1 Answers
বিধান সাহেবের জীবন বিসর্জনকে আমি ডুর্খেইম বর্ণিত পরার্থমূলক আত্মহত্যার সাথে তুলনা করব।
ব্যক্তি যখন পরের জন্য আত্মহত্যা করে তখন তাকে পরার্থমূলক আত্মহত্যা বলে। এ ধরনের আত্মহত্যা সাধারণত গোষ্ঠীর কারণে বা গোষ্ঠীর স্বার্থে হয়ে থাকে। সমাজের প্রচলিত নিয়ম তথা সামাজিক স্বার্থও অনেক ক্ষেত্রে পরার্থমূলক আত্মহত্যার কারণ হয়ে থাকে। দেশপ্রেমের স্বার্থে যুদ্ধে আত্মবিসর্জন, আত্মগ্লানিতে আত্মহত্যা, স্বেচ্ছায় সহমরণ ইত্যাদিকে ডুর্খেইম পরার্থমূলক আত্মহত্যা বলেছেন। যেসব সমাজে ব্যক্তিস্বার্থের চেয়ে সামাজিক স্বার্থ প্রবল আকার ধারণ করে সেসব সমাজে এ ধরনের আত্মহত্যা অধিক হারে সংঘটিত হয়।
দৃশ্যপট-৩-এ আমরা দেখতে পাই, বিধান সাহেব মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে দেশমাতৃকাকে রক্ষা করতে গিয়ে নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন। তার এ আত্মহত্যা দেশের মানুষের স্বার্থে হয়েছে, যা এমিল ডুর্খেইমের বর্ণিত পরার্থমূলক আত্মহত্যার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
সুতরাং বলা যায়, বিধান সাহেবের জীবন বিসর্জনকে ডুর্খেইম বর্ণিত পরার্থমূলক আত্মহত্যার সাথে তুলনা করা যায়।