1 Answers
উদ্দীপকে উল্লিখিত আয়াতে ইসলামি সমাজব্যবস্থার অন্যতম দিক জাকাতের মাসারিফ বা ব্যয়ের খাতটি প্রকাশ পেয়েছে। জাকাত ইসলামের মৌলিক যে পাঁচটি স্তম্ভ রয়েছে তার অন্যতম। এটি একটি আর্থিক ইবাদত। ইসলামি সমাজ বিনির্মাণে অর্থাৎ ধনী ও গরিবের মধ্যে বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে জাকাত অন্যতম হাতিয়ার। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পৃথিবীতে দুই শ্রেণির মানুষ তৈরি করেছেন। তার এক শ্রেণি হলো ধনী আর এক শ্রেণি গরিব। ধনীদের ধন বা সম্পদ দিয়ে আল্লাহ পরীক্ষা করেন তারা ধন-সম্পদের মায়া ত্যাগ করে তার সম্পদ থেকে একটি নির্দিষ্ট অংশ গরিবকে প্রদান করে কি না। আর গরিবের হয় ইমানি পরীক্ষা। সে দুঃখ-কষ্ট, অভাব সহ্য করে আল্লাহর সাহায্যের জন্য ধৈর্যধারণ করে কি না।
উল্লিখিত আয়াতে ধনীদের সম্পদ যা আল্লাহ প্রদত্ত তা থেকে গরিব ও নিঃস্ব, অসহায় ব্যক্তিকে দান করার জন্য বলা হয়েছে। ইসলামি সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান থাকলে সমাজের গরিব ব্যক্তি ধনী ব্যক্তিদের নিকট এসে তাদের অধিকার অর্থাৎ জাকাতের টাকা চাইতো। কেননা ধনী তার সম্পদ থেকে নির্দিষ্ট হারে জাকাত দিবে, এতে তার সম্পদ পবিত্র হবে এবং বৃদ্ধি পাবে। অপর দিকে গরিব তার সমস্যা দূর করতে পারবে। এক সময় সাহায্যের জন্য আর হাত বাড়াতে হবে না। খলিফা হযরত ওমর ইবনে আব্দুল আজীজ (র) এর সময় জাকাত ব্যবস্থা ঠিকমতো কায়েম থাকার দরুন জাকাত নেওয়ার মতো লোক খুঁজে পাওয়া যেত না। কিন্তু বর্তমান সময় রাষ্ট্রীয়ভাবে এই নির্দেশনা না থাকার দরুন গরিব তার অধিকার বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে গরিব আরো গরিব হচ্ছে আর ধনী অন্যায়ভাবে অর্থ উপার্জন করে রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে। যার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ।