1 Answers

শিক্ষা হচ্ছে নতুন জ্ঞানের ভিত্তিতে মানুষের আচরণের স্থায়ী পরিবর্তন। শিক্ষা জ্ঞানের উন্নয়ন সাধন করে। শিক্ষা কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর সাধারণ জ্ঞান অর্জনে সাহায্য করে।

শিক্ষার ইতিহাস মানব-ইতিহাসের মতোই প্রাচীন। জীবনের আদি পর্ব থেকে মানুষ শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্বন্ধে বিশেষভাবে সজাগ। মানুষকে মানবীয় গুণের অধিকারী করার জন্য শিক্ষা যে একটা প্রাথমিক এবং প্রয়োজনীয় কৌশল, তা প্রত্যেক সমাজ ব্যবস্থাতেই স্বীকৃতি লাভ করেছে। মহামতি এরিস্টটল বলেছেন, মৃত ও জীবিতের মধ্যে যা তফাৎ, শিক্ষিত ও অশিক্ষিতের মধ্যে তা-ই তফাৎ (Educated men are as superior to uneducated as the living are to dead)। প্রাচীন ভারতীয় শাস্ত্রেও আমরা এর উল্লেখ পাই। গীতায় উল্লেখ আছে, "ন হি জ্ঞানের সদৃশং পবিত্রমিহ বিদ্যতে”। (জ্ঞানের মতো শুদ্ধিকারক আর কিছুই নাই)। বর্তমান সভ্য জগতেও শিক্ষাকে কম গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। প্রত্যেক রাষ্ট্র এবং সমাজব্যবস্থায় শিক্ষাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়ার মূলে আছে কতকগুলো কারণ যা শিক্ষারই অন্তর্নিহিত। শিক্ষার অনেক ক্ষমতা আছে, যা মানুষের জীবনবিকাশের অনুকূল। বিভিন্ন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, বৈজ্ঞানিক এ উপযোগিতার দিকটা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। শিক্ষার এ প্রয়োজনীয়তা মানবমনের ধর্ম বা চাহিদার ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে, আর সেই চাহিদা মেটাতে এগিয়ে এসেছে শিক্ষা। মানুষের জন্মগত সম্ভাবনাকে প্রস্ফুটিত করার জন্য, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির প্রবাহকে সজাগ রাখার জন্য শিক্ষা একান্ত প্রয়োজন। শিক্ষা ব্যক্তি কল্যাণ ও সমাজকল্যাণের পথে গড়ে তুলবে নতুন ও আদর্শ সমাজব্যবস্থা। ব্যক্তিজীবনে এ সর্বোতমুখী সমন্বয়ে শিক্ষাই মানুষের আবিষ্কৃত সর্বশ্রেষ্ঠ বৌদ্ধিক কৌশল।

4 views

Related Questions