1 Answers
পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বলা যায়, জগলুর মনোভাব জেন্ডার বৈষম্যকে নির্দেশ করে।
শারীরিক বৈশিষ্ট্যের কারণে নারী বা পুরুষ হিসেবে আমাদের সামাজিক পরিচয় যে ভিন্ন সেটি বোঝানোর জন্যই জেন্ডার শব্দটি ব্যবহৃত হয়। জেন্ডার হচ্ছে নারী ও পুরুষের প্রভেদ। এ প্রভেদ সৃষ্টি করেছে মানুষ। মানুষের কাজকর্মের ক্ষেত্রে মানুষের জৈবিক কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। এ সীমাবদ্ধতা বা পার্থক্য সৃষ্টি করেছে সমাজ। অর্থাৎ সন্তানধারণ হচ্ছে নারীর সেক্স ভূমিকা আর রান্নাবান্না করা, সন্তান লালন-পালন করা এগুলো নারীর জেন্ডার ভূমিকা। জেন্ডার ধারণায় সামাজিকভাবে নারী ও পুরুষের মধ্যে পার্থক্য করা হয়, যা সম্পূর্ণভাবে মানুষের তৈরি। এ ধারণায় নারীকে বিভিন্ন সুযোগ- সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়। ঘরের বাইরে নারীর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রেও বাধা সৃষ্টি করা হয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত জগলুর ক্ষেত্রেও দেখা যায়, সে তার ছেলের লেখাপড়ার ব্যাপারে খুব সচেতন হলেও মেয়ের লেখাপড়ার প্রতি মোটেও যত্নশীল নয়। সে মনে করে, লেখাপড়া করা ছেলেদের কাজ। আর মেয়েদের কাজ হলো রান্নাবান্না ও ঘর সংসার করা। এ কারণে সে তার মেয়েকে লেখাপড়া না শিখিয়ে তাড়াতাড়ি বিয়ে দেওয়ার জন্য উদগ্রীব। জগলুর এরূপ মনোভাবে জেন্ডার বৈষম্যের বিষয়টিই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।