1 Answers
উদ্দীপকে মিঃ রিপনের জমির মাটির pH ৪.৫ এর নিচে নেমে যাওয়ায় তীব্র অম্লত্বের সৃষ্টি হয়েছে।
যে মাটিতে H' আয়নের ঘনমাত্রা ১ × ১০-৭ গ্রাম/লিটারের বেশি অর্থাৎ pH এর মান ৭ এর কম থাকে সে মাটিকে অম্লীয় মাটি বলে। মাটিতে নানা কারণে অম্লত্ব সৃষ্টি হতে পারে। যেমন-
i. উৎস বস্তুর বৈশিষ্ট্য: অম্লীয় শিলা থেকে মাটি উৎপন্ন হলে মাটি অম্লীয় হয়। যেমন- গ্রানাইট ও বায়োটাইট জাতীয় অম্লীয় শিলা থেকে উৎপন্ন মাটি অম্লীয় হয়।
ii. অম্লীয় সার প্রয়োগ: মাটিতে দীর্ঘদিন ইউরিয়া, ডিএপি ও অ্যামোনিয়া জাতীয় অম্লীয় সার প্রয়োগ করলে মাটি অম্লীয় হয়।
iii. বৃষ্টিপাত: প্রচুর বৃষ্টি হলে বৃষ্টির পানির সাথে ক্ষারীয় উপাদান যেমন- ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ইত্যাদি মাটির গভীরে চলে যায়। ফলে ক্ষারীয় উপাদানের অনুপস্থিতিতে মাটির উপরের স্তরে অম্লত্বের সৃষ্টি হয়।
iv. খনিজ দ্রব্যের প্রাধান্য: মাটিতে আয়রণ, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি খনিজ দ্রব্য বেশি পরিমাণে থাকলে মাটি অম্লীয় হয়।
V. জৈব পদার্থের বিয়োজন: জৈব পদার্থ পচে মাটিতে অম্লীয় উপাদান হাইড্রোজেন আয়ন উৎপন্ন হয় যা মাটিকে অম্লীয় করে।
vi. অণুজৈবিক কার্যাবলী: মাটিতে বিভিন্ন জীবাণুর শ্বসন প্রক্রিয়ায় কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি হয়ে মাটিস্থ পানির সাথে বিক্রিয়া করে কার্বনিক এসিড তৈরি হয়, যা মাটিকে অম্লীয় করে।
vii. সেচ : সেচের পানিতে অম্লীয় উপাদান বেশি থাকলে মাটি অম্লীয় হয়।
viii. এসিড বৃষ্টি: শিল্প প্রধান এলাকার বায়ুমন্ডলে সালফার ডাই- অক্সাইড, কার্বন ডাই-অক্সাইড ইত্যাদি গ্যাস বেশি থাকে। এসব গ্যাস বৃষ্টির পানির সাথে বিক্রিয়ায় এসিড তৈরি করে যা মাটিতে পড়ে মাটিকে অম্লীয় করে।
পরিশেষে বলা যায়, উল্লিখিত কারণে মাটিতে অম্লত্ব দেখা দিতে পারে। আর অম্লত্ব বেশি হলে তা মাটিতে বিষক্রিয়ার সৃষ্টি করে যা ফসলের জন্যে ক্ষতিকর।