1 Answers

মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর মাহির দেখা জোয়ার- ভাটার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব রয়েছে। প্রতিদিন দুইবার করে জোয়ার-ভাটা হওয়ার ফলে নদীর আবর্জনা পরিষ্কার হয়ে পানি নির্মল হয় এবং নদী মোহনায় পলি সঞ্চিত হয়, ফলে নদীর মুখ বন্ধ হতে পারে না। জোয়ার-ভাটার স্রোতে নদীখাত গভীর হয়। অনেক নদীর পাশে খাল খনন করে জোয়ারের পানি আটকে জমিতে সেচ দেওয়া হয়। পৃথিবীর বহু নদীতে জোয়ারের স্রোতকে কাজে লাগিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। যেমন : ফ্রান্সের ল‍্যান্স বিদ্যুৎকেন্দ্র, ভারতের বান্ডালা বন্দরেও এরূপ পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। জোয়ার-ভাটার কারণে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করার ফলে শীতপ্রধান দেশে নদীর পানি চলাচলের অনুকূলে থাকে। 'জোয়ারের সময় নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রগামী বড় বড় জাহাজ অনায়াসেই নদীতে প্রবেশ করে, আবার ভাটার টানে সমুদ্রে চলে আসে। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরে জোয়ারের সময় নদীর গভীরতা বৃদ্ধি পেলে বড় বড় জাহাজ প্রবেশ করে অথবা বন্দর ছেড়ে যায়। জোয়ারের সময় সমুদ্রের পানিকে আবদ্ধ করে শুকিয়ে লবণ তৈরি করা হয়। তাই বলা যায় যে, মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের ওপর জোয়ার ভাটার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।

5 views

Related Questions