মুফতি কবির সাহেবের অনুসৃত পদ্ধতি ইসলামি শরিয়তের কোন উৎস? এর প্রকারভেদ বিশ্লেষণ করো। (প্রয়োগ)
1 Answers
মুফতি কবির সাহেবের অনুসৃত পদ্ধতি ইসলামি শরিয়তের তৃতীয় উৎস তথা ইজমা। ইজমার ক্ষেত্রে ইজমাকারীদের সবার ঐকমত্য প্রয়োজন। একজনও যদি বিরোধিতা করেন, তবে ইজমা সংঘটিত হবে না। অবশ্য কেউ যদি মৌন থাকেন এবং মতের বিপক্ষে অবস্থান না নেন, তাহলেও ইজমা হবে। উদ্দীপকে এরূপ ইজমাই সংঘটিত হয়েছে।
ইজমাকে প্রধানত দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। প্রথমটি হলো ইজমাউস সাহাবা বা সাহাবিদের ইজমা এবং দ্বিতীয়টি হলো ইজমাউস উম্মাত বা উম্মতে মুহাম্মদির ইজমা। সাহাবিদের ইজমা বলতে অধিকাংশ সাহাবি বা বিশিষ্ট সাহাবি অথবা মুজতাহিদ পর্যায়ের সাহাবিদের ইজমাকে বোঝায়। সাহাবিদের ইজমা শরিয়তের দলিল এবং এ বিষয়ে সবাই একমত। অন্যদিকে ইজমাউস উম্মাত বলতে বোঝায় বিশেষ কোনো যুগে শরিয়তের কোনো ব্যাপারে অধিকাংশ মুসলমান একমত হলে তা শরিয়তের দলিল হিসেবে গণ্য হবে। অনেকে এক্ষেত্রে কেবল মুজতাহিদদের ইজমাকে গ্রহণযোগ্য বলছেন এবং সাধারণ মুসলিমদের ইজমাকে গ্রহণ করেননি। আবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে ইজমাকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। উম্মতে মুহাম্মদির সমকালীন সব মুজতাহিদ কোনো ব্যাপারে মৌখিক বক্তব্যের মাধ্যমে ঐকমত্য হলে, তাকে ইজমায় কাওলি বা বিবৃতিমূলক ঐকমত্য বলে। আবার ঐকমত্য হিসেবে সবাই কোনো কাজ শুরু করলে, তাকে ইজমায়ে ফিলি বা কর্মমূলক ঐকমত্য বলে। ইজমাউত তাকরিরি বা মৌন সম্মতিতে ঐকমত্য হলো- একদল মুজতাহিদ কোনো বক্তব্য-বিবৃতি পেশ করবেন অথবা কোনো কার্য করবেন এবং অন্যরা নীরবতা অবলম্বন করবেন। উদ্দীপকে এরূপ ইজমাই সংঘটিত হয়েছে।