1 Answers
উদ্দীপকে উল্লিখিত দৃশ্যকল্প-২ এ নেতিবাচক সংজ্ঞা অনুপপত্তি এবং দৃশ্যকল্প-৩ এ বাহুল্য সংজ্ঞা অনুপপত্তি ঘটেছে। নিচে এই অনুপপত্তিগুলো আলোচনা করা হলো-
কোনো পদের সংজ্ঞা সদর্থক বা ইতিবাচকভাবে দেওয়া সম্ব হলেও যদি নঞর্থক বা নেতিবাচকভাবে দেওয়া হয় তখন নেতিবাচক সংজ্ঞা অনুপপত্তি ঘটে। সংজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সংজ্ঞেয় পদটি দ্বারা কী বোঝায়, তা ব্যক্ত করা। অর্থাৎ পদটিতে কী কী গুণ বিদ্যমান তা উল্লেখ করা। কিন্তু, সংজ্ঞায় নঞর্থক ভাষা ব্যবহার করলে সংজ্ঞার এ উদ্দেশ্যটি ব্যাহত হয়। যেমন : 'আনন্দ হয় দুঃখের অভাব' এই সংজ্ঞা দ্বারা আনন্দ বলতে কী বোঝায় তা ব্যক্ত হয় নি, বরং আনন্দের মধ্যে কী নেই তাই ব্যক্ত হয়েছে। এতে করে 'আনন্দ' পদের অর্থ সুস্পষ্ট না হয়ে অস্পষ্টই নঞর্থক ভাষার পরিবর্তে কেবল সদর্থক ভাষাই ব্যবহার করতে হবে।
কোনো পদের সংজ্ঞাদানের ক্ষেত্রে কেবল পদটির জাত্যর্থ করা যাবে না বা জাত্যর্থের কোনো অংশকে বাদ দেওয়া যাবে না, কারণ কোনো পদের সংজ্ঞাদানের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গুণটি যদি উপলক্ষণ হয়, তাহলে সংজ্ঞাটিতে বাহুল্য সংজ্ঞা অনুপপত্তি ঘটে। যেমন : 'মানুষ হচ্ছে সৌজন্যতাবোধসম্পন্ন প্রাণী' এখানে 'সৌজন্যতাবোধ' গুণটি মানুষ পদের একটি উপলক্ষণ, যা মানুষের সংজ্ঞায় অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হওয়ায় সংজ্ঞাটি বাহুল্য সংজ্ঞায় পরিণত হয়। তাই বাহুল্য সংজ্ঞার অনুপপত্তি এড়াতে সংজ্ঞায় জাত্যর্থের অতিরিক্ত গুণ হিসেবে উপলক্ষণ উল্লেখ করা যাবে না।
সুতরাং উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে আমরা বলতে পারি, সংজ্ঞায় সর্বদা সদর্থক ও ইতিবাচক ভাষার ব্যবহার করতে হবে এবং কোনোভাবেই জাত্যর্থের অতিরিক্ত কোনো গুণ উল্লেখ করা যাবে না।