1 Answers

উদ্দীপকের A তে প্রণীত আইন দ্বারা ১৯৭২ সালের সংবিধানকে বোঝানো হয়েছে। বর্তমানে ১৯৭২ সালে প্রণীত মূল সংবিধান অনুসারেই বাংলাদেশ পরিচালিত হচ্ছে।

স্বাধীনতালাভের কিছুদিন পরেই বঙ্গবন্ধু সরকার দেশের সংবিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে কাজ শুরু করে। সংবিধান প্রণয়ন কমিটি রচিত খসড়া সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে পাস হয়। ওই বছরই ১৬ ডিসেম্বর প্রথম বিজয় দিবসে এই সংবিধান কার্যকর হয়। ১৯৭২ সালের সংবিধানে অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে বাঙালি জাতীয়তাবাদের অন্যতম ভিত্তি ধরা হয়। জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি সংবিধানে নাগরিকের মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি, এককেন্দ্রিক ও মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার, এক কক্ষবিশিষ্ট আইন পরিষদ, সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ইত্যাদি বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর বিপথগামী কিছু সদস্য কর্তৃক বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রণীত বাহাত্তরের সংবিধানে আমূল পরিবর্তন আনা হয়।

জিয়াউর রহমানের সরকার ১৯৭৭ সালের ২৩ এপ্রিল সামরিক ফরমানের মাধ্যমে সংবিধানে বাঙালি জাতীয়তাবাদের স্থলে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্রের স্থলে 'অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার' প্রভৃতি বিষয় সংযোজন এবং ধর্মনিরপেক্ষতা বিলুপ্ত করে। পরবর্তী সময়ে জেনারেল এরশাদের সামরিক সরকারও রাজনৈতিক ফায়দা আদায়ের লক্ষ্যে অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে ধর্মীয় রাজনীতির বিষয় যুক্ত করেন। এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থি কাজ। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে জেনারেল এরশাদের পতনের মধ্য দিয়ে দেশে আবার গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু হয়। ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থি সংশোধনীগুলো বাতিল করে বাংলাদেশ তার মূল সংবিধানে ফিরে গেছে। বর্তমানের সংবিধানে ১৯৭২ সালের সংবিধানের রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি ও মৌলিক ধারাগুলো অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে। তাই বলা যায়, বর্তমানে বাহাত্তরে প্রণীত মূল সংবিধান বা আইন দ্বারাই দেশ পরিচালিত হচ্ছে

4 views

Related Questions

ইসলামী ব্যাংকিং আল-কুরআন এর বিধিবিধান অনুসরণ করে পরিচালিত একটি ব্যাংকিং ব্যবস্থা যাতে সুদের বিনিময়ে ধার ও ঋণের লেনদেন নিষিদ্ধ। ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার লক্ষ্য হচ্ছে সুদ নির্মূলকরণ এবং অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা, ন্যায়বিচার দক্ষতা, স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধির নীতি প্রতিষ্ঠা। ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার উদ্যোক্তা এবং পুঁজিমালিকের মধ্যে শিল্প অথবা বাণিজ্যিক ঝুঁকি সমানভাবে বণ্টন এবং বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মুনাফা থেকে প্রাপ্ত অর্থ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আনুপাতিক মূলধনের ভিত্তিতে ভাগ করার কথা বলা হয়েছে। ইসলামী ব্যাংকিং সবচেয়ে উৎপাদনশীল ও লাভজনক প্রকল্পে বিনিয়োগ করে। (Translate into English)
1 Answers 6 Views