1 Answers
যুক্তফ্রন্টের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও কেন্দ্রীয় সরকারের চক্রান্তের ফলে যুক্তফ্রন্টের জয়ের পরও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারেনি।
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ সরকারকে পরাজিত করে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ করলে এই প্রদেশে একটি সংসদীয় সরকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ আসে। কিন্তু মুসলিম লীগ ও কেন্দ্রীয় সরকারের চক্রান্তে এবং সর্বোপরি যুক্তফ্রন্টের শরিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সংখ্যালঘু সংসদ সদস্যদের বার বার সমর্থন বদলের কারণে ঘন ঘন সরকার বদল হতে থাকে। মাত্র চার বছরে সাতটি মন্ত্রিসভার পতন ঘটে এবং তিনবার গভর্নরের শাসন জারি করা হয়। উপরন্তু এই সময় বিরোধী দলের আক্রমণে ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলীর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সীমিত হয়ে আসে পাকিস্তানের পার্লামেন্টারি গণতন্ত্রের দিন। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে ৮ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তানে সামরিক আইন জারি করে। তিন সপ্তাহ পর ইস্কান্দার মির্জা নিজেই পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে জেনারেল আইয়ুব খান সংসদীয় সরকার ও সংবিধানের অবসান ঘটিয়ে ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি করেন এবং ব্যর্থ হয় পূর্ববাংলায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা।
উদ্দীপকে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট গঠন ও নির্বাচনের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছিলো মূলত উপরে উল্লিখিত কারণে। তাই বলা যায়, নিজেদের মধ্যকার ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও কেন্দ্রীয় সরকারের চক্রান্তের ফলেই যুক্তফ্রন্টের জয়েও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।