উদ্দীপকের ইঙ্গিতকৃত যুদ্ধ ভারতীয় উপমহাদেশে কোন শাসনের ভিত্তি তৈরি করেছিল? ব্যাখ্যা করো। (প্রয়োগ)
1 Answers
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত পলাশির যুদ্ধে বাংলার নবাবের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে এ উপমহাদেশে ঔপনিবেশিক তথা ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের ভিত্তি তৈরি হয়।
সতেরো শতকের প্রথমার্ধে ইংরেজরা বাংলায় বাণিজ্য করতে আসে। বাণিজ্য করার পাশাপাশি তারা এদেশের রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করে। ১৭৫৬ সালে বাংলার রাজপরিবারে সৃষ্ট অন্তঃবিরোধের সুযোগে ইংরেজরা নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর ষড়যন্ত্র করে। নবাবের খালা ঘসেটি বেগম, প্রধান সেনাপতি মীরজাফরসহ রাজদরবারের অনেকেই এই ষড়যন্ত্রে অংশ নেয়। নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভ মীরজাফরকে বাংলার নবাব করার প্রতিশ্রুতি দেন। অবশেষে ইংরেজদের সাথে ১৭৫৭ সালে ২৩ জুন পলাশীর আম বাগানে নবাব সিরাজউদ্দৌলার যুদ্ধ হয়। মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে এ যুদ্ধে নবাবের পরাজয় ঘটে। উদ্দীপকে এ যুদ্ধের প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
পলাশির যুদ্ধে জয়লাভের ফলে এদেশে বাণিজ্য করতে আসা ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একচেটিয়া বাণিজ্যিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। ধীরে ধীরে তারা বাংলার রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করে। বাংলার পরবর্তী নবাবেরা ইংরেজদের হাতের পুতুলে পরিণত হয়। ১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার দেওয়ানি লাভ করে। এভাবে পর্যায়ক্রমে উপমহাদেশে ইংরেজ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। তারা প্রায় দু'শ বছর এদেশ শাসন করে। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত পলাশির যুদ্ধ ভারতীয় উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের ভিত্তি তৈরি করেছিল।