অধ্যাপক আনসারীর বক্তব্যের সাথে তুমি কি একমত? তোমার মতের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করো। (উচ্চতর দক্ষতা)
1 Answers
অপরাধীদের শাস্তি দিয়ে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের ইঙ্গিত থাকায় অধ্যাপক আনসারীর বক্তব্যের সাথে আমি একমত। ইসলাম শান্তি ও কল্যাণের ধর্ম। এখানে বিশৃঙ্খলা, অরাজকতা, পাপাচারের কোনো স্থান নেই। যারা এসব জঘন্য কাজ করে সমাজকে কলুষিত, বিপর্যস্ত ও বিশৃঙ্খল করে তোলে ইসলাম তাদের জন্য কঠোর শাস্তির ঘোষণা দিয়েছে। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে- 'শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাওয়ার পর তোমরা জমিনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করো না। আল্লাহ সীমা লঙ্ঘনকারী ও বিপর্যয় সৃষ্টিকারীকে পছন্দ করেন না' (সূরা আরাফ-৫৬)। আল্লাহর এ নির্দেশ অমান্য করে যারা সমাজে ফাসাদ সৃষ্টি করে তাদেরকে চিহ্নিত করে অবশ্যই শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত। অধ্যাপক আনসারীর বক্তব্য এ কথারই সমর্থন দেয়।
অধ্যাপক আনসারী মনে করেন, সমাজে কতিপয় লোক ভালো মানুষের মুখোশ পড়ে অন্যায় কাজের মদদ দিয়ে যাচ্ছে। তাদের প্ররোচনায় সন্ত্রাসীরা নানা অপকর্ম করে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। তার এ ধারণা সঠিক। কারণ আমাদের সমাজে এ ধরনের দ্বিমুখী নীতিবিশিষ্ট লোকের অভাব নেই। এরা নিজেদের স্বার্থে বাহ্যিকভাবে ভালো মানুষ সেজে থাকে, কিন্তু গোপনে নানা অন্যায় কাজের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত রাখে। কুরআনের ভাষায় এরা মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। এদের দ্বিমুখী নীতির কারণে সমাজে বিপর্যয় সৃষ্টি হয়। তাই তাদের বৈশিষ্ট্য দেখে এদের থেকে সাবধান থাকাই ইমানদারদের কর্তব্য। তাছাড়া তাদেরকে শান্তির আওতায় আনাও জরুরি।
উপরে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এটা প্রমাণিত যে, প্রতিটি সমাজেই মুনাফিকের চরিত্রসম্পন্ন কতিপয় লোক রয়েছে। ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে তাদেরকে চিহ্নিত করে শাস্তির ব্যবস্থা করা একজন ইমানদারের কর্তব্য। অধ্যাপক আনসারীর বক্তব্যে মূলত এ কথারই সমর্থন পাওয়া যায়।