1 Answers
গর্ভনিরোধক পিল ব্রিটেলে চালু হয় ১৯৬১ সালে। এর পর থেকেই নারীদের যৌন জীবন চিরতরে বদলে গেছে। বর্তমানে এটি ব্রিটেনের নারীদের জীবনের সাধারণ বিষয়গুলোর একটি হয়ে গেছে। পাঁচ যুগ পর আজ জন্মনিয়ন্ত্রক পিল নারীদের জীবনের সবচেয়ে সমস্যা সংকুল বিষয়গুলোরও একটি হয়ে গেছে। ব্রিটিশ প্রেগনেন্সি অ্যাডভাইজরি সার্ভিস (বিপাস) এক জরিপের মাধ্যমে জানায়, তাদের জরিপকৃত দেড় লাখ নারীদের এক-তৃতীয়াংশ কোনো পিল গ্রহণ করেন না। এদের মধ্যে রয়েছেন ১৫ বছর থেকে ২৪ বছরের মধ্যে। পাশাপাশি বর্তমানের বয়স্ক নারীরাও এ সাবধাণতাকে বাতাসে উড়িয়ে দিয়েছেন। এসব পিল না খাওয়ার পেছনে রয়েছে অনীহা, অজ্ঞতা এবং দুশ্চিন্তা। পিল খাওয়ার কারণ যদি সাবধাণতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তবে নারীদের পিলের প্রতি বর্তমানকালের অনীহাকে সতর্ক সংকেত হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। আধুনিক নারী-পুরুষের জন্মনিরোধনের জনপ্রিয় পদ্ধতিকে বলা হয় 'উইথড্রোয়াল মেথড'। খুবই সহজ ও সাধারণ বিষয়। যৌনতার চরম মুহূর্তে পুরুষের বীর্যপাত নারীর অভ্যন্তরে না ঘটিয়ে বাইরে ঘটাতে হবে। ছেলে-মেয়ে উভয়ই কনডমের ব্যবহার পছন্দ করছেন না। কারণ, তাদের মতে এতে যৌন অনুভূতি পাওয়া যায় না। পিলের নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ভয় দানা বাঁধে মেয়েদের মনে। তাই সবচেয়ে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া যা রয়েছে তা হলো উইথড্রোয়াল মেথড। তবে বড় একটি অংশ রয়েছে যারা এই পদ্ধতিকে যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন। এদিকে, জন্মনিরোধক পদ্ধতি গ্রহণ না করার আরেকটি ঝুঁকিপূর্ণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো মারাত্মক যৌন সংক্রমণ। পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ড পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, ২০১১ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে যৌন সংক্রমণের হার পাঁচ শতাংশ হারে বেড়েছে। এ জরিপ ২৫ বছর থেকে ৪৯ বছর বয়েসের নারীদের তথ্য সংগ্রহ করেছে। যে নারী ১৯৮০ সাল থেকে যৌনকর্ম শুরু করেন তার মাঝে এইডস বিষয়ে ভয় কাজ করে। কিন্তু আধুনিক ছেলে-মেয়েদের মধ্যে এ বিষয়ে সম্ভবত সাবধাণতার অভাব রয়েছে। উইথড্রোয়াল মেথড (বাইরে বীর্যপাত ঘটানো) জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও এ কারণে গর্ভপাতের সংখ্যা বেড়ে গেছে। আর কম বয়সীদের গর্ভপাতের অভিজ্ঞতা তাদের জন্মনিরোধকের প্রতি উৎসাহী করে তোলে। টেলিগ্রাফের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে ব্রিটেনে চল্লিশোর্ধ নারীদের গর্ভপাতের সংখ্যা বেড়ে গেছে। ওদিকে, ৩৫ বছরের মধ্যে যাদের বয়স তাদের মধ্যেও আকস্মিক গর্ভধারণের উদাহরণ রয়েছে প্রচুর। তাই সব মিলিয়ে, নারী এসব নানা পদ্ধিতে নিয়ে ব্যাপক সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন। জন্মনিরোধনে কোন পদ্ধতিটি সবচেয়ে ভালো তা বুঝতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। সেইসঙ্গে যারা বেড়ে উঠছেন, তারাও একই সমস্যায় পড়ছেন।