1 Answers
অন্যান্য রাষ্ট্রের সহযোগিতা ও সমর্থন নিয়ে ফিলিস্তিন পূর্ণ রাষ্ট্রের মর্যাদা না পেলেও বাংলাদেশ পেয়েছে- বক্তব্যটি যথার্থ।
তৃতীয় বিশ্বের সদ্য স্বাধীন একটি রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অস্তিত্ব ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পররাষ্ট্রনীতির ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বঙ্গবন্ধুর ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরে আসার পূর্বে ভারত ও ভুটান ছাড়া অন্য কোনো রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পায়নি বাংলাদেশ। পাকিস্তান ও তার মিত্রদের বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারণায় বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্র তখনও বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি। বিভ্রান্ত নবীন রাষ্ট্র বাংলাদেশের
পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারকের ভূমিকায় ছিলেন স্বয়ং বঙ্গবন্ধু। তিনি সবসময় স্বাধীন ও জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতির কথা বলেছেন। তাঁর পররাষ্ট্রনীতির মূলকথা ছিল- শান্তিপূর্ণ অবস্থান, সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে শত্রুতা নয়। সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের নিপীড়িত জনগণের পক্ষে থাকবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের জন্য স্বীকৃতি আদায়ের কাজটি খুব একটা সহজসাধ্য ছিল না। কারণ, পাকিস্তানের বৈরী প্রচারণায় মুসলিম বিশ্বসহ চীন বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করত। বক্তাবন্ধুর সফল নেতৃত্বে ১৯৭৪ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্র ও জাতিসংঘসহ প্রায় সকল আন্তর্জাতিক সংস্থার স্বীকৃতি লাভ করে। বঙ্গবন্ধুর জীবদ্দশায় প্রায় ১৩০টি রাষ্ট্রের স্বীকৃতি অর্জন করে বাংলাদেশ।
পরিশেষে বলা যায়, বঙ্গবন্ধুর কূটনৈতিক দূরদর্শিতা, প্রজ্ঞা, নেতৃত্ব ইত্যাদি কারণেই বাংলাদেশ পূর্ণ রাষ্ট্রের মর্যাদা লাভ করতে সক্ষম হয়েছে।