ২ – ঈমান (আল্লাহর প্রতি, ফেরেশতাদের প্রতি, আসমানী কিতাবসমূহের প্রতি, নবী-রাসূলদের প্রতি, আখেরাত বা মৃত্যুর পরের জীবনের প্রতি ও তাকদীরের ভালো-মন্দের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা)। ৩ – ইহসান (এমনভাবে ইবাদত করা যেন আমি আল্লাহকে দেখতে পাচ্ছি, এটা না হলে অন্তত এই ধারণা রেখে ইবাদত করা যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে দেখছেন) এইভাবেই একজন ঈমানদার “ইকামাতে দ্বীন” বা দ্বীন কায়েম করবে, আল্লাহর ইবাদত বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে। এখানে সবাইকে নিজ নিজ সীমানার মাঝে জিজ্ঞাসা করা হবে। ঈমানদার হিসেবে কার কতটুকু সীমানা সেটা জেনে নেন এই হাদীস থেকে - রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “জেনে রেখো! তোমাদের প্রত্যেকেই একজন দায়িত্বশীল, আর তোমরা প্রত্যেকেই নিজ অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। অতএব ইমাম, যিনি জনগনের দায়িত্বশীল, তিনি তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন। পুরুষ (গৃহকর্তা) তার পরিবারের দায়িত্বশীল, সে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। নারী তার স্বামীর পরিবার, সন্তান-সন্ততির উপর দায়িত্বশীল, সে এসব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। কোন ব্যক্তির দাস, স্বীয় মালিকের সম্পদের দায়িত্বশীল, সে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। অতএব জেনে রাখ, প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ দায়িত্বাধীন বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। সহিহ বুখারী, খন্ড ৯, অধ্যায় ৮৯, হাদিস নং- ২৫২।
ইকামাত শব্দের অর্থ ডাকা, আহবান করা।আর দ্বীন অর্থ ধর্ম। তবে এখানে ইসলাম। অর্থাৎ পারিভাষিক অর্থ দাড়ায় ইসলামের প্রতি মানুষকে ডাকা বা আহবান করা। আপনি এটা অনেক ভাবেই আদায় করতে পারেন। যেমন মানুষকে ইসলাম ধর্মের পরিচয় দিয়ে তাদেরকে এ ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট করতে পারেন। তাছাড়া যারা ফাসেক বা মুশরিক তাদেরকেও ইসলামে পুরোপুরি প্রবেশ করার দাওয়াত দিতে পারেন। বিভিন্ন ইসলামিক অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যেমে আপনি দ্বীন কায়েম এবং ইকামতে দ্বীন আদায় করতে পারেন।