উদ্দীপক অনুসারে সহানুমানের সবগুলো বাক্য মিথ্যা হবার পরও যুক্তিটি বৈধ হবার কারণ ব্যাখ্যা কর। (প্রয়োগ)
1 Answers
উদ্দীপক অনুসারে সভ্যতা ও বৈধতা দুটো আলাদা বিষয়। সত্য বা মিথ্যাই হচ্ছে শুধু বচন বা বাক্যের সাথে সম্পৃক্ত। অর্থাৎ সত্যতা বা মিথ্যাত্ব ব্যাপকটি কোনো বাক্য বা বচনকে কেন্দ্র করেই ব্যক্ত হয় এবং সত্যতা বা সিদ্ধান্ত হলো বাক্যের বৈশিষ্ট্য বা গুণ। অনদিকে বৈধতা বিষয়টি চিন্তার আকার বা নিয়মাবলির সাথে সম্পৃক্ত। বস্তুত চিন্তার নিয়ম সর্বদা যুক্তিবাক্য বা বচনের বেলায় প্রয়োগ করা হয় বলে স্বভাবতই বৈধতা সে অনুযায়ী অনুমান, যুক্তি এবং সহানুমান বা ন্যায় অনুমানের বৈশিষ্ট্য বলে গণ্য হয়। কাজেই বৈধতার প্রকৃতি অনুসারে আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্তটি চিন্তার নিয়মানুগ হয়ে যথাযথভাবে নিঃসৃত হলেই যুক্তি বৈধ হয়। কিন্তু উল্লেখ্য যে, যুক্তির বৈধতা অর্জনের জন্য যুক্তিবাক্য বা বচনকে সত্য হতে হবে এমনটা অনিবার্য নয়। কাজেই বৈধ কোনো যুক্তি সত্য হতে পারে, আবার নাও হতে পারে। কোনো যুক্তির প্রতিটি আশ্রয়বাক্য এবং সিদ্ধান্ত মিথ্যা হয়েও যুক্তিটি বৈধ হতে পারে। যেমন-
যদি কোথাও ধোঁয়া থাকে, তাহলে সেখানে পাখি বাস করে।
পুকুরে ধোঁয়া থাকে।
∴ পুকুরে পাখি বাস করে।
উপরের যুক্তিটিতে প্রতিটি আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্ত মিথ্যা, কিন্তু যুক্তিটি বৈধ। কারণ যুক্তিটিতে বিধিসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হয়েছে। কাজেই মিথ্যা আশ্রয়বাক্য এবং মিথ্যা সিদ্ধান্ত নিয়ে যুক্তি বৈধ হতে পারে। তাই কোনো যুক্তির বেধতা বা অবৈধতা তার অঙ্গ বাক্যের সত্যতা বা মিথ্যাত্বের উপর আদৌ নির্ভর করে না।