1 Answers
উদ্দীপকে মফিজ মিঞা অধ্যাপক হুমায়ুন কবিরের ড্রয়িংরুমে গেলে, শুনতে পায় তার বড় ছেলে পড়ছে- 'সব মানুষ হয় দ্বিপদ প্রাণী; সুতরাং সব দ্বিপদ প্রাণী হয় মানুষ। এটা A বাক্যের অবৈধ সরল আবর্তনের ফলে ঘটেছে। কেননা A বাক্যের সরল আবর্তন সম্ভব হয় না এবং তা যুক্তিসিদ্ধও নয়। তবে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে A বাক্যের সরল আবর্তন সম্ভব হয়। যেমন-
১. যেসব ক্ষেত্রে A বাক্যের উদ্দেশ্য পদ ও বিধেয় পদের ব্যক্ত্যর্থ সমান থাকে, অথবা উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদ দুটি এেেক অন্যের মধ্যে নিহিত থাকে, একমাত্র সেসব ক্ষেত্রেই A বাক্যের সরল আবর্তন করা যায়। দৃষ্টান্তস্বরূপ : A বাক্য = এভারেস্ট হয় পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ-(আবর্তনীয়) A বাক্য = পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হয় এভারেস্ট- (আবর্তিত)
২. যেসব A বাক্যের দ্বারা সংজ্ঞাকরণ করা যায় সেসব A বাক্যের সরল আবর্তন সম্ভব। যেমন: A বাক্য = সব মানুষ হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন প্রাণী- (আবর্তনীয়) A বাক্য = সব বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন প্রাণী হয় মানুষ- (আবর্তিত)
৩. যেসব A বাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদ সমার্থক শব্দ হয় সেসব A বাক্যের সরল আবর্তন সম্ভব। যেমন: A বাক্য = সব মানুষ হয় মানবিক জীবন- (আবর্তনীয়) A বাক্য = সব মানবিক জীব হয় মানুষ- (আবর্তিত)
৪. যে সব A বাক্যের উদ্দেশ্য পদটি বিশিষ্ট পদ হয় এবং যার বিধেয় পদটি উদ্দেশ্য পদের অর্থপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ব্যক্ত করে, সেসব A বাক্যের সরল আবর্তন করা যায়। যেমন : A বাক্য = রবীন্দ্রনাথ হন গীতাঞ্জলির রচয়িতা- (আবর্তনীয়) A বাক্য = গীতাঞ্জলির রচয়িতা হন রবীন্দ্রনাথ- (আবর্তিত)
এখানে উল্লেখ্য যে, A বাক্যসমূহের ক্ষেত্রে যে বিষয়টি সাধারণভাবে লক্ষণীয় তাহলো, এসব A বাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদগুলো একে অন্যের মধ্যে নিহিত অথবা তারা উভয়ই একই বিষয় সম্বলিত হয়ে থাকে। আর এটি ব্যতিক্রম সাপেক্ষেই শুধু A বাক্যের সরল আবর্তন সম্ভব হয় বলা চলে।