1 Answers

উদ্দীপকে উল্লিখিত সামিরের দেওয়া সংজ্ঞাটিতে 'দুর্বোধ্য সংজ্ঞা' নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেছে। নিচে তা চিহ্নিত করা হলো- যৌক্তিক সংজ্ঞার একটি অন্যতম ভ্রান্তরূপ হচ্ছে 'দুর্বোধ্য সংজ্ঞা', যার উদ্ধ ঘটে সংজ্ঞার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়মের লঙ্ঘন থেকে। এ নিয়মের মূলকথা হচ্ছে, কোনো পদের সংজ্ঞাদানের ক্ষেত্রে সেই পদের চেয়ে স্পষ্ট ও সহজ ভাষা ব্যবহার করতে হবে। সংজ্ঞাকে কোনো অবস্থায় দুর্বোধ্য বা রূপক ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। কারণ সংজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সংজ্ঞেয় পদের অর্থকে সুস্পষ্ট ও সহজবোধ্য করা। কিন্তু কোনো পদের সংজ্ঞা দেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্বোধ্য শব্দ ব্যবহার করা হলে সংজ্ঞাটি জটিল আকার ধারণ করে। এতে সংজ্ঞাটি দুর্বোধ্য হয়ে পড়ে, যার ফলে সংজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। আর এরূপ ক্ষেত্রেই উদ্ভব ঘটে 'দুর্বোধ্য সংজ্ঞা' নামক ত্রুটিপূর্ণ সংজ্ঞার। যেমন: “সংগীত হচ্ছে দুর্মূল্য কোলাহল।” এ সংজ্ঞায় সংগীতের অর্থ সুস্পষ্ট হওয়ার পরিবর্তে আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। বস্তুত এখানে সংগীতের সংজ্ঞায় ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দই পৃথকভাবে সংজ্ঞার দাবিদার। উল্লেখ্য, দুর্বোধ্য বলতে কেবল জটিল ভাষাকেই বোঝায় না, বরং যে ভাষা সব মানুষের কাছে বোধগম্য নয়, এমন ভাষাকেও দুর্বোধ্য বলা যায়। কাজেই কোনো পদকে স্পষ্ট ও সহজভাবে বুঝতে হলে পদটির সংজ্ঞায় এমন ভাষা ব্যবহার করতে হবে, যা জটিল নয় এবং যা সবার পক্ষে বোধগম্য। অন্যথায় সংজ্ঞাটি দুর্বোধ্য আকার ধারণ করে দুর্বোধ্য সংজ্ঞার উদ্ভব ঘটাবে। সুতরাং যথার্থ সংজ্ঞা প্রণয়নের ক্ষেত্রে আলোচ্য ভ্রান্তি এড়ানোর জন্য কোনো পদের সংজ্ঞায় দুর্বোধ্য ভাষা ব্যবহার করা যুক্তিযুক্ত নয়।

4 views

Related Questions