1 Answers
ইসলামি শরিয়তের তৃতীয় উৎস ইজমাকে অস্বীকার করে আশিক সাহেব যে মন্তব্য করেছেন তা কুফরের শামিল। ইজমা ইসলামি শরিয়তের তৃতীয় উৎস হিসেবে কুরআন ও হাদিস দ্বারা সমর্থিত। এজন্য ইজমা অস্বীকার করার অর্থ কুরআন- হাদিসের হুকুমকেই অস্বীকার করা। যা কুফরের সাথে তুলনীয়। অবশ্য বিষয়টি নিয়ে অনেকে ভিন্ন মতও দিয়েছেন।
উদ্দীপকের আশিক সাহেব মন্তব্য করেছেন যে, কুরআন ও হাদিসে যা সরাসরি নেই সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন নেই। অর্থাৎ তিনি ইজমাকে অস্বীকার করেছেন। অথচ প্রসিদ্ধ চার মাযহাবের ইমামই স্বীকার করেছেন যে, ইজমা একটি শক্তিশালী সন্দেহমুক্ত আমলযোগ্য দলিল। তাই ইজমা অস্বীকার করা উচিত নয়। বুখারা ও বলখের আলিমগণ বলেছেন, ইজমায় অস্বীকারকারী কাফির বলে গণ্য হবে। উলামায়ে আহনাফ, জমহুর ফোকাহা ও উমুলবিদদের মতেও ইজমা অস্বীকার করা কাফির। আবার ইমাম বায়হাকিও ইজমাকে কুরআন মাজিদ ও হাদিসের মতোই স্বীকার করে নিয়ে এর অস্বীকারকারীকে কাফির বলেছেন। তবে ইবনুল আরাবি ইজমা অস্বীকারকারীকে ফাসিক বলেছেন। আমরা অধিকাংশের মতামত বিবেচনায় নিয়ে ইজমা অস্বীকার করায় আশিক সাহেবকে কুফরে লিপ্ত বলতে পারি।
ওপরের আলোচনা থেকে দেখা যাচ্ছে, ইজমা অস্বীকারকারী কাফির না ফাসিক তা নিয়ে মতভেদ থাকলেও এটি যে অপরাধ তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এজন্য আশিক সাহেবের মন্তব্যটি গ্রহণযোগ্য নয়।