1 Answers

উদ্দীপকের কৃষি কর্মকর্তা মি. রিপনের জমির অম্লত্ব সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন। অম্লীয় মাটি বিভিন্ন উপায়ে সংশোধন করা যায়। যেমন-

i. চুন ব্যবহার: চুন অম্লীয় মাটিতে আয়রন ও অ্যালুমিনিয়ামের দ্রবণীয়তা কমিয়ে ফসফরাসের প্রাপ্যতা বাড়ায়। তাছাড়া মাটিতে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম যুক্ত হলে তা হাইড্রোজেন আয়নকে প্রতিস্থাপন করে হাইড্রোক্সিল আয়নের পরিমাণ বাড়ায়। ফলে মাটির অম্লত্ব কমে। 

ii. জৈব সার ব্যবহার: মাটিতে জৈব সার যেমন- কম্পোস্ট, বায়োফার্টিলাইজার, ট্রাইকোডার্মা কম্পোস্ট, জৈব বালাইনাশক প্রয়োগ করে অম্লত্ব কমানো যায়। 

iii. সবুজ সার ব্যবহার: সবুজ সার প্রয়োগ করা হলে তা মাটিতে পচে জৈব সার উৎপন্ন হয়, যা মাটিতে নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম সরবরাহ করে। ফলে মাটির অম্লত্ব হ্রাস পায়। 

iv. অণুজীব সার ব্যবহার: অণুজীব সার হিসেবে রাইজোবিয়াম ব্যবহার করেও অম্লত্ব কমানো যায়। রাইজোবিয়াম বাতাসের নাইট্রোজেনকে মাটিতে সংবন্ধন করে। এগুলো মাটির জৈব পদার্থকে সংরক্ষণ করে এবং মাটির বাফার ক্ষমতা বাড়ায়। এই সার ব্যবহারে মাটিতে অম্লত্ব সৃষ্টিকারী সার বিশেষ করে ইউরিয়া প্রদানের প্রয়োজন পড়ে না। এতে মাটির অম্লত্ব হ্রাস পায়।

V. সেচের পানির মান উন্নয়ন: আয়রন ও অ্যালুমিনিয়াম মুক্ত পানি দ্বারা সেচ প্রদান করে মাটির অম্লত্ব রোধ করা যায়।

vi. সুষম সারের ব্যবহার: ফসলের জমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহার না করে বিভিন্ন জৈব ও অজৈব সারের সমন্বয়ে সুষম সার ব্যবহার করলে অম্লত্ব বাড়ার সম্ভাবনা থাকে না। 

vii. অম্লীয় সারের ব্যবহার কমানো: যেসব সার অম্লত্ব সৃষ্টি করে সেসব সারের ব্যবহার কমিয়ে বিকল্প সার ব্যবহার করতে হবে। যেমন- অ্যামোনিয়াম সালফেট সারের পরিবর্তে সোডিয়াম নাইট্রেট ব্যবহার করা যেতে পারে। 

viii. ঝিনুকের গুঁড়া ব্যবহার: ঝিনুকের গুঁড়ায় প্রচুর ক্যালসিয়াম কার্বনেট থাকে যা প্রয়োগে অম্লত্ব হ্রাস পায়।

পরিশেষে বলা যায়, যেহেতু মাটির অম্লমানের ওপর ফসলের ফলন নির্ভর করে। তাই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করে মাটি সংশোধন করে ফলন বৃদ্ধি করা যায়।

6 views

Related Questions