1 Answers
'শ্রদ্ধেয় ধর্মপাল ভান্তের তৃষ্ণাক্ষয়ের বিষয়টি গৌতম বুদ্ধের উপলব্ধির ফসল'- এই বক্তব্যের সাথে আমি একমত। কারণ বৌদ্ধধর্মে তৃষ্ণার ক্ষয় বলতে 'নির্বাণ'-কে বোঝানো হয়।
নির্বাণ তথাগত বুদ্ধ আবিষ্কৃত শ্রেষ্ঠ তত্ত্ব। পণ্ডিত ও দার্শনিক সমাজে বুদ্ধের এ তত্ত্ব ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। নির্বাণ এক লোকত্তর অভিজ্ঞতা। সাধারণ উপলব্ধি বা ভাষা দিয়ে নির্বাণের প্রাপ্তি 'পরম সুখ' বুঝতে পারা সম্ভব নয়। নির্বাণ সহজবোধ্য না হলেও বুদ্ধ নির্বাণ লাভের উপায় প্রদর্শন করেছেন। আমাদের মনে রাগ, ঈর্ষা, মোহ, লোভ ইত্যাদি ক্ষতিকর প্রবৃত্তির উৎপত্তির কারণ হচ্ছে তৃষ্ণা বা কামনা। তৃষ্ণার কারণেই মানুষ বার বার জন্মগ্রহণ করে দুঃখ ভোগ করে। যিনি নির্বাণ লাভ করেন তিনি তৃষ্ণামুক্ত হন। অতএব, যে ধর্ম প্রত্যক্ষ করলে তৃষ্ণার ক্ষয় হয়, রাগ- দ্বেষ-মোহাগ্নি নির্বাপিত হয়, জন্ম-মৃত্যুর প্রবাহ বা কার্যকারণ নিরুদ্ধ হয় এবং সর্বপ্রকার দুঃখের নিরোধ হয় তারই নাম নির্বাণ। সংক্ষেপে, যাবতীয় দুঃখের নিরোধ বা নিবৃত্তি হওয়াকে 'নির্বাণ' বলে। তাই বলা হয়, নিব্বাণং পরমং সুখ অর্থাৎ নির্বাণ পরম সুখ।
উদ্দীপকের শ্রদ্ধেয় ধর্মপাল ভান্তে বর্তমান, অতীত ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনেক কিছু মন্তব্য করতে পারেন। তিনি রাগ, হিংসা, তৃষ্ণা রোধ করতে পেরেছেন। অর্থাৎ তিনি বৃদ্ধ প্রদর্শিত মার্গ অনুশীলন করে তৃষ্ণাক্ষয়ের মাধ্যমে অর্হত্ব ফলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যার জন্য তিনি সোপাদিসেস নির্বাণ লাভ করেছেন যা গৌতম বুদ্ধের উপলব্ধির ফসল। উপরের আলোচনা থেকে এটাই প্রমাণিত হয় যে, 'শ্রদ্ধেয় ধর্মপাল ভান্তের তৃষ্ণাক্ষয়ের বিষয়টি গৌতম বুদ্ধের উপলব্ধির ফসল'- এই বক্তব্যটি অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত।