1 Answers
কৃষি কর্মকর্তার বর্ণিত বায়োপেস্টিসাইডটি ছিল ট্রাইকোডার্মা, যাকে 'ডক্টরস ফাংগাস' বলা হয়। ট্রাইকোডার্মা সার তৈরিতে নিম্নোক্ত কয়েকটি ধাপ অবলম্বন করতে হয়-
ধাপ-১: ৩ ফুট দৈর্ঘ্য, ৩ ফুট প্রস্থ ও ১.৫ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট হাউজ তৈরি করতে হয়। বাতাস চলাচল ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য হাউজের তিন পাশের দেয়ালে ৩০-৪৫ সেমি দূরে দূরে ৬ সেমি আকারের ছিদ্র রাখতে হয়।
ধাপ-২: হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা, কচুরিপানা, বাজারের আবর্জনা, গৃহস্থালি বর্জ্যসহ সব ধরনের পচনশীল দ্রব্য ও আবর্জনা ফেলে গর্ত ভরাট করতে হয়। আবর্জনা গর্তে ফেলার আগে দু-এক দিনের পচা গোবর মেশালে ভালো হয়। রোদের তীব্রতা ও ঝড়বৃষ্টি থেকে রক্ষা পেতে গর্তের উপর ছাউনি দিতে হয়।
ধাপ-৩: আর্বজনায় ভরে গেলে ওলটপালট করে কয়েকটি স্তরে আধা লিটার ট্রাইকোডার্মা পরিমাণমতো স্প্রে করে দিতে হয়। হাউজে ৫ টন জৈব পদার্থ পচাতে মাত্র ১ লিটার তরল পদার্থ মিশ্রিত ট্রাইকোডার্মা প্রয়োজন।
ধাপ-৪: কম্পোস্ট পিট পাতা, বস্তা, প্লাস্টিক শিট দিয়ে ঢেকে দিলে গাদার তাপমাত্রা বেড়ে পচন কাজ ত্বরান্বিত হয়। পানি বেশি দেওয়া যাবে না কারণ এতে পুষ্টি উপাদান চুঁইয়ে নিচে চলে যেতে পারে।
ধাপ-৫: সমভাবে পচনের জন্য ৭ দিন পর পর গর্তের আবর্জনা অবশ্যই ভালোভাবে উল্টে দিয়ে গর্তের মুখ কলা পাতা দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। ৫-৬ সপ্তাহ পর আর্বজনা চা পাতার মতো ঝরঝরে ও গন্ধহীন হয়ে ব্যবহারের উপযোগী হয়।
উল্লিখিত ধাপগুলো অবলম্বনের মাধ্যমে কৃষি কর্মকর্তার বর্ণিত ট্রাইকোডার্মা নামক বায়োপেস্টিসাইড প্রস্তুত করা যায়।