1 Answers
উদ্দীপকটি 'একাত্তরের দিনগুলি' রচনার পাকিস্তানি হানাদার কর্তৃক এদেশের মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করার দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ পাকিস্তানি শাসনের নিগড়ে বন্দি ছিল। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ মধ্যরাত থেকে ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এদেশে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করে এবং নির্মম ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। তাঁরা বাঙালির স্বাধীনতার স্বপ্নকে চিরতরে মুছে দিতে নির্বিচারে হত্যা করে বাংলার নারী-পুরুষ শিশুসহ অসংখ্য মানুষকে।
উদ্দীপকে পাকিস্তানি হানাদারদের নির্মমতার শিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের করুণ পরিণতির কথা স্মরণ করা হয়েছে। বাসা থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরীর লেখা '১৯৭১' ডায়েরি পড়তে গিয়ে তাঁর ছাত্র তাঁকে গভীরভাবে স্মরণ করেছেন। তিনি তাঁর প্রিয় শিক্ষকের রক্তাক্ত দেহের কথা স্মরণ করে মুক্তিযুদ্ধের সময় বুদ্ধিজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষের ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মমতার দিকটিকে নির্দেশ করেছেন। এই বিষয়টি 'একাত্তরের দিনগুলি' রচনায় প্রতিফলিত পাকিস্তানি হানাদারদের নির্মমতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা রুমীকেও হানাদাররা ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেছে। লেখিকা একজন মুক্তিযোদ্ধার আত্মমর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করতে চাননি বলে প্রিয় পুত্র রুমীকে বাঁচানোর জন্য মার্সি পিটিশন করেননি। এই রচনায়ও নদীতে ভেসে যাওয়া লাশ, লাশের দুর্গন্ধ ও হত্যাকান্ডের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকটি আলোচ্য রচনার পাকিস্তানি হানাদার কর্তৃক এদেশের মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করার দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।