1 Answers

কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের জড় পরিবেশ ও জীব সম্প্রদায়ের মধ্যে আন্তঃসম্পর্কই হলো বাস্তুসংস্থান। ছকের উপাদানগুলোর মধ্যে যে জীব উপাদানগুলো রয়েছে তারা পরস্পরের মধ্যে এবং সংশ্লিষ্ট জড় পরিবেশের সাথে নানাভাবে সম্পর্কিত। জড় পরিবেশ যেমন- মাটি, পানি ইত্যাদি জীব সম্প্রদায়কে ধারণ করে। সূর্যালোকের সাহায্যে বায়ু ও মাটি থেকে প্রাপ্ত যথাক্রমে কার্বন ডাইঅক্সাইড ও পানির সহযোগে উৎপাদক তথা সবুজ উদ্ভিদ (ঘাস) খাদ্য ও অক্সিজেন তৈরি করে। যার উপর ভিত্তি করেই সমস্ত প্রাণিকুল খাদ্য ও অক্সিজেন পায় তথা প্রয়োজনীয় শক্তির সরবরাহ ঘটে। উৎপাদকের উপর নির্ভরশীল প্রাণিকুলের মধ্যে বিভিন্ন স্তরের খাদক রয়েছে যারা খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে একে অপরের সাথে সম্পর্কিত। মূলত এ খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমেই সবুজ উদ্ভিদ বাস্তুতন্ত্রের ভৌত পরিবেশ এবং জীবজগতের মধ্যে শক্তি সরবরাহের একটি বন্ধন তৈরি করে। যে বন্ধনের শুরুতে প্রথম স্তরের খাদক ইঁদুর সবুজ উদ্ভিদকে খায়। ক্রমান্বয়ে প্রথম স্তরের খাদক ইঁদুরকে খায় সাপ যা দ্বিতীয় স্তরের খাদক, আবার সাপকে খায় ময়ূর যা তৃতীয় বা সর্বোচ্চ স্তরের খাদক। এভাবেই শক্তির ব্যবহার ও স্থানান্তরের মাধ্যমে বাস্তুসংস্থানে শক্তির প্রবাহ ঘটে। ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি বিয়োজক যারা বাস্তুতন্ত্রের উৎপাদক থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ খাদক পর্যন্ত সবার মৃতদেহকে বিনষ্ট করে এবং উদ্ভিদের শোষণযোগ্য খাদ্য উপাদানে (হিউমাস, নাইট্রোজেন) পরিণত করে। উদ্ভিদ বিভিন্ন খাদ্য উপাদান তৈরিতে উক্ত হিউমাস ও নাইট্রোজেন ব্যবহার করে থাকে।
এভাবেই বিয়োজিত পদার্থ একটি বাস্তুসংস্থানে পুনঃ পুনঃ আবর্তিত হতে থাকে। তাই বলা যায়, ছকে প্রদত্ত বাস্তুতন্ত্রের উপাদানসমূহ পরস্পর আন্তঃসম্পর্কযুক্ত।

4 views

Related Questions