1 Answers

উদ্দীপকের অহন নব্যপ্রস্তর যুগের বর্ণনা দিয়েছে।

প্লাইস্টোসিন যুগের শেষভাগ বা হলোসিন যুগের প্রারম্ভ থেকে খ্রিষ্টপূর্ব সাড়ে তিন হাজার বছর পর্যন্ত নব্যপ্রস্তর যুগের সময়কাল ব্যপ্ত ছিল। এ যুগের মানুষের প্রধান অবদান কৃষিকাজ ও পশুপালন শুরু করা। এ যুগের মানুষ প্রকৃতিকে সম্পূর্ণভাবে নয়, বরং কিছুটা আয়ত্তে এনে কৃষি কাজের মাধ্যমে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে শিখেছিল। মানব সভ্যতার বিকাশে কৃষির মতো আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হচ্ছে পশুপালন। নব্যপ্রস্তর যুগের মানুষ বন্য পশুকে পোষ মানানোর মধ্য দিয়ে প্রকৃতির ওপর আধিপত্য ও কর্তৃত্ব শুরু করেছিল। নব্যপ্রস্তর যুগেই স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্থনীতির বিকাশ ঘটেছিল। এ যুগের এক একটি গ্রাম ছিল এক একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ পৃথক ইউনিটের মতো। নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর জন্য গ্রামবাসীদের অন্য গ্রামের ওপর নির্ভর করতে হতো না। নিজেদের প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি তারা নিজেরাই উৎপাদন করতে পারত। এছাড়া বাসস্থানের নিশ্চয়তা, খাদ্যের নিয়মিত যোগান, বিনিময় ব্যবস্থার প্রবর্তন প্রভৃতির ফলে এ যুগের মানুষ যাযাবর জীবন ত্যাগ করে স্থায়ী বসবাসের জীবন শুরু করেছিল। আর স্থায়ী বসবাসের জীবন শুরু হওয়ায় সমাজে পারিবারিক কাঠামো গড়ে উঠেছিল।

উদ্দীপকের অহন তার ভাই সিফাতকে বলে, পৃথিবীতে এমন একটি যুগ চলে গিয়েছে, যে যুগে প্রত্যেকটি গ্রাম সংগঠন ছিল স্বয়ংসম্পূর্ণ। জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় সব খাদ্য ও উপকরণ গ্রামের মানুষজন নিজেরাই উৎপাদন করতো। এ যুগের মানুষ কৃষির আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে স্থায়ী বসতি স্থাপন করে এবং প্রকৃতিকে বশে আনতে সক্ষম হয়।

উপরে আলোচিত নব্যপ্রস্তর যুগের বৈশিষ্ট্য এবং উদ্দীপকের অহনের বক্তব্য লক্ষ করলে বোঝা যায় যে, অহন নব্যপ্রস্তর যুগের বর্ণনা দিয়েছে।

4 views

Related Questions