1 Answers
উদ্দীপকের রহিম ও করিম পাশাপাশি দুটি পুকুরে গলদা চিংড়ির চাষ করেন। উৎপাদনের পর দেখা যায়, রহিমের পুকুরে হেক্টর প্রতি ৪০০ কেজি ও করিমের পুকুরে হেক্টর প্রতি ৫ টন গলদা চিংড়ির উৎপাদন হয়েছে।
করিমের পুকুরে চিংড়ির উৎপাদন বেশি কিন্তু রহিমের পুকুরে চিংড়ি উৎপাদন কম হয়েছে। কারণ, রহিম পুকুরে ঠিকমতো চুন প্রয়োগ করেননি কিন্তু করিম পরিমাণমতো চুন প্রয়োগ করেছেন। চুন প্রয়োগের কারণে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। প্রতি শতাংশে ১.০-১.৫ কেজি চুন গুঁড়ো করে পানিতে গুলিয়ে পুকুরের তলদেশে ভালোভাবে ছিটিয়ে দিতে হয়। রহিম পুকুরে পরিমাণমতো সার প্রয়োগ করেননি। অন্যদিকে করিম তার পুকুরে চুন প্রয়োগের ৫-৭ দিন পরে পরিমাণমতো অর্থাৎ হেক্টর প্রতি ৩০০ কেজি গোবর, ২৫ কেজি ইউরিয়া ও ১২ কেজি টিএসপি সার প্রয়োগ করেন। ফলে প্রাকৃতিক খাদ্যের উৎপাদন বেড়ে চিংড়ির ফলন ভালো হয়।
চিংড়ি চাষের পুকুরে পরিমাণমতো সম্পূরক খাদ্য প্রয়োগ করা প্রয়োজন যা রহিম সরবরাহ করেননি। অন্যদিকে, করিম পরিমাণমতো ঝিনুক, শামুকের মাংস, ছোট মাছ, মাছের ডিম, কেঁচো ইত্যাদি খাদ্য পুকুরে মজুদকৃত চিংড়িকে প্রতিদিন ২ বার করে এদের দেহের মোট ওজনের ৩-৫% হারে নিয়মিত সরবরাহ করেন। তাছাড়া করিম তার পুকুরের পানির গুণাগুণ, চিংড়ির রোগবালাই ইত্যাদি সম্পর্কে খেয়াল রেখেছেন। এগুলোর কিছুই রহিম করেননি। এ কারণে রহিমের চেয়ে করিমের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।
উপরিউক্ত আলোচনা হতে প্রতীয়মান হয়, চুন প্রয়োগ, সার প্রয়োগ, খাদ্য প্রয়োগ ও স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের তারতম্যের কারণেই রহিম ও করিমের পুকুরে চিংড়ি উৎপাদনে পার্থক্যের সৃষ্টি হয়েছে।