1 Answers
ডা. ফয়সাল মনে করেন, আধুনিক সুবিধা সম্বলিত স্বাস্থ্যসেবার সফলতার জন্য প্রশিক্ষণ ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম প্রয়োজন।
তার এ ভাবনার সাথে আমি একমত। বাংলাদেশে বস্তুগত সংস্কৃতি যে হারে পরিবর্তিত হচ্ছে, সে হারে অবস্তুগত সংস্কৃতি পরিবর্তিত হচ্ছে না।ফলে সাংস্কৃতিক ব্যবধান তৈরি হচ্ছে। যেমন- ডা. ফয়সালের কর্মরত ক্লিনিক এবং এলাকায়ও বস্তুগত ও অবস্তুগত সংস্কৃতির ব্যবধান তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি 'থাকলেও তা ব্যবহার করার মতো প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ লোক নেই বললেই চলে। আবার এলাকায় পর্যাপ্ত হাসপাতাল বা ক্লিনিক থাকলেও এলাকার মানুষ আধুনিক চিকিৎসা গ্রহণে আগ্রহী নয়। তারা এখনো ঝাড়- ফুঁক, কবিরাজ, ওঝা এবং তাবিজ-কবজের মাধ্যমে আরোগ্য লাভের চেষ্টা করে। অর্থাৎ, এখানে প্রযুক্তিগত উন্নতি ঘটলেও মানসিক ও বুদ্ধিভিত্তিক উন্নতি ঘটেনি। এই সাংস্কৃতিক ব্যবধান নিঃসন্দেহে সমাজকে অনেকখানি পিছিয়ে দেয়। এই পিছিয়ে পড়া থেকে সমাজকে রক্ষা করতে হলে সংস্কৃতির উভয় ধরনের মধ্যে ভারসাম্য সৃষ্টি করতে হবে। আর এই ভারসাম্য সৃষ্টি তখনই হবে যখন অবস্তুগত সংস্কৃতি প্রশিক্ষণ ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে উন্নত হবে এবং বস্তুগত সংস্কৃতির উন্নতির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারবে। আর তাই উদ্দীপকে আলোচিত এলাকার স্বাস্থ্য পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে হলে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি জনগণের সচেতনতাও বৃদ্ধি করতে হবে; যা কেবল প্রশিক্ষণ ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সম্ভব।
পরিশেষে বলা যায়, শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অবস্তুগত সংস্কৃতির উন্নতি ঘটিয়ে সমাজে বিদ্যমান সাংস্কৃতিক ব্যবধান কমিয়ে আনা সম্ভব। আর এ কারণেই আমি ডা. ফয়সালের ভাবনার সাথে একমত পোষণ করি।