1 Answers
পরিবেশের সবুজ উদ্ভিদসহ সকল জীব পরস্পরের উপর নির্ভরশীল। পারস্পরিক সংযোগ ও নির্ভরশীলতাই জীবনক্রিয়া পরিচালনার চাবিকাঠি। জীবজগতে বিভিন্ন প্রকার গাছপালা এবং প্রাণীদের মধ্যে বিদ্যমান জৈবিক সম্পর্কগুলো সহাবস্থান নামে পরিচিত। সহাবস্থানকারী জীবগুলোর মধ্যে ঘটিত ক্রিয়া-বিক্রিয়াই হলো মিথস্ক্রিয়া। মিথস্ক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী জীবগুলো কেউই স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় বরং পরস্পরের উপর নির্ভরশীল। আন্তঃনির্ভরশীল এই সম্পর্ক দুভাবে হতে পারে, যথা- ধনাত্মক আন্তঃক্রিয়া এবং ঋণাত্মক আন্তঃক্রিয়া। ধনাত্মক আন্তঃক্রিয়ার প্রধান দুটি ধরন হলো মিউচুয়ালিজম ও কমেনসেলিজম। মিউচুয়ালিজমে সহযোগীদের উভয়ই একে অন্যের দ্বারা উপকৃত হয়। আবার কমেনসেলিজমের ক্ষেত্রে সহযোগীদের মধ্যে একজন উপকৃত হলেও অপর সহযোগীর কখনোই ক্ষতি হয় না। ঋণাত্মক আন্তঃক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে শোষণ, প্রতিযোগিতা ও অ্যান্টিবায়োসিস। শোষণের মাধ্যমে এক জীব অন্য জীব প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে নিজের অধিকার ভোগ করে। কোন নির্দিষ্ট স্থানে আলো, বাতাস, পানি ও খাদ্যের জন্য জীবগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা হয়। একমাত্র সুবিধাজনক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীবেরাই টিকে থাকে। অন্যদিকে, অ্যান্টিবায়োসিসের কারণে একটি জীব কর্তৃক সৃষ্ট জৈব রাসায়নিক পদার্থের কারণে অন্য জীবের বৃদ্ধি এবং বিকাশ আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে বাধা প্রাপ্ত হয়, অথবা মৃত্যু ঘটে।
উপরের আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, আন্তঃসম্পর্কযুক্ত জীবগুলোর কেউ লাভবান আবার কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আর এসব ক্রিয়া-বিক্রিয়ার মাধ্যমেই বজায় থাকে পরিবেশের ভারসাম্য।