1 Answers
স্রষ্টার স্বরূপ সম্পর্কিত বর্ণনায় স্রষ্টাকে ভগবান ও অবতার নামে অভিহিত করা হয়েছে। নিচে তা আলোচনা করা হলো-
স্রষ্টা ভগবান : হিন্দুধর্ম দর্শন অনুসারে ঐশ্বর্য, বীর্য, যশ, শ্রী, জ্ঞান ও বৈরাগ্যকে ভগ বলে। ভগ যার পূর্ণরূপ আছে তিনিই ভগবান। বিষ্ণু পুরাণে বলা হয়েছে যিনি ভূতগণের উৎপত্তি বিনাশ, পরলোকে গতি, ইহধামে আগমন এবং বিদ্যা-অবিদ্যা জানেন, তিনিই ভগবান। বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকে ভগবান গুণময় এবং অশেষ রূপের আধার এবং প্রকৃত সত্য। তিনি রসময়, আনন্দময় ও দয়াময়। তিনি তাঁর ভক্তদের বিভিন্নভাবে কৃপা করে থাকেন।
স্রষ্টা অবতার: দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন এবং ধর্মরক্ষার জন্য ঈশ্বর নানারূপে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন বা নেমে আসেন। যেমন- নৃসিংহ, রাম, শ্রীকৃষ্ণ প্রভৃতি ঈশ্বরের অবতার। ধর্ম অনুশীলনের ক্ষেত্রে পরম সত্তা বা পরমেশ্বর থেকে উদ্ধৃত সকল অবতারই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শ্রীমদ্ভগবত পুরাণে বলা হয়েছে ভগবান বিষ্ণু অনেকবার অবতার হিসেবে বিশেষ বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে এ পৃথিবীতে এসেছেন। বিভিন্ন যুগে ভগবান বিষ্ণু দশবার অবতার হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। বিষ্ণুর দশ অবতার হচ্ছে- ১. মৎস্য, ২. কূর্ম, ৩. বরাহ, ৪. নরসিংহ, ৫. বামন, ৬. পরশুরাম, ৭. রাম, ৮. বলরাম, ৯. বুদ্ধ ও ১০. কল্কি।
কল্কি সর্বশেষ অবতার। হিন্দুধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, কলিযুগের শেষের দিকে তাঁর আবির্ভাব ঘটবে।