1 Answers
উদ্দীপকের উক্ত প্রত্যয় অর্থাৎ সামাজিক স্তরবিন্যাস হলো মানুষে মানুষে ভেদাভেদের প্রতিচ্ছবি- উক্তিটি যথার্থ।
সমাজে অসমতা তৈরি হয় ক্ষমতা, মর্যাদা ও বিত্তের ভিত্তিতে। এ কারণে সমাজের মানুষের মধ্যে উঁচু-নিচু ভেদাভেদ দেখা যায়। এই অসমতার কাঠামোগত রূপই হলো স্তরবিন্যাস। স্তরবিন্যাসের মধ্য দিয়েই প্রজন্মের পর প্রজন্ম মানুষের মধ্যে ক্রমোচ্চ অনুসারে স্তরের সৃষ্টি হয়। আদিম থেকে বর্তমান সমাজ পর্যন্ত সব সমাজেই সামাজিক স্তরবিন্যাসের বিভিন্ন রূপ দেখা যায়। সামাজিক স্তরবিন্যাস ও অসমতা পাশাপাশি চলে। উভয়ের মধ্যে কার্যকারণ সম্পর্ক বিদ্যমান। একটি হচ্ছে কারণ এবং অপরটি হচ্ছে প্রভাব। অসমতার কারণে দেখা যায় বিভিন্ন শ্রেণি, গোত্র ও বর্ণ। আর এভাবেই সমাজে বহুধাবিভক্ত শ্রেণি পেশার মানুষের প্রতিক্রিয়ায় সমাজের বিবর্তন হতে থাকে। সামাজিক স্তরবিন্যাস ও অসমতা সমাজে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা তৈরি করে। আবার পারস্পরিক প্রয়োজন মেটাতে সমাজে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার উদ্ভব হয়। তাই রলা হয়, সামাজিক স্তরবিন্যাস হলো সামাজিক এক বিশেষ প্রক্রিয়া, যার মধ্যদিয়ে অসমতা প্রজন্মের পর প্রজন্মে সমাজের মানুষের মধ্যে ক্রমোচ্চশীলতার স্তর সৃষ্টি করে যায়।
সুতরাং বলা যায় যে, সামাজিক স্তরবিন্যাসই মানুষে মানুষে ভেদাভেদের বাস্তব চিত্রের প্রতিচ্ছবি-উক্তিটি যথার্থ ও সঠিক।