1 Answers

উদ্দীপকের মনসুরের ধান গাছ ব্লাস্ট ও টুংরো রোগে আক্রান্ত হয়েছিল।

ধান গাছ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে ছত্রাকজনিত ব্লাস্ট রোগ এবং ভাইরাসজনিত টুংরো রোেগ অন্যতম।

ব্লাস্ট রোগের দমন ব্যবস্থাপনা

i. রোগাক্রমণের আগে করণীয়: রোগ প্রতিরোধী জাত ব্যবহার করতে হবে। যেমন- বোরো মৌসুমে বিআর ৩, বিআর ১৪, বিআর ১৫, বিআর ১৬, ব্রি ধান ৪৫, ব্রি ধান ৭৪, আউশ মৌসুমে বিআর ২৪; আমন মৌসুমে ব্রি ধান ৩২, ব্রি ধান ৩৩। রোপণের পূর্বে বীজ শোধন করতে হবে। থায়োফানেট মিথাইল নামক কার্যকরী উপাদানবিশিষ্ট ছত্রাকনাশক ১ লিটার পানিতে ৩ গ্রাম মিশিয়ে ১০-১২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখলে বীজ শোধিত হয়। জমিতে সুষম সার প্রয়োগ করতে হবে। রোগের প্রাথমিক অবস্থায় পটাশ সার ৫ কেজি/বিঘা জমিতে উপরি প্রয়োগ করতে হবে।

ii. রোগাক্রান্ত মাঠে করণীয়: মাঠে রোগ দেখামাত্র জমিতে পর্যাপ্ত পানি সংরক্ষণ করতে হবে। আক্রান্ত জমিতে হিনোসান ৮০০ মিলি/হেক্টর অথবা বেনলেট ২.৫ কেজি/হেক্টর স্প্রে করতে হবে।

টুংরো রোগের দমন ব্যবস্থাপনা

i . রোগাক্রমণের পূর্বে করণীয়: টুংরো আক্রান্ত জমির আশেপাশে বীজতলা তৈরি করা যাবে না। রোগ সহনশীল জাত যেমন: বিআর ২২, ব্রি ধান ৩৯, ব্রি ধান ৪১, ব্রি ধান ৪২ ইত্যাদি চাষ করতে হবে। পরিত্যক্ত টুংরো আক্রান্ত ধান গাছ, বাওয়া ধান, মুড়ি ধান ও আড়ালী ঘাস থাকলে তা তুলে ধ্বংস করতে হবে।

ii . রোগাক্রমণের পরে করণীয়: হাতের জালের প্রতি টানে বাহন পোকা দেখা দিলে কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে। ম্যালাথিয়ন ৫৭ ইসি প্রয়োগ করে সবুজ পাতা ফড়িং দমন করতে হবে।

অতএব বলা যায়, উল্লিখিত উপায়ে ধানক্ষেত রোগমুক্ত রাখার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত ফলন লাভ করা যায়।

5 views

Related Questions