1 Answers
না, উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশে গৃহীত অর্থনৈতিক সংস্কারের সাথে ইসলামি অর্থব্যবস্থা সংগতিপূর্ণ নয়। ইসলামি অর্থব্যবস্থা মানবকল্যাণকামী ও প্রগতিশীল একটি আদর্শ অর্থব্যবস্থা। এর মাধ্যমে সমাজ থেকে যাবতীয় দুর্নীতি ও বৈষম্য দূর করে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর, সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক আদর্শ সমাজ প্রতিষ্ঠা করা যায়। এ অর্থব্যবস্থায় সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা হয়। এতে জোর করে অন্যের সম্পদ ভোগ-দখল করা সম্পূর্ণ নিষেধ। এ অর্থব্যবস্থায় সম্পদের প্রকৃত মালিক আল্লাহ তায়ালা। মানুষ কেবল তার প্রতিনিধি হিসেবে নিজেদের প্রয়োজনে এগুলো ব্যবহার করবে। এ ব্যবস্থায় ধনীদের নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে তার জাকাত দিতে হবে। এতে সম্পদের অপচয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আবার কৃপণতাকে নিষেধ করা হয়েছে। এতে প্রত্যেকের সামর্থ ও প্রয়োজন অনুযায়ী কেবল শরিয়ত নির্দেশিত হালাল পথে আয়-ব্যয়ের বিধান রয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশের বহু মানুষ ভাসমান জীবনযাপন করে এবং অনাহারে-অর্ধাহারে থাকে। মানুষ তাদের পেশা বাদ দিয়ে অন্য পেশা গ্রহণ করে। রাতে অর্থ-সম্পদ নিয়ে ছিনতাইয়ের কবলে পড়ে। এসব সমস্যার সমাধানে সেখানকার সরকার ভূমি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অন্যান্য সম্পদ রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনে। এটি সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থাকে নির্দেশ করে, যা ইসলামি অর্থব্যবস্থার সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। কেননা ইসলামি অর্থব্যবস্থায় সম্পদের ব্যক্তিমালিকানা স্বীকৃত। আবার ঐ দেশের সরকার সব নাগরিককে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত করে মৌলিক চাহিদা পূরণের ব্যবস্থা করে এবং ব্যক্তিপর্যায়ে সুদ নিষিদ্ধ করে। এটিও ইসলামি অর্থব্যবস্থার সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। কেননা ইসলামে শুধু ব্যক্তি পর্যায়ে নয় বরং যেকোনো পর্যায়ে সুদ নিষিদ্ধ। তাই উল্লিখিত দেশের সংকট নিরসনে সরকারের গৃহীত অর্থনৈতিক সংস্কারের সাথে ইসলামি অর্থব্যবস্থা সংগতিপূর্ণ নয়। তবে সেখানে পুরোপুরি ইসলামি অর্থব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে পারলে উক্ত সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।